সুইস প্রতিরোধ ভাঙতে অতিরিক্ত সময়ের অপেক্ষা, শেষ চারে আর্জেন্টিনার সামনে ইংল্যান্ড

Photo: X

বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার জয়টা যতটা সহজে আসবে বলে মনে হয়েছিল, রবিবার ভোরে (ভারতীয় সময়ে) তাদের মাঠের লড়াই ছিল তার চেয়ে অনেক কঠিন। ১০ জনের সুইৎজারল্যান্ড শেষ পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের নাকানিচোবানি খাইয়ে দেয়। তবে শেষ হাসি হাসলেন লিওনেল স্কালোনির দলের ফুটবলাররাই। অতিরিক্ত সময়ে জুলিয়ান আলভারেস এবং লাউতারো মার্তিনেজের জোড়া গোলে সুইৎজারল্যান্ডকে ৩-১-এ হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে পড়ল আর্জেন্টিনা। ভারতীয় সময়ে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে বারোটায় তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। মাত্র ১০ মিনিটেই তার ফল মেলে। লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করে আলবিসেলেস্তেদের এগিয়ে দেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। শুরুতেই গোল খেয়ে কিছুটা চাপে পড়লেও ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে সুইৎজারল্যান্ড। মাঝমাঠে গ্রানিত জাকার নেতৃত্বে তারা বলের দখল বাড়ায় এবং পাল্টা আক্রমণে বারবার আর্জেন্টিনার রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে।

প্রথমার্ধে গোল শোধ করতে না পারলেও দ্বিতীয়ার্ধে পরিশ্রমের ফল পায় তারা। ৬৭ মিনিটে দারুণ দলগত আক্রমণ থেকে সমতা ফেরান ড্যান এনদোয়ে। সেই গোলের পর ম্যাচের রংই বদলে যায়। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ওপর চাপ বাড়াতে থাকে সুইসরা। কিন্তু ৭২ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় তারা। ডি-বক্সে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় ভিএআরের হস্তক্ষেপের পর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় ব্রিল এমবোলোকে। ১০ জন নিয়ে বাকি ম্যাচ খেলতে বাধ্য হয় সুইৎজারল্যান্ড।


সংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও নির্ধারিত ৯০ মিনিটে জয়ের গোল খুঁজে পায়নি আর্জেন্টিনা। গ্রেগর কোবেলের দুর্দান্ত গোলকিপিং এবং সুইস রক্ষণ একের পর এক আক্রমণ সামলে দেয়। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়েই ভাঙে প্রতিরোধ। ম্যাচের ১১২ মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে দুরন্ত বাঁকানো শটে জুলিয়ান আলভারেস আর্জেন্টিনাকে আবার এগিয়ে দেন। ম্যাচ তখন কার্যত আর্জেন্টিনার মুঠোয়। সংযুক্ত সময়ে থিয়াগো আলমাদার শট গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বল জাল জড়িয়ে ব্যবধান ৩-১ করেন লাউতারো মার্তিনেস এবং এই গোলেই সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হয়ে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

মেসি এ দিন গোল করতে না পারলেও প্রথম গোলের উৎস ছিলেন তিনিই। তাঁর কর্নার থেকেই ম্যাক অ্যালিস্টারের হেডে জয়ের সূচনা হয়। পরে আরও একাধিক সুযোগ তৈরি করেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। তবে গোলের খাতায় নাম তুলতে পারেননি। তবুও দলের জয়ে তাঁর ভূমিকা ছিল স্পষ্ট।

এবার সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই ফুটবল মহাশক্তি—আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। একদিকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মেসির আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে জুড বেলিংহ্যামদের ছন্দে থাকা ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপের শেষ চারে এই মহারণ ঘিরে উত্তেজনা এখন থেকেই তুঙ্গে।