ভারত-ব্রাজিল ও ভারত-উরুগুয়ে ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখতে সবরকম প্রস্তুতিই যে প্রায় শেষ, তা জানিয়ে দিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। মঙ্গলবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানিয়ে দেন, ‘কোনো দিকই আমাদের নজর এড়ায়নি। যথাসম্ভব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যাতে এই ঐতিহাসিক দু’টি ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখা যায়। এ রকম দুটো বিশাল মানের ম্যাচ আয়োজন করার সুযোগ যখন পেয়েছি আমরা, তখন সেই সুযোগ ছাড়তে চাই না। এই ম্যাচকে পুরোপুরি আন্তর্জাতিক মানের করে তোলার সব রকম ব্যবস্থা আমরা করেছি’।
ক্রীড়ামন্ত্রী জানান, টিকিট জালিয়াতি রুখতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেজন্যই অনলাইন টিকিটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে মোবাইলে টিকিট দেখিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করা যায়। সবচেয়ে বড় কথা, স্টেডিয়ামে ঢোকার আগে প্রতি দর্শকের এই এম-টিকিট পরীক্ষা করা হবে তিনবার। ফলে কোনো রকম জালিয়াতি করার সুযোগই নেই। প্রতিটি টিকিটে সিট নম্বর দেওয়া থাকবে। এই সিট নম্বর অনুযায়ীই বসতে হবে দর্শকদের।
যুবভারতীকেও ঢেলে সাজানো হচ্ছে এই দুই ম্যাচ উপলক্ষে। আগে একটি জায়ান্ট এলইডি স্ক্রিন ছিল যুবভারতীর মধ্যে। এ বার আরো দুটি এলইডি জায়ান্ট স্ক্রিন লাগানো হচ্ছে দুই গোলপোস্টের পিছনে। ইন্দ্রনীল বলেন, ‘ব্রাজিল ও উরুগুয়ে দলের সদস্যদের আমরা রাজ্য সরকারের অতিথি হিসেবে আপ্যায়ন করব। তাই এই দুই দলকে শুক্রবার রাতে আমরা নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। এই নৈশভোজে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও উপস্থিত থাকবেন’।
তবে শুধু এই দুই ম্যাচই নয়, ৮ ও ১১ অক্টোবর ভারত ও রাশিয়ার মেয়েদের দলও একে অপরের মুখোমুখি হবে কলকাতায়। এই দুই ম্যাচকে কিশোর ভারতী স্টেডিয়াম থেকে সরিয়ে যুবভারতীতে আনার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বলে জানান ক্রীড়ামন্ত্রী।
তিনি আরো জানান, হাজার হাজার টাকা দামের টিকিট কেটে যাঁরা খেলা দেখতে আসবেন, তাঁদের যথেষ্ট যত্ন নেওয়া হবে। মাঠে ফুটবলারদের জন্য যেমন অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা থাকবে, তেমনই দর্শকদের জন্যও প্রতিটি ব্লকে আলাদা আলাদা অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা থাকবে। যদি কোনো দর্শক গুরুতর অসুস্থ বা আহত হন, তখন তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়াও বিশেষ ভাবে সক্ষম দর্শকদের জন্যও থাকবে হুইল চেয়ার।
জলের পাউচের ব্যবস্থা থাকবে না। বরং ওয়াটার ডিসপেন্সার থাকবে, সঙ্গে থাকবে কাগজের গ্লাস। ডিসপেন্সার থেকে জল গ্লাসে নিয়ে খেতে হবে। জলের বোতল বা ছাতা নিয়ে মাঠে ঢোকা যাবে না। তবে রেনকোট নিয়ে যাওয়া যাবে।
এই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব সৌমিত্র মোহন ও ক্রীড়া দপ্তরের সচিব অবনিন্দ্র সিং এবং সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কল্যান চৌবেও। তিনি বলেন, ‘বাংলার সরকার যে ফুটবল নিয়ে আবার গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে, এটাই বড় ব্যাপার। রাজ্য সরকারের সাহায্যে এই দুটি ম্যাচ ও মহিলাদের দুটি ম্যাচকে সফল করতে আমরা বদ্ধপরিকর। এর জন্য যা যা করা দরকার, সবই করা হবে’।
কল্যাণ সরাসরি না জানালেও ফেডারেশন সূত্রে জানা গেল ফিফার টায়ার ১ ম্যাচ হলেও এই ম্যাচে ভার-এর ব্যবস্থা থাকছে না। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় ব্রাজিলের দুটি ম্যাচেই ভার-কে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। সে রকম কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে যে ভার না থাকার জন্য বিতর্ক তৈরি হতে পারে, এই নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। অবশ্য ভার না থাকার খবর জেনেই মাঠে নামবে ব্রাজিল ও উরুগুয়ে। তবে রেফারির কোনো সিদ্ধান্ত ভুল হলে, তখন প্রশ্ন উঠবেই, ভার কেন নেই। সেই পরিস্থিতি কী করে সামলাবে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন, সেটাই দেখার।