বিশ্ব ব্যাডমিন্টনে চমক, বিশ্বের এক নম্বরকে হারিয়ে অঘটন আয়ুষের, ঝোড়ো জয় দিয়ে শুরু সিন্ধুর

Ayush-Sindhu Photo-SNS

কয়েক মাস আগে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে তাঁর বিরুদ্ধে মাত্র ৪০ মিনিটে হারতে হয়েছিল। সেই চিনের শি ইউকির সামনেই এ বার তৈরি ছিল বদলার মঞ্চ। আর দেশীয় সমর্থখদের সামনে বিশ্বের এক নম্বর এবং বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে হারিয়ে ব্যাডমিন্টন বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে বিরাট অঘটন ঘটালেন ভারতের তরুণ শাটলার আয়ুষ শেট্টি।

সোমবার নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়ামে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ৬৪ জনের রাউন্ডে শি ইউকিকে ২১-১৪, ১৩-২১, ২১-১৯ ফলে হারালেন আয়ুষ। টানা তিন গেমের এই লড়াইয়ে প্রথমে পিছিয়ে গিয়েও দ্বিতীয় গেমে ম্যাচে ফিরেছিলেন চিনা তারকা। কিন্তু শেষ গেমে চাপের মুখে স্নায়ুর দারুণ নিয়ন্ত্রণ দেখিয়ে জীবনের অন্যতম বড় জয় তুলে নিলেন ভারতীয় তরুণ।

অন্যদিকে ঝোড়ো জয় দিয়ে বিশ্ব ব্যাডমিন্টন অভিযান শুরু করলেন ভারতের ব্যাডমিন্টন তারকা পিভি সিন্ধু। আয়ারল্যান্ডের সোফিয়া নোবেলকে কার্যত কোনও সুযোগ না দিয়ে মাত্র ২৯ মিনিটে ম্যাচ শেষ করে দেন সিন্ধু।


শুরু থেকেই বিশ্বের এক নম্বরের বিরুদ্ধে ভয়ডরহীন ব্যাডমিন্টন খেলেন আয়ুষ। নেটের কাছে দ্রুততার সঙ্গে খেলা, আক্রমণাত্মক মনোভাব এবং শক্তিশালী স্ম্যাশে বার বার সমস্যায় পড়েন শি। প্রথম গেম ২১-১৪ জিতে নিয়ে ম্যাচে চমকপ্রদ সূচনা করেন ভারতীয়।

কিন্তু বিশ্বের এক নম্বর এত সহজে হার মানার পাত্র নন। দ্বিতীয় গেমে শুরু থেকেই ছন্দ বদলে ফেলেন শি। এক সময় ১৫-১১ এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের রাশ নিজের হাতে নিয়ে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২১-১৩ ব্যবধানে দ্বিতীয় গেম জিতে ঘুরে দাঁড়ান বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।

তৃতীয় গেমে শুরু হয় আসল নাটক। দুরন্ত ছন্দে থাকা আয়ুষ বিরতির সময়ে ১১-৫ ব্যবধানে এগিয়ে যান। দেখে মনে হচ্ছিল, বিশ্বের এক নম্বরকে হারানোর স্বপ্ন বাস্তবের খুব কাছে। কিন্তু সেখান থেকেই পাল্টা লড়াই শুরু করেন শি। ধীরে ধীরে ব্যবধান কমিয়ে ফের ম্যাচে ফিরে আসেন তিনি।

শেষ দিকে যখন ম্যাচ কার্যত যে কোনও দিকে যাওয়ার অবস্থায়, তখনই দর্শকদের গর্জনে যেন বাড়তি শক্তি পান আয়ুষ। টানটান উত্তেজনার মধ্যে নিজের স্নায়ু ধরে রেখে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট জেতেন ভারতীয় শাটলার। শেষ পর্যন্ত ২১-১৯-এ শেষ গেম জিতে বিশ্বের এক নম্বরকে হারিয়ে দেন তিনি।

এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে শি ইউকির বিরুদ্ধে একতরফা হারতে হয়েছিল, এ দিনের জয় তাই আয়ুষের কাছে আরও বিশেষ। সেই ম্যাচে মাত্র ৪০ মিনিটেই শেষ হয়ে গিয়েছিল লড়াই। এ বার ছবিটা পুরোপুরি বদলে দেন তিনি। সমর্থকদের সামনে বিশ্বের এক নম্বর এবং গতবারের চ্যাম্পিয়নকে হারিয়ে আয়ুষ শুধু পরের রাউন্ডে উঠলেন না, বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের অন্যতম বড় অঘটনও ঘটালেন তিনি। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়ামে তিনি শেষ পয়েন্ট জেতার পর তাই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে গ্যালারি।

দাপুটে সূচনা পিভি সিন্ধুর

আয়ারল্যান্ডের সোফিয়া নোবেলকে কার্যত কোনও সুযোগ না দিয়ে মাত্র ২৯ মিনিটে ম্যাচ শেষ করে দিয়ে বিশ্ব ব্যাডমিন্টনে দুরন্ত সূচনা করলেন পি ভি সিন্ধু। সোমবার ২১-৭, ২১-১১ ব্যবধানে জয় পেয়ে মহিলাদের সিঙ্গলসের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে পড়লেন ভারতের দুবারের অলিম্পিক পদকজয়ী।

নবম বাছাই সিন্ধুর সামনে এ বার ইতিহাসের হাতছানি। বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে তাঁর সংগ্রহে ইতিমধ্যেই রয়েছে পাঁচটি পদক— একটি সোনা, দু’টি রুপো এবং দু’টি ব্রোঞ্জ। এ বারের প্রতিযোগিতায় সেমিফাইনালে উঠতে পারলেই নিশ্চিত হবে অন্তত ব্রোঞ্জ। সেই সঙ্গে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছ’টি পদক জয়ের নজির গড়বেন তিনি।

এ দিন প্রথম ম্যাচে শুরু থেকেই অভিজ্ঞতার ফারাক স্পষ্ট করে দেন সিন্ধু। নোবেলকে কোর্টের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছোটাতে ও ভুল করতে বাধ্য করেন ভারতীয় তারকা। প্রথম গেমের বিরতিতে ১১-২ এগিয়ে যান তিনি। এর পরে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অনায়াসেই ২১-৭ ব্যবধানে প্রথম গেম নিজের নামে করে নেন সিন্ধু।

দ্বিতীয় গেমে ড্রপ শট ও স্ম্যাশের মিশেলে আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন তিনি। শেষ পর্যন্ত নেটের কাছ থেকে একটি নিখুঁত ব্যাকহ্যান্ড ড্রপে ম্যাচ শেষ করেন সিন্ধু। ২১-১১ ব্যবধানে দ্বিতীয় গেম জিতে দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট নিশ্চিত করেন তিনি। পরের রাউন্ডে সিন্ধুর প্রতিপক্ষ কানাডার ওয়েন ইউ ঝ্যাং।

সোমবার ভারতীয় শিবিরে সুখবর আসে আরও কয়েকটি ম্যাচ থেকে। মহিলাদের ডাবলসে কমনওয়েলথ গেমসে ব্রোঞ্জজয়ী ত্রিসা জলি এবং গায়ত্রী গোপীচাঁদ স্পেনের পাওলা লোপেজ ও লুসিয়া রদ্রিগেজকে ২১-৯, ২১-১৩ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠেন। পুরুষদের ডাবলসে প্রতিপক্ষ মাঝপথে ম্যাচ ছেড়ে দেওয়ায় এগোলেন হরিহরণ আমসাকারুনান এবং এম আর অর্জুন।

বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে পাঁচটি পদক জেতা খেলোয়াড়ের তালিকায় সিন্ধুর সঙ্গে রয়েছেন মাত্র দু’জন— চিনের কিংবদন্তি লিন দান এবং ঝাও ইউনলেই। লিন দান পুরুষদের সিঙ্গলসে পাঁচটি সোনা জিতেছেন, আর ঝাওয়ের রয়েছে মিক্সড ডাবলসে তিনটি এবং মহিলাদের ডাবলসে দু’টি খেতাব। এ বার সেমিফাইনালে পৌঁছতে পারলেই তাঁদেরও ছাপিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে নতুন নজির গড়বেন সিন্ধু। মাত্র ২৯ মিনিটে প্রথম বাধা টপকে সিন্ধু বুঝিয়ে দিলেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে রেকর্ড ষষ্ঠ পদকের স্বপ্ন এখনও তাঁর হাতের নাগালেই রয়েছে।