ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকে যখন বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের মুখে তারা, তখনও হার মানেনি লিওনেল স্কালোনির দল। শেষ মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজের সমতা ফেরানো গোল এবং অতিরিক্ত সময়ে লাউতারো মার্তিনেজের হেডে ২-১-এ জিতে টানা দ্বিতীয় বার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। এমন উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচে জেতার পর সাংবাদিক বৈঠকে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন স্কালোনি। ফুটবলারদের প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়ে তিনি জানিয়ে দিলেন, এই দলের কীর্তি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
স্কালোনি বলেন, ‘আমাদের ফুটবলারদের ধন্যবাদ জানাতেই হবে। এই দল যা করেছে, তা ভাষায় বোঝানো কঠিন’। বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের কথা বললেও, ফাইনালে ওঠাকেই তিনি দলের অসাধারণ সাফল্য বলে মনে করছেন। আর্জেন্টিনা কোচের কথায়, ‘আমরা অবশ্যই ফাইনাল জেতার চেষ্টা করব। কিন্তু এই ছেলেরা ইতিমধ্যেই যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা অবিশ্বাস্য’।
এরপরই দলের প্রতি নিজের কৃতজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি ফুটবলারদের কাছে কৃতজ্ঞ। ওদের ছাড়া এসব কিছুই সম্ভব হত না’। শুধু প্রথম একাদশ নয়, বেঞ্চে বসে থাকা ফুটবলারদের ভূমিকাও আলাদা করে তুলে ধরেছেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘যারা খেলার সুযোগ পায় না, অথচ বাইরে থেকে দলকে সমর্থন করে, তাদের জন্যও বিশেষ প্রশংসা প্রাপ্য। এটা সত্যিই অসাধারণ একটা দল’।
তিনি আরও বলেন, ‘আজ বেঞ্চ থেকে নেমে যারা খেলেছে, তারা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফুটবলে, জীবনের মতোই, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের সবটুকু উজাড় করে দিতে হয়’। এই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়াকেই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করেন স্কালোনি। তাঁর কথায়, ‘এই দল বিপদে পড়লেই আরও ভাল খেলে। ম্যাচের শেষে বল জালে না জড়ালে হয়তো আমরা হেরেই যেতাম, যদিও আমাদের সাতটি গোল করার সুযোগ ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা আক্রমণ চালিয়ে গিয়েছি’।
কোয়ার্টার ফাইনালে মিশরের বিরুদ্ধে জয়কেই এতদিন দলের সেরা পারফরম্যান্স মনে করেছিলেন আর্জেন্টিনা কোচ। কিন্তু ইংল্যান্ড ম্যাচ সেই ধারণা বদলে দিয়েছে। স্কালোনি বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম মিশরের বিরুদ্ধে ম্যাচটাই আমাদের সেরা ছিল। কিন্তু আজকের ম্যাচ সেটাকেও ছাপিয়ে গেল’।
ফাইনালে ওঠার আনন্দের মধ্যেও বাস্তববাদী স্কালোনি। তাঁর কথায়, ‘এগুলোই আমাদের জীবনের খাঁটি আনন্দের মুহূর্ত। কিন্তু আগামীকাল থেকেই আবার নতুন করে চিন্তা শুরু হয়ে যাবে’।
শুধু জয়-পরাজয় দিয়েই সাফল্য বিচার করতে নারাজ আর্জেন্টিনা কোচ। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু জিতলেই সফল, আর হারলেই ব্যর্থ— বিষয়টা এমন নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা আমরা কীভাবে করি’।
নিজেকে নিয়ে মানুষের মূল্যায়ন নিয়েও বিশেষ ভাবিত নন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘মানুষ আমার সম্পর্কে ভাল কিছু ভাবুক, সেটাই চাই। কিন্তু সত্যি বলতে, এসব নিয়ে আমি চিন্তা করি না। এসব আমাকে প্রভাবিতও করে না’।
তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় ফুটবলারদের মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি। স্কালোনির কথায়, ‘আমার একমাত্র চিন্তা, ছেলেরা যেন ভাল অবস্থায় মাঠে নামে। আর সব সময়ই মনে রাখতে হবে, আগামীকাল বলে একটা দিন আছে’।
ফাইনালের আগে আত্মবিশ্বাসী কোচ বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, আমরা প্রাপ্য দল হিসেবেই জিতেছি। সামনে যা-ই আসুক, তার জন্য আমরা প্রস্তুত’। এখন আর্জেন্টিনার সামনে শেষ পরীক্ষা। বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনকে হারাতে পারলেই টানা দ্বিতীয় বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে মেসি-স্কালোনিদের।