রবিবার স্পেনের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ ফাইনালে নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে থাকবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। কিন্তু উপস্থিত থাকবেন না আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেয়ি। কারণ? এক অদ্ভূত কুসংস্কার। যার শিকার হতে চান না তিনি।
মিলেয়ি জানিয়েছেন, পুরো বিশ্বকাপ জুড়েই তিনি রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন অলিভোস থেকে আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচ দেখেছেন। সাতটি ম্যাচেই জিতেছে লিওনেল মেসির দল। তাই ফাইনালের আগে সেই রুটিন বদলাতে একেবারেই রাজি নন তিনি। নিউ জার্সিতে গিয়ে ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর পাশে বসে ফাইনাল দেখবেন কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে মিলেয়ি স্পষ্ট জবাব দেন, ‘কোনওভাবেই না’।
শুধু বাড়ি থেকে ম্যাচ দেখা নয়, আরও একটি ‘লাকি চার্ম’ মেনে চলছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘আমি কোনও অবস্থাতেই আমার এই সৌভাগ্যের রুটিন ভাঙব না। আমি যেমন আগের সাতটি ম্যাচ প্রেসিডেন্টের বাসভবন থেকে দেখেছি, ফাইনালও সেখান থেকেই দেখব। আর আগের ম্যাচগুলোর মতো একই ভারী জ্যাকেটও পরে থাকব’।
আর্জেন্টিনায় এই ধরনের কুসংস্কার বা শুভ-অশুভ বিশ্বাসকে বলা হয় ‘কাবালা’ (cábala)। জাতীয় দলকে সৌভাগ্য এনে দিতে সমর্থক থেকে শুরু করে খেলোয়াড়— অনেকেই নির্দিষ্ট কিছু অভ্যাস বা রীতি মেনে চলেন। কেউ একই জার্সি না ধুয়ে পরেন, কেউ একই জায়গায় বসে ম্যাচ দেখেন, আবার কেউ নির্দিষ্ট পোশাক পরেন। মিলেয়ির সিদ্ধান্তও সেই দীর্ঘদিনের ফুটবল-সংস্কৃতিরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
আর্জেন্টিনার ফুটবলে এমন অন্ধ বিশ্বাসের ইতিহাসও রয়েছে। ১৯৯০ বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের কাছে উদ্বোধনী ম্যাচে হারের পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট কার্লোস মেনেমকে অনেক সমর্থক ‘অপয়া’ বলে দোষারোপ করেছিলেন। সেই ঘটনার পর থেকেই দেশের রাষ্ট্রপতিদের বিশ্বকাপে সরাসরি উপস্থিতি নিয়ে নানা কুসংস্কার আরও জোরালো হয়েছে।
এবারও তাই গ্যালারিতে না গিয়ে টেলিভিশনের সামনেই বসে মেসিদের জন্য প্রার্থনা করবেন মিলেয়ি। তাঁর বিশ্বাস, এত দিন যে অভ্যাস আর্জেন্টিনাকে টানা সাতটি জয় এনে দিয়েছে, বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে তা বদলানোর কোনো প্রশ্নই ওঠে না।