দিল্লি ম্যাচে অনিশ্চিত অঙ্গকৃশ, কনকাশন বিতর্কে চাপে কলকাতা

ইডেনে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে কলকাতা নাইট রাইডার্সের ম্যাচ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। বুধবার ম্যাচ চলাকালীন কেকেআরের তরুণ ক্রিকেটার অঙ্গকৃশ রঘুবংশীকে ‘কনকাশন সাবস্টিটিউট’ দেখিয়ে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর পরিবর্তে মাঠে নামানো হয়েছিল তেজস্বী সিংহ দাহিয়াকে। কিন্তু, অঙ্গকৃশকে দেখে একবারের জন্যও মনে হয়নি তাঁর মাথায় বা ঘাড়ে আঘাত লেগেছে। ফলে, বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। কারণ, আইপিএলের নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র মাথা বা ঘাড়ে আঘাতজনিত কনকাশনের ক্ষেত্রেই ‘কনকাশন সাবস্টিটিউট’ ব্যবহার করা যায়। এর জন্য ম্যাচ রেফারির অনুমোদনও লাগে।

এদিকে, এই কনকাশন পরিবর্তনের জেরে রবিবার দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অঙ্গকৃশের খেলা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ঘটনার সূত্রপাত মুম্বইয়ের ইনিংসের ১১ ওভারে। বরুণ চক্রবর্তীর বলে ক্যাচ নিতে গিয়ে চোট পান অঙ্গকৃশ। যদিও প্রথমে তিনি উইকেটকিপিং চালিয়ে যান, পরে ১৪ ওভারে আচমকাই মাঠ ছাড়েন।

তাঁর জায়গায় উইকেটকিপিং করতে নামেন তেজস্বী সিংহ দাহিয়া। ইনিংস বিরতিতে কেকেআরের সামাজিক মাধ্যম থেকে জানানো হয়, অঙ্গকৃশের কনকাশন সাবস্টিটিউট হিসেবে রমনদীপ সিংহ খেলছেন। এরপর রান তাড়া করতে নেমে কেকেআরের যখন ২৮ বলে ২৪ রান দরকার, তখন রোভম্যান পাওয়েল আউট হন। কিন্তু দেখা যায়, রমনদীপের বদলে ব্যাট করতে নেমেছেন তেজস্বী। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অঙ্গকৃশের জায়গায় আসলে কে কনকাশন সাব হিসেবে খেলছেন, তা নিয়ে নতুন করে বিভ্রান্তি শুরু হয়। পরবর্তীকালে কেকেআর নিজেদের সামাজিক মাধ্যম থেকে সেই পোস্ট মুছে দিলে বিভ্রান্তি আরও বাড়ে।


ঘটনার পর কেকেআরের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে সমস্যা আরও বাড়তে পারে আইসিসির নতুন নিয়মে। গত বছর থেকে চালু হওয়া এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনও ক্রিকেটারের কনকাশন হলে তাঁকে অন্তত সাত দিন বিশ্রামে থাকতে হবে। যদিও আইপিএলের নিজস্ব নিয়মে এই বিষয়টি স্পষ্ট নয়, তবুও অঙ্গকৃশের দিল্লির বিরুদ্ধে খেলা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে বলা যায়, এ বারের আইপিএলে কেকেআরের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক অঙ্গকৃশ। ১৩ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ৪২২ রান, রয়েছে পাঁচটি অর্ধশতরান। ফলে তিনি দিল্লির বিপক্ষে নিয়মের জালে আটকে একান্তই না খেলতে পারলে প্লে-অফের লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেতে পারে অজিঙ্কা রাহানের দল, তা বলাই বাহুল্য।