এক পুরস্কার, অথচ বিজয়ী তিন জন! ব্যালন ডি’অর (Ballon d’Or) ঘিরে এমনই নজিরবিহীন বিভ্রাট দেখা গেল সোমবার রাতে। ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারের অনুষ্ঠান শুরুর আগেই আয়োজকদের সরকারি ওয়েবসাইটে হ্যারি কেন (Harry Kane), কিলিয়ান এমবাপে এবং লামিনে ইয়ামালকে বিজয়ী ঘোষণা করে তিনটি পৃথক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে অনুষ্ঠান শুরুর প্রায় আড়াই ঘণ্টা আগে এই ঘটনা সামনে আসতেই ফুটবল দুনিয়ায় শোরগোল পড়ে যায়। সত্যিই কি বিজয়ীর নাম ফাঁস হয়ে গেল, নাকি নিছক প্রযুক্তিগত ভুল? প্রশ্ন উঠতে শুরু করে নানা মহলে।
তিনটি প্রতিবেদনই পরে ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু তত ক্ষণে সেগুলির স্ক্রিনশট সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়ে যায় জল্পনা। প্রতিবেদনগুলির বিষয়বস্তুও ছিল যথেষ্ট চমকপ্রদ। কেনকে (Harry Kane) বিজয়ী ঘোষণা করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে গত মরসুমে তাঁর গোলের কথা তুলে ধরা হয়। ইয়ামালকে নিয়ে লেখা হয়, তিনি নাকি ব্যালন ডি’অরের (Ballon d’Or) ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ বিজয়ী হয়েছেন। অন্য দিকে, এমবাপেকে বিজয়ী ঘোষণা করে তাঁর গোল করার ধারাবাহিকতা এবং রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে দুরন্ত পারফরম্যান্সের প্রশংসা করা হয়।
একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এমবাপের গোলের ধারাবাহিকতাই তাঁকে প্রথম ব্যালন ডি’অর (Ballon d’Or) এনে দিয়েছে। অন্যটিতে বলা হয়, ১৯৫৬ সালে শুরু হওয়া এই পুরস্কারের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ বিজয়ী হয়েছেন ইয়ামাল।
একই পুরস্কারের জন্য তিন জনকে বিজয়ী ঘোষণা করায় বিভ্রান্তি আরও বাড়ে। তা হলে কি অনুষ্ঠান শুরুর আগেই বিজয়ীর নাম ফাঁস হয়ে গিয়েছিল? নাকি সম্ভাব্য তিন বিজয়ীকে মাথায় রেখে আগে থেকেই প্রতিবেদন লিখে রাখা হয়েছিল? উত্তর খুঁজতে শুরু করেন ফুটবলপ্রেমীরা।
ঘটনার সময়টাই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের (Ballon d’Or) ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছিল ২৮ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ, অনুষ্ঠান আয়োজনের আগেই প্রতিবেদন তৈরি করে রাখার যথেষ্ট সময় ছিল উদ্যোক্তাদের হাতে। কিন্তু তিন জনকে আলাদা আলাদা ভাবে বিজয়ী ঘোষণা করে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
ডেইলি মেল-এর সাংবাদিক নাথান সল্টের দাবি অনুযায়ী, এই ঘটনায় আয়োজকেরা বিস্মিত হন। কী ভাবে প্রতিবেদনগুলি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হল, তা খতিয়ে দেখার উদ্যোগও নেওয়া হয়।
ব্যালন ডি’অরের (Ballon d’Or) বিজয়ী নির্বাচন করেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ সাংবাদিকদের একটি জুরি। ফুটবলারদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, দলের সাফল্য এবং মাঠে তাঁদের আচরণের মতো বিষয় বিবেচনা করে ভোট দেওয়া হয়।
সেই ভোটের ফল আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণার আগেই তিন সম্ভাব্য বিজয়ীর নামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে ওয়েবসাইটের ব্যবস্থাপনা নিয়ে। প্রতিবেদনগুলি দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হলেও ততক্ষণে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে।
দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/uyo957E6CjI?si=gvn0NYLWI4RvdORB” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>