ফের সেই গল্পের পুনরাবৃত্তি। বার বার চেষ্টা করেও ব্যাটিং বিপর্যয়ের অভিশাপ কাটাতে পারছে না পাকিস্তান (Pakistan)। এডজবাস্টনে সিরিজের তৃতীয় টেস্টের প্রথম দিনেই মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট বাবর আজমরা (Pakistan)। জবাবে দিনের শেষে ৪ উইকেটে ১৫৬ রান তুলেছে ইংল্যান্ড। অর্থাৎ, প্রথম ইনিংসে ২৩ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করবে তারা।
এই টেস্টে পাকিস্তান (Pakistan) তিন জন ক্রিকেটারকে অভিষেক করিয়েছে। সঙ্গে দলে ফিরেছেন সাইম আয়ুব। অধিনায়ক বাবর আজম বলেছিলেন, দল খেলবে এমন ভাবে যেন তাদের ‘হারানোর কিছু নেই’। কিন্তু মাঠে তার উল্টো ছবিই দেখা গেল। দেড়খানা সেশনের মধ্যেই ১০ উইকেট হারিয়ে ফেলল পাকিস্তান। ইংল্যান্ডের পেসার অলিভার রবিনসন, জোফ্রা আর্চার এবং জশ টংয়ের সামনে কার্যত আত্মসমর্পণ করল পাকিস্তানের ব্যাটিং।
রবিনসন ছিলেন যথারীতি নিয়ন্ত্রিত এবং ভয়ঙ্কর। পাকিস্তানের (Pakistan) ওপেনিং জুটি এ বারও দশের গণ্ডি পার করতে পারল না। চলতি সিরিজে পঞ্চম বার এমন ঘটনা ঘটল। শান মাসুদকে আর্চার ফেরানোর পরে ২৬ রানে চার উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে পাকিস্তান। তার পর বাবরের পালা। জশ টংয়ের বলে তাঁর অফস্টাম্প ছিটকে যায়।
আরও পড়ুন: কলকাতায় ভিনিসিয়াস, রাফিনহা, এন্ড্রিকরা, বিশ্বকাপ দলের ন’জন, ঘোষণা ব্রাজিল কোচ আনসেলোত্তির
পরিসংখ্যানও পাকিস্তানের (Pakistan) বিপক্ষে। ২০০০ সালের পর কোনও টেস্ট ইনিংসে পাকিস্তানের প্রথম পাঁচ ব্যাটারের সম্মিলিত রান মাত্র ২৪! এজবাস্টনেও সেটাই হল। এটি তাদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোর।
দলের ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সৌদ শাকিল। এক প্রান্ত আগলে রেখে ৪৩ রান করেন তিনি। কিন্তু অন্য দিকে একের পর এক উইকেট পড়তে থাকে। টেস্ট অভিষেক হওয়া গাজি ঘোরি এবং মহম্মদ ইমরানকে ফিরিয়ে দেন টং। এর পর শাকিলের প্রতিরোধও ভেঙে দেন সেই টং। পাকিস্তানের শেষ আশাটুকুও তখন শেষ।
শেষ দিকে মহম্মদ আব্বাস ও মহম্মদ আলি কিছুটা লড়াই করেন। দু’জনে মিলে ৫৫ বল খেলেন। ডান পায়ে চোট লাগার পরেও ব্যাট করে যান আলি। আব্বাস করেন ২১ রান। টেস্টে মাত্র তৃতীয় বার ২০ রানের গণ্ডি পার করলেন তিনি। ৩৩.৫ ওভারেই শেষ হয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্টে এটিই তাদের তৃতীয় সংক্ষিপ্ততম ইনিংস।
ইংল্যান্ড ব্যাট করতে নেমেও শুরুতে ধাক্কা খায়। পঞ্চম ওভারেই বেন ডাকেটকে ফিরিয়ে দেন মহম্মদ আলি। বাবর আজম স্লিপে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন। ২৪ রানে দ্বিতীয় উইকেটও পড়ে যায়। মহম্মদ আব্বাসের বলে এলবিডব্লিউ হন জর্ডান কক্স।
আরও পড়ুন: জুনিয়র জাতীয় ফুটবলে বাংলাকে হারিয়ে ফের চ্যাম্পিয়ন মণিপুর
এর পর পাকিস্তানের (Pakistan) আর এক অভিষেক হওয়া ক্রিকেটার রাজাউল্লাহর বলে জো রুটও এলবিডব্লিউ। স্টিভ ওয়-কে টপকে টেস্টে তৃতীয় সর্বাধিক ম্যাচ খেলা ক্রিকেটার হলেন রুট। তবে চলতি গ্রীষ্মে তাঁর এলবিডব্লিউ-র অদ্ভুত দৌড় থামল না। গত ১০টি টেস্ট ইনিংসে এই নিয়ে আট বার এই ভাবে আউট হলেন তিনি।
তবে সেখান থেকে ইংল্যান্ডকে সামলে দেন এমিলিও গে এবং হ্যারি ব্রুক। গে ছিলেন অত্যন্ত সতর্ক। সুযোগ পেলেই সামনের পা বাড়িয়ে ড্রাইভ করছিলেন। একটি শটে বল তাঁর ব্যাটের ভিতরের কানায় লেগে হাঁটুর পিছনে আঘাত করে। যন্ত্রণায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েও ব্যাটিং চালিয়ে যান তিনি।
ব্রুকের সঙ্গে তাঁর জুটি ক্রমশ পাকিস্তানের (Pakistan) হাত থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নেয়। ঘরের মাঠে পাকিস্তানের (Pakistan) বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের চতুর্থ উইকেটে গত দুই দশকের মধ্যে প্রথম ১০০-র বেশি রানের জুটি গড়েন তাঁরা। দিনের শেষ পর্যন্ত গে করেন ৬০। ব্রুক অপরাজিত ৫২ রানে।
ফলে প্রথম দিন শেষে পাকিস্তান ১৩৩, ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে ১৫৬। অর্থাৎ লিড ২৩ রানের। ম্যাচের শুরুতেই যে পাকিস্তান বলেছিল তাদের ‘হারানোর কিছু নেই’, প্রথম দিনের শেষে সেই পাকিস্তানের (Pakistan) সামনে এখন হারানোর মতো অনেক কিছুই রয়েছে।