ক্রিকেট খেলা অনেকটাই ভাগ্যের উপরেও নির্ভর করে। অস্ট্রেলিয়ার মতো ডাকসাইটে ক্রিকেট দল চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেট থেকে ছিটকে যাবে, তা কেউই আগাম বলতে পারেননি। অবশ্য এই ঘটনাটাই ঘটল। এবারের এই বিশ্বকাপে অন্যতম ফেভারিট দল হিসেবে মিচেল মার্শদের অস্ট্রেলিয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তিন বছর আগে ভারতকে হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া দল একদিনের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে। বিশ্ব ক্রিকেট মহল অস্ট্রেলিয়ার দিকে তাকিয়েছিল। কিন্তু অঘটন তো ঘটেই। শ্রীলঙ্কার কাছে অস্ট্রেলিয়া হেরে গিয়ে তাদের এগিয়ে যাওয়ার পথকে কঠিন করে ফেলেছিল। তখন থেকেই একটা টানাপোড়েন চলছিল অস্ট্রেলিয়া কি সুপার-এইটে খেলতে পারবে? সেই কারণেই অস্ট্রেলিয়াকে নির্ভর করতে হয়েছিল আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবোয়ে ম্যাচের উপরে। মঙ্গলবার বৃষ্টি হওয়ার জন্য খেলাটি ভেস্তে যায়। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই বিদায় নিতে হল গতবারের একদিনের ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া দলকে।
টুর্নামেন্টের শুরুর আগে থেকেই সময়টা ভালো যাচ্ছিল না টিম অস্ট্রেলিয়ার। চোটে জর্জরিত হয়ে একাধিক তারকাকে খুইয়ে তারা খেলতে এসেছিল বিশ্বকাপে। প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু পরের ম্যাচেই অঘটন। দুর্বল টিম হলেও অজি ব্রিগেড যে জিম্বাবোয়ের কাছে পরাস্ত হবে সেটা অনেকেই ভাবতে পারেননি। তবে শেষ পর্যন্ত ২৩ রানে জিম্বাবোয়ের কাছে হার মানে অস্ট্রেলিয়া দল। তখনই বিশ্বকাপে সেরা হওয়ার স্বপ্নে অন্ধকার নেমে আসে।
সোমবার শ্রীলঙ্কা ম্যাচটা জেতা খুব প্রয়োজন ছিল অস্ট্রেলিয়ার। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে অশ্বমেধের ঘোড়ার মতো ছুটছে লঙ্কা বাহিনী। সেই দাপটের সামনে মিইয়ে যায় অজিরা। আট উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় শ্রীলঙ্কা। তখনই অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ স্বপ্ন কার্যত শেষ হয়ে যায়। টিমটিম করে একটাই আশা বেঁচে ছিল স্টিভ স্মিথদের-আয়ারল্যান্ড বনাম জিম্বাবোয়ে ম্যাচ। এই ম্যাচে আয়ারল্যান্ড জিতলে লাভ হত অস্ট্রেলিয়ার। শেষ ম্যাচে ওমানকে হারালে মিলত সুপার এইটের টিকিট।
কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার শেষ আশাও বৃষ্টিতে ভেসে গেল। পয়েন্ট ভাগ করে নিল দুই দল। এখন জিম্বাবোয়ের সংগ্রহ তিন ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট। শেষ ম্যাচে জিতলেও অস্ট্রেলিয়া চার পয়েন্টের বেশি পাবে না। ফলে তাদের বিদায় নিশ্চিত।