হাতে তেরঙ্গা। সামনে এশিয়ার ক্রীড়াবিদদের মিলনমঞ্চ। আর সেই বিশেষ মুহূর্তে তাঁর বার বার মনে পড়ছিল এক জনকে—জসপাল রানা। এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের পতাকাবাহক হওয়ার আগে প্রয়াত কোচকে নিয়ে তাঁর স্মৃতির সরণিতে হাঁটলেন তারকা শুটার মনু ভাকের।
শনিবার নাগোয়ায় এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের পতাকা হাতে নেতৃত্ব দেন মনু। তাঁর সঙ্গে দ্বিতীয় পতাকাবাহক ছিলেন কাবাডি খেলোয়াড় পবন শেরাওয়াত। মনুর কাছে অবশ্য এই দায়িত্বের গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ, জীবনের শুরুতে এমন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর কোচ জসপাল রানার কড়া নিয়ম ছিল।
মনু বলেন, ‘যখন জানতে পারলাম যে, আমাকে দেশের পতাকা বহন করার দায়িত্ব পালন করতে হবে, তখন আমার পুরনো দিনের কথা মনে পড়ছিল। যখন শুরু করেছিলাম, কখনও ভাবিনি যে এক দিন এত দূর পৌঁছতে পারব। এটা সত্যিই গর্বের এবং সম্মানের অনুভূতি’।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে ২০১৮-র এশিয়ান গেমসে অভিষেক হয়েছিল মনুর। তবে সে বার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি তাঁকে। ইন্দোনেশিয়ার পালেমবাংয়ে হয়েছিল সেই প্রতিযোগিতা।
‘২০১৮-য় যখন এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়েছিলাম, তখন আমার বয়স মাত্র ১৬। আর এটা আমার তৃতীয় এশিয়ান গেমস। ২০১৮-য় পালেমবাংয়ে ছিলাম, তাই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যেতে পারিনি,’ বলেছেন মনু।
কিন্তু কেন সে বার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন? এখানেই ফিরে আসে জসপাল রানার স্মৃতি। শুটারদের প্রতিযোগিতা সাধারণত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরের দিনই শুরু হয়ে যায়। ফলে অনুষ্ঠানে যোগ দিলে বিশ্রাম এবং প্রস্তুতিতে সমস্যা হতে পারে। সেই কারণেই জসপালের নিয়ম ছিল স্পষ্ট—পতাকাবাহক হলে তবেই অনুষ্ঠানে যাওয়া যাবে, না হলে নয়।
মনু বলেন, ‘কমনওয়েলথ গেমসেই প্রথম বার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। তখন আমি বলেছিলাম, যদি পতাকাবাহক হই, তবেই অনুষ্ঠানে যাব। কারণ, আমার সেই সময়ের কোচ জসপাল রানা স্যার বলেছিলেন, আমি পতাকাবাহক হলে অনুষ্ঠানে যেতে পারি, না হলে নয়। আমাদের ম্যাচ সাধারণত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের এক দিন পরেই শুরু হয়। তাই আমাদের পক্ষে সেখানে যাওয়া বেশ কঠিন হয়ে যায়’।
তার পরেই মনুর সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ মন্তব্য, ‘তাই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হয় আমি পতাকাবাহক থাকি, না হলে টেলিভিশনে অনুষ্ঠান দেখি’।
এ বার অবশ্য টেলিভিশনের সামনে নয়, একেবারে মঞ্চের কেন্দ্রে মনু। ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিক্সে ব্যক্তিগত এবং মিক্সড টিম ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে ব্রোঞ্জ জিতে ইতিহাস তৈরি করেছিলেন তিনি। স্বাধীন ভারতের প্রথম ক্রীড়াবিদ হিসাবে একই অলিম্পিক্সে দু’টি পদক জয়ের নজির গড়েন মনু।
আর সেই মনুই এ বার এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনে তেরঙ্গা হাতে। তাঁর সাফল্যের নেপথ্যে থাকা জসপাল রানা নেই। কিন্তু তাঁর শেখানো শৃঙ্খলা, নিয়ম আর স্মৃতি যেন নাগোয়ার সেই বিশেষ মুহূর্তে মনুর সঙ্গেই ছিল।