অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ড্রয়ের পর আনসেলোত্তি অভিযোগ করলেন মাঠের অবস্থা নিয়ে, যুবভারতীতে এসে কী বলবেন?

Ancelotti Photo-SNS

ব্রাজিলের মতো দলের কাছে ‘ফ্রেন্ডলি’ ম্যাচও যে কখনও নিছক প্রস্তুতি ম্যাচ নয়, কার্লো আনসেলোত্তি নিজেই আগে সে কথা বলেছিলেন। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নেমে সেই কথার মর্যাদা রাখতে পারেনি পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শেষ মুহূর্তের গোলে হার বাঁচে ঠিকই, কিন্তু ১-১ ড্রয়ের পরে দেশে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছে ব্রাজিল।

টাউনসভিলের ম্যাচে ৬৮ মিনিটে দুরন্ত ফ্রি-কিকে অস্ট্রেলিয়াকে এগিয়ে দেন নেস্টরি ইরানকুন্ডা। ব্রাজিলের আক্রমণ তখন কার্যত দিশাহীন। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে রায়ানের হেডে সমতা ফেরে। ফলে অল্পের জন্য লজ্জার হার এড়ায় ব্রাজিল।

এর পরেই ব্রাজিল শিবিরে শুরু হয়েছে ম্যাচের বিশ্লেষণ। দলের পারফরম্যান্স, কৌশল এবং নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে পরিকল্পনা—সব কিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ ২০২৬ বিশ্বকাপের পর নতুন করে শুরু করলেও মাঠে কোনও পরিকল্পনার ছাপ দেখা যাচ্ছে না।


চাপে আনসেলোত্তি

আনসেলোত্তির পরিসংখ্যানও চাপ বাড়াচ্ছে। ব্রাজিলের কোচ হিসাবে ১৮ ম্যাচে তাঁর সাফল্যের হার ৬৩ শতাংশ—যা তথ্য-পরিসংখ্যান অনুযায়ী ব্রাজিলের কোনও কোচের প্রথম ১৮ ম্যাচে অন্যতম খারাপ রেকর্ড। তাঁর আগে কার্লোস আলবার্তো পারেইরার প্রথম ১৮ ম্যাচে একই ৬৩ শতাংশ সাফল্যের হার ছিল।

তবে আনসেলোত্তি এই পরিস্থিতিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে নারাজ। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের পরে তিনি বলেন, ‘ম্যাচটা কঠিন ছিল। মাঠের পরিস্থিতিও ভাল ছিল না, তাই ভাল ফুটবল খেলা কঠিন হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত আমরা লড়াই করেছি। আমার কাছে এটা ভাল একটা পরীক্ষা ছিল।’

Practice Session Photo-SNS

দেশে সমালোচনার ঝড়

কিন্তু ব্রাজিলের সমর্থকেরা সমাজমাধ্যমে ও সংবাদমাধ্যমও প্রশ্ন তুলছে—আর কত দিন পরীক্ষানিরীক্ষা চলবে? ২০২৬ বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছিল ব্রাজিল। তার পরে নতুন করে নিজেদের বদলে ফেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কোচ। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি ব্রাজিলের ফুটবলাররা।

ব্রাজিলের অন্যতম জনপ্রিয় ফুটবল ধারাভাষ্যকার মাউরো সেজার পেরেইরা জাতীয় দলে আনসেলোত্তির ভূমিকাকে এখন পর্যন্ত ‘প্যাথেটিক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, এখনও পর্যন্ত ব্রাজিলের খেলায় কোনও স্পষ্ট কৌশল বা সুসংগঠিত কাঠামো দেখা যাচ্ছে না।

অন্য দিকে, UOL-এর কলামিস্ট মিল্টন নেভিস অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ব্রাজিলের লড়াই দেখে আরও কড়া মন্তব্য করেছেন। নেভিস প্রশ্ন তুলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে যদি ব্রাজিলকে ড্র করতেই এতটা লড়াই করতে হয়, তা হলে আর কাদের হারাবে তারা?’

উল্লেখ্য, এর আগে দুই দলের আট সাক্ষাতে ব্রাজিল অস্ট্রেলিয়াকে ২১-১ গোলে হারিয়েছিল। সেই প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে কোনোমতে ড্র করাটা কতটা স্বস্তিদায়ক, সে প্রশ্ন তো উঠবেই।

 

সামনে কঠিন পরীক্ষা

সামনে অবশ্য দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধেই দ্বিতীয় ম্যাচ। তার পর ৩ অক্টোবর কলকাতায় ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে ব্রাজিল। অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচ এবং তার পর ভারতের মাটিতে ম্যাচ—দুই পরীক্ষাই আনসেলোত্তির কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অস্ট্রেলিয়ার মাঠ নিয়ে যখন অভিযোগ করেছেন আনসেলোত্তি, কলকাতার মাঠের অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই পারেন তিনি। এর আগে ব্রাজিলের কনফেডারেশনের কর্তারা মাঠের ঘাস দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তার পরে ঘাসে অনেক সংস্কার, পরিচর্যা করা হয়েছে। কিন্তু এর পরেও কতটা সন্তোষ প্রকাশ করবেন আনসেলোত্তি, সে প্রশ্ন থাকছেই। হাতের কাছেই যদি অভিযোগ, অজুহাত পাওয়া যায়, তা হলে কেন কোচ সেই সুযোগ ছাড়বেন?

অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আজিজ বেহিচ প্রথম ম্যাচের পর সতর্ক করে দিয়েছেন, দ্বিতীয় ম্যাচে ব্রাজিলের কাছ থেকে পাল্টা আক্রমণ আসতে পারে। তাঁর কথায়, ‘আমরা নিজেদের মান অনেক উঁচুতে রেখেছি। ভাল খেলেছি, কিন্তু আমাদের আরও ভাল খেলতে হবে। বল পায়ে আমরা কতটা সাহসী ছিলাম, একে অপরের ওপর কতটা আস্থা রেখেছি— এটাই গুরুত্বপূর্ণ। ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে এমন খেললে তাদের সম্মান অর্জন করতে হয়। আবারও সেটা করতে হবে।’

সতর্ক ভারতীয় ডিফেন্ডার

ভারতীয় দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার আনোয়ার আলি অবশ্য বেশ সতর্ক। তাঁর বক্তব্য, ‘ওদের আক্রমণে অনেক রকম বৈচিত্র্য রয়েছে। সেসব সামলাতে আমরা খুব ভালো ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। সবাই মিলে লড়াই করে আরও একবার নিজেদের সেরাটা দিতে চাই। ব্রাজিল এমন একটা দল, যাদের বিরুদ্ধে ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ফোকাস ধরে রাখতে হবে। প্রতি মুহূর্তে সতর্ক থাকতে হবে। তবেই ওদের সমস্যায় ফেলা সম্ভব।’

ফলে মঙ্গলবার ব্রিসবেনের দ্বিতীয় ম্যাচে নজর থাকবে শুধু ফলের দিকে নয়, ব্রাজিল নিজেদের কতটা বদলাতে পারে তার দিকেও। কারণ, এই ম্যাচের পরেই কলকাতায় অপেক্ষা করছে ভারত। বিশ্বকাপ-পরবর্তী নতুন ব্রাজিলের ছবিটা কেমন, সেই প্রশ্নের উত্তর ধীরে ধীরে পরিষ্কার হওয়ার সময় এসে গিয়েছে।