জামশেদপুর এফসি-কে বাঁচাতে সুনীল ছেত্রীর পর আর্জি বাইচুং ভুটিয়ারও, অনিশ্চয়তায় ফুটবলারদের ভবিষ্যৎ

BAICHUNG BHUTIA

ভারতীয় ফুটবলের জন্য এ শুধু একটি ক্লাবের বিদায় নয়, বরং এক বড় ধাক্কা। ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামশেদপুর এফসি। এই ঘোষণার পরেই টাটা গোষ্ঠীর কাছে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানালেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়া। একই সঙ্গে ক্লাবের ফুটবলাররাও এক আবেগপূর্ণ বার্তায় টাটা গোষ্ঠীর কাছে জামশেদপুর এফসিকে বাঁচিয়ে রাখার আর্জি জানিয়েছেন।

বাইচুংয়ের মতে, টাটা গোষ্ঠীর মতো একটি প্রতিষ্ঠানের ভারতীয় ফুটবল থেকে সরে যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, ‘জামশেদপুর এফসির মতো একটি ক্লাবের সরে যাওয়া শুধু একটি দলের ক্ষতি নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য ফুটবলার, কোচ, কর্মী এবং সমর্থকের ভবিষ্যৎ’।

এক সর্বভারতীয় দৈনিককে তিনি আরও বলেন, ‘টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমির ঐতিহ্য এবং জামশেদপুর এফসি বহু তরুণ ফুটবলারের স্বপ্ন গড়ে তুলেছে। আমি টাটা গোষ্ঠীর কাছে হাতজোড় করে আবেদন করছি, দয়া করে সিদ্ধান্তটি আর একবার ভেবে দেখুন। ভারতীয় ফুটবলের স্বার্থে এই ক্লাবটিকে বাঁচিয়ে রাখুন’।


জামশেদপুর এফসি ২০২৬-২৭ আইএসএল মরসুমে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। নতুন ক্লাব-পরিচালিত মডেলে খেলতে প্রয়োজনীয় ৫৫ লক্ষ টাকার পার্টিসিপেশন ফি জমা দেয়নি তারা। নির্ধারিত সময়সীমা বাড়ানো হলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় টাটা স্টিল পরিচালিত এই ক্লাব।

ক্লাবের এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেতে পারেন ফুটবলার এবং সাপোর্ট স্টাফ। হঠাৎ করেই তাঁদের অনেকেই ক্লাবহীন হয়ে পড়বেন। বাইচুংয়ের মতে, ভারতীয় ফুটবলের বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন একটি প্রতিষ্ঠিত ক্লাবের বিদায় ভবিষ্যতের বিনিয়োগকারীদের কাছেও নেতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে।

শুধু বাইচুং নন, ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার সুনীল ছেত্রীও টাটা গোষ্ঠীর কাছে সিদ্ধান্ত বদলের আবেদন জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘একটি দল কমে গেলে লিগ চলবে। কিন্তু ভারতীয় ফুটবলের শীর্ষ স্তরে টাটা গোষ্ঠীর না থাকাটা এমন এক বিপর্যয়, যা খুবই গুরুতর। আমি শুধু অনুরোধ করতে পারি, ব্যবসার হিসাবের চেয়ে হৃদয়ের কথা শুনে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করুন। ভারতীয় ফুটবলে এখন এটিই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন’।

ক্লাবের বর্তমান ফুটবলাররাও এই খবরে বেশ আতঙ্কিত। বর্তমানে ডুরান্ড কাপে খেলছে জামশেদপুর এফসি। ২৬ জুলাই শ্রীলঙ্কা আর্মিকে ৫-০ গোলে হারিয়ে অভিযান শুরু করেছিল তারা। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই প্রতিযোগিতাই সিনিয়র দলের শেষ টুর্নামেন্ট হতে চলেছে।

বর্তমানে ডুরান্ড কাপে খেলছে জামশেদপুর এফসি। ২৬ জুলাই শ্রীলঙ্কা আর্মিকে ৫-০-য় হারিয়ে অভিযান শুরু করেছিল তারা। মঙ্গলবার বিকেলে রাঁচিতে তারা দ্বিতীয় ম্যাচে নামবে এসসি দিল্লির বিরুদ্ধে। যা পরিস্থিতি, তাতে এই প্রতিযোগিতাই সিনিয়র দলের শেষ টুর্নামেন্ট হতে চলেছে।

সমাজমাধ্যমে সতীর্থদের সঙ্গে পোস্ট করা একটি ভিডিও বার্তায় দলের ডিফেন্ডার প্রতীক চৌধুরী বলেন, ‘গতকাল যখন শুনলাম যে ক্লাব বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং ডুরান্ড কাপের পর আর আমরা খেলতে পারব না, তখন থেকেই আমরা প্রবল ধাক্কা খেয়েছি। খবরটা শোনার পর আমরা সবাই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলাম। স্বাভাবিকভাবেই রাগ হয়েছিল, ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এখনও সেই উদ্বেগ কাটেনি’।

প্রতীক আরও বলেন, ‘একজন সিনিয়র ফুটবলার হিসেবে আমি হাতজোড় করে টাটা গোষ্ঠীর শীর্ষ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাচ্ছি। টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমির এই ঐতিহ্য, তরুণ ফুটবলারদের গড়ে তোলার এই পরিকাঠামো এবং জামশেদপুর এফসি-র মতো একটি মঞ্চ, যা দেশের সর্বোচ্চ স্তরের লিগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, সেটিকে দয়া করে বাঁচিয়ে রাখুন। অনুগ্রহ করে এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখুন। আমাদের পুরো দলের পক্ষ থেকে টাটা গোষ্ঠীর শীর্ষ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করছি, এই উত্তরাধিকার যেন অব্যাহত থাকে’। ক্লাব কর্তৃপক্ষ অবশ্য তাদের সিদ্ধান্তে অটলই রয়েছে।

২০১৭-য় প্রতিষ্ঠিত জামশেদপুর এফসি ২০২১-২২ মরসুমে আইএসএলের লিগ শিল্ড জিতেছিল। গত মরসুমে তারা সুপার কাপের ফাইনালেও ওঠে। তাই ক্লাবটির সম্ভাব্য বিদায় ভারতীয় ফুটবলের পক্ষে এক বড় ধাক্কা হতে চলেছে বলেই মনে করছেন প্রাক্তন ও বর্তমান ফুটবলাররা।