ঐতিহাসিক লর্ডসে রবিবার শুধু ভারত-ইংল্যান্ড সিরিজের ভাগ্যই নির্ধারিত হবে না, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন রোহিত শর্মাও। জোর জল্পনা, এটাই কি প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের শেষ একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ? যদিও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ইতিমধ্যেই সেই জল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছে, তবু অবসর-গুঞ্জন ঘিরে উত্তাপ কমেনি।
তিন ম্যাচের সিরিজ এখন ১-১ অবস্থায়। প্রথম ওয়ান ডে-তে ভারতের জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ইংল্যান্ড। ফলে লর্ডসের তৃতীয় ম্যাচ কার্যত অঘোষিত ফাইনাল। কিন্তু ম্যাচের ফলাফলের পাশাপাশি সবার নজর থাকবে রোহিতের ব্যাটের দিকেও।
সম্প্রতি টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন রোহিত। সেই কারণে ওয়ান ডে ভবিষ্যৎ নিয়েও জল্পনা আরও বেড়েছে। গত কয়েক মাসে তাঁর ব্যাট থেকে বড় ইনিংস আসেনি। দ্বিতীয় ওয়ান ডেতেও মাত্র ২৬ রান করে আউট হন তিনি। ফলে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে।
তবে বোর্ডের অবস্থান একেবারেই স্পষ্ট। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সইকিয়া জানিয়ে দিয়েছেন, লর্ডসের ম্যাচই রোহিতের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ—এমন কোনও আলোচনা হয়নি। তিনি এখনও ভারতের একদিনের ক্রিকেট পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভারতীয় দলের ব্যাটিং কোচও রোহিতের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছেন, একটি খারাপ ইনিংস দিয়ে তাঁর সামর্থ্য বিচার করা উচিত নয়।
তবে এই পারফরম্যান্সের পর রোহিত নিজে থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে কারো কিছু বলার নেই। হিটম্যান যদি রবিবারের ম্যাচেও ব্যর্থ হন, তা হলে সেই সিদ্ধান্ত তিনি নিলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না।
অন্যদিকে, ভারতীয় শিবিরে চোটের ধাক্কাও রয়েছে। অলরাউন্ডার ওয়াশিংটন সুন্দর চোটের কারণে ছিটকে গিয়েছেন এই ম্যাচ থেকে। তাঁর পরিবর্তে দলে নেওয়া হয়েছে অলরাউন্ডার হর্ষ দুবেকে। ফলে লর্ডসে ভারতের দলগঠনে কিছু পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। ভারতকে এই ম্যাচে অন্তত একটি পরিবর্তন করতেই হবে। সিরিজের শেষ ম্যাচে কুলদীপ যাদবও ভারতের প্রথম একাদশে সুযোগ পেতে পারেন। অসুস্থতা কাটিয়ে কেএল রাহুলেরও দলে ফেরার সম্ভাবনা প্রবল। সে ক্ষেত্রে উইকেটকিপার হিসেবে ঈশান কিষাণের জায়গা নিতে পারেন তিনি।
টম ব্যান্টন এবং লিয়াম ডসনকে শনিবার টি-২০ ব্লাস্টের ফাইনালস ডেতে খেলার জন্য ইংল্যান্ডের শিবির থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাই লর্ডসে তৃতীয় ও শেষ একদিনের ম্যাচে তাঁদের খেলার সম্ভাবনা কার্যত নেই। তবে ইংল্যান্ড তাদের প্রথম একাদশে একটি পরিবর্তন আনতে পারে। পেসার সাকিব মাহমুদের পরিবর্তে দলে ফিরতে পারেন জশ টাং।
২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালের কথা যাঁদের মনে আছে, তাঁরা জানেন লর্ডস এমন একটি মাঠ নয় যেখানে সহজে ওয়ান ডে ক্রিকেটে সাবলীল ব্যাটিং করা যায়। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচের জন্য ব্যবহৃত পিচকে ‘অসন্তোষজনক’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। আবার মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপ ফাইনালের পিচও ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের খুব একটা সাহায্য করেনি, যদিও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছন্দ ছিলেন।
এই মাঠে টসে জিতে আগে ব্যাট করাই সবচেয়ে কার্যকর কৌশল বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, ম্যাচ যত গড়ায়, পিচ ততই ধীর এবং আঠালো হয়ে ওঠে, ফলে রান তোলা কঠিন হয়ে যায়। ২০১৭-র পর থেকে লর্ডসে কোনো ওয়ান ডে ম্যাচে রান তাড়া করে কোনও দল জিততে পারেনি। শেষবার ২০১৭-য় দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ইংল্যান্ড রান তাড়া করতে নেমে জিতেছিল। তবে সেই ম্যাচে ইয়ন মরগ্যানের দল মাত্র ১৫৩ রানে গুটিয়ে গিয়ে বড় ধরনের ব্যর্থতার মুখে পড়েছিল।
সব মিলিয়ে, ক্রিকেটের ‘মক্কা’ লর্ডসে রবিবারের লড়াই ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। একদিকে সিরিজ জয়ের লড়াই, অন্যদিকে রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা। অবসর নিয়ে সমস্ত প্রশ্নের জবাব কি ব্যাট হাতে দেবেন ভারত অধিনায়ক? সেই উত্তর মিলবে ২২ গজেই।