এশিয়ান গেমস শুরু হওয়ার আগেই একের পর এক বিতর্ক। কখনও পরিবহণ নেই, কখনও হোটেলে ঘর নেই, আবার কখনও অনুশীলনের ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন। এ বার নতুন সমস্যায় পড়ল ভারতীয় শুটিং দল। রাহি সারনোবতের জন্য আগে থেকে বুক করা ঘরই শেষ পর্যন্ত পাওয়া গেল না। সেই ঘর ব্যবহার করা হচ্ছে ডোপ কন্ট্রোলের কাজে! প্রশ্ন উঠছে, এই বিশৃঙ্খলা কবে শেষ হবে?
ভারতীয় শুটিং দলের ৩৫ জন সদস্য ১৬ সেপ্টেম্বর ভোরে জাপানে পৌঁছন। আয়োজকদের দেওয়া বুকিং তালিকা অনুযায়ী, ভারতীয় দলের জন্য মোট ৪০টি ঘর আগে থেকেই বুক করা ছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট হোটেল গ্র্যান্ড তিয়ারা-য় পৌঁছে শুটার এবং কোচেরা জানতে পারেন, সেখানে মাত্র সাতটি ঘর রয়েছে! বাকি ৩৩টি ঘর অন্য একটি হোটেল, টয়োকো ইন-এ দেওয়া হয়েছে।
কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষার পরে শেষ পর্যন্ত থাকার ব্যবস্থা হয়। কিন্তু সমস্যার সেখানেই শেষ নয়। শুটিং দলের আরও পাঁচ সদস্য পরে নাগোয়ায় পৌঁছন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রাহি সরনোবত। শুক্রবার রাতে রাহি পৌঁছনোর পর তাঁর ঘরের চাবি নিতে এক কোচ গ্র্যান্ড তিয়ারা হোটেলে যান। তখনই তাঁকে জানানো হয়, রাহির জন্য বরাদ্দ ঘরটি আর খালি নেই। সেটি এখন ডোপ কন্ট্রোলের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
অথচ ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থার বুকিং তালিকায় রাহির জন্য ওই ঘরই বরাদ্দ ছিল। এমনকী, আয়োজকদের রেকর্ডেও সেই বুকিংয়ের উল্লেখ রয়েছে।
আরও অদ্ভুত ঘটনা ঘটে রাহি নিজে হোটেলে পৌঁছনোর পরে। তাঁকে অন্য একটি টয়োকো ইন হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেটি আসলে তাঁর জন্য নির্ধারিত হোটেল ছিল না। তা সত্ত্বেও সেখানে তাঁকে ঘরের চাবি দিয়ে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, যে হোটেলে তাঁর থাকার কথা, সেখানে ঘর নেই। আর যে হোটেলে থাকার কথা নয়, সেখানে ঘর পেয়ে যান রাহি!
নাগোয়ায় ভারতীয় শুটিং দলের সমস্যা অবশ্য আরও আগে থেকেই শুরু হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর রাত নটা নাগাদ বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন তাঁরা। রাত ১১টার মধ্যে কাস্টমসের কাজ শেষ হয়ে যায়। এর পরে অ্যাক্রেডিটেশন ভ্যালিডেশন সেন্টারে গিয়ে মাত্র ১৫ মিনিটে প্রয়োজনীয় কাজও হয়ে যায়।
তার পরেই শুরু হয় সমস্যা। রাত ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে ভোর ৩টে পর্যন্ত অ্যাক্রেডিটেশন সেন্টারেই গাড়ির অপেক্ষায় বসে থাকতে হয় শুটার ও কোচদের। অবশেষে ভোর তিনটে নাগাদ গাড়ি আসে। হোটেলে পৌঁছতে পৌঁছতে সাড়ে তিনটে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ৩৫ জনের দলের জন্য রয়েছে মাত্র সাতটি ঘর।
পরিস্থিতি সামলাতে শেষ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয় ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকে। থাকার ব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা মেটানোর চেষ্টা শুরু হয়। কিন্তু রাহি সারনোবতের ঘর নিয়ে নতুন ঘটনা ফের সেই ব্যবস্থাপনাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
এশিয়ান গেমসের মতো বড় প্রতিযোগিতার আগে যেখানে ক্রীড়াবিদদের প্রস্তুতিতে মন দেওয়ার কথা, সেখানে ভারতীয় শুটারদের একের পর এক মাঠের বাইরের সমস্যার সঙ্গে লড়তে হচ্ছে। প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার আগেই এই পরিস্থিতি নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে।