স্মিথের না খেলা, কামিন্সের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ! দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের মাঝেই অস্ট্রেলিয়া শিবিরে অশান্তি

অস্ট্রেলিয়া শিবিরে অশান্তি! দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের মাঝেই দলের অন্দরে ব্যাটার ও বোলারদের মধ্যে মতবিরোধের খবর সামনে এসেছে। আর সেই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন দলের প্রাক্তন অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। গুরুত্বপূর্ণ তৃতীয় টেস্টের আগে তাঁর না খেলার সিদ্ধান্ত এবং টসের পর অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের সিদ্ধান্ত ঘিরে অস্ট্রেলিয়া শিবিরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে দাবি সংবাদমাধ্যমের।

‘সেন ক্রিকেট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্ট খেলার সময় ঘাড়ে টান ধরেছিল স্মিথের। সেই চোট নিয়েই খেলেছিলেন তিনি। সিরিজ এখন ১-১ ব্যবধানে সমতায়। ফলে তৃতীয় টেস্ট দু’দলের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে স্মিথের না খেলার সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই অস্ট্রেলিয়া দলের অন্দরে শুরু হয়েছে জল্পনা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলের অন্য ক্রিকেটারেরা চেয়েছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলুন স্মিথ। অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের উপস্থিতি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংকে শক্তিশালী করবে বলেই মনে করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু স্মিথ নিজেই নাকি জানিয়েছেন, তৃতীয় টেস্টে খেলা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তাঁর এই সিদ্ধান্তে দলের কয়েক জন ক্রিকেটার অসন্তুষ্ট হয়েছেন বলে খবর। স্মিথের কাছ থেকে আরও বেশি দায়িত্ববোধ আশা করেছিলেন তাঁরা।


তবে বিতর্ক শুধু স্মিথকে ঘিরেই সীমাবদ্ধ নেই। ব্যাটার ও বোলারদের মধ্যে মতপার্থক্যের আর একটি কারণ তৃতীয় টেস্টে টসের পর কামিন্সের সিদ্ধান্ত। জানা গিয়েছে, কেপ টাউনে তৃতীয় টেস্টে টস জিতলে প্রথমে ব্যাট করতে চেয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারেরা। কিন্তু অধিনায়ক কামিন্স প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্ত যে খুব একটা কাজে আসেনি, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসের রানেই তা স্পষ্ট।

প্রথম ইনিংসে ৩২৯ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। মিচেল স্টার্ক ৬ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে লড়াইয়ে ফেরালেও, দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা ছিল যথেষ্ট শক্তিশালী। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের একাংশের মতে, প্রথম দিন ব্যাট করতে নামলে পরিস্থিতির সুবিধা নেওয়া যেত। কিন্তু কামিন্সের ভাবনা ছিল অন্য রকম। তিনি বোলারদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেই দলের ব্যাটারদের একাংশ মনে করছেন।

ফলে স্মিথের চোট ও তাঁর না খেলার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি টসের সিদ্ধান্তও অস্ট্রেলিয়া শিবিরে বিভাজন বাড়াচ্ছে বলে দাবি। যদিও দলের অন্দরের এই মতবিরোধ নিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ টেস্টের আগে এই পরিস্থিতি অস্ট্রেলিয়ার পারফরম্যান্সে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।