এক দিকে ভারতের মাটিতে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে খেলানোর স্বপ্ন। অন্য দিকে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পড়ে থাকা অর্থের পরিমাণ নিয়ে উদ্বেগ। ৩ অক্টোবর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচের আগে ভারতীয় ফুটবলের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠে গেল।
এক ভারতীয় স্পোর্টস ওয়েবসাইটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-এর ২৮ মার্চ ফেডারেশনের নিয়মিত সেভিংস অ্যাকাউন্টে ছিল মাত্র ১১.২৫ কোটি টাকা। সংস্থার আর্থিক কমিটির জন্য তৈরি একটি ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট থেকে এই তথ্য পাওয়া গিয়েছে।
তবে সব মিলিয়ে ফেডারেশনের হাতে থাকা অর্থের অঙ্ক কিছুটা বেশি। এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, নিয়মিত অ্যাকাউন্টের ১১.২৫ কোটির পাশাপাশি ফিফা ও এএফসি থেকে পাওয়া অর্থের পরিমান ছিল ২২.৪৫ কোটি এবং ফিক্সড ডিপোজিট ও বন্ডে আরও ২১.৬৩ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে অঙ্কটা ৫৫.৩৩ কোটি টাকা। কিন্তু ফিফা এবং এএফসি-র টাকা নির্দিষ্ট প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ এবং শর্তসাপেক্ষে ব্যবহার করা যায়। ফলে তাকে দৈনন্দিন খরচের টাকা হিসেবে ধরা যায় না।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, পানামা, ব্রাজিল এবং উরুগুয়ের বিরুদ্ধে তিনটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের জন্য এআইএফএফ প্রায় ৯০ কোটি টাকার বাজেট তৈরি করছে। তার মধ্যে শুধু ব্রাজিল ম্যাচের জন্যই খরচ হতে পারে ৬০-৭০ কোটি টাকা। স্পনসর, টিকিট বিক্রি এবং সরকারি সহায়তার মাধ্যমে সেই অর্থ জোগাড় করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
আর এখানেই প্রশ্ন, যে সংস্থার নিয়মিত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মার্চের শেষে ছিল ১১.২৫ কোটি, তারা এত বড় অঙ্কের বাজেটের একটি ম্যাচ কী ভাবে আয়োজন করছে?
ফেডারেশনের এক আধিকারিক বলেছেন, ‘ব্রাজিলের সঙ্গে চুক্তিতে গোপনীয়তার ধারা রয়েছে। তাই এই নিয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়’। তবে এই আধিকারিক জানান, ‘ফেডারেশনের কোনও বন্ড বা ফিক্সড ডিপোজিটও ভাঙা হয়নি’।
অর্থাৎ, ব্রাজিল ম্যাচের জন্য ২১.৬৩ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট ও বন্ডে হাতই দেওয়া হয়নি— এই ওয়েবসাইটে এটি নিশ্চিত করেছে ফেডারেশন। কিন্তু নিয়মিত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বা ফিফা-এএফসি-র অ্যাকাউন্ট থেকে কোনও টাকা এই প্রকল্পে দেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করেনি ভারতীয় ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা।
এমনকী, ব্রাজিলের ফুটবল ফেডারেশনকে কত টাকা দিতে হবে, ম্যাচের মোট বাজেট কত এবং কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের সহায়তার পরিমাণ কত— কোনও হিসাবই প্রকাশ করা হয়নি। কয়েক মাস আগেও ফেডারেশনের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ২০২৫-এর ডিসেম্বরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, ফেডারেশনের মোট তহবিল দেখানো হয়েছিল ৫০.৫৭ কোটি টাকার। কিন্তু তার মধ্যে প্রকৃত ব্যাঙ্ক ব্যালান্স ছিল ১৯.৮৯ কোটি, ২১.৬৩ কোটি ছিল ফিক্সড ডিপোজিট ও বন্ডে এবং ৯.০৫ কোটি ছিল ফিফার অনুদানের টাকা।
এরই মধ্যে ফেডারেশনের নিশ্চিত বড় আয়ের একটি উৎসও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফুটবল স্পোর্টস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের (এফএসডিএল) সঙ্গে ১৫ বছরের মাস্টার্স রাইটস চুক্তি, যার মোট মূল্য ছিল ৭০০ কোটি টাকা, যা ২০২৫-এর ৮ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে।
ব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। ৩ অক্টোবর কলকাতায় ভারতের বিরুদ্ধে নামবে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তার আগে ২৬ সেপ্টেম্বর বেঙ্গালুরুতে পানামা এবং ৬ অক্টোবর কলকাতায় উরুগুয়ের বিরুদ্ধেও খেলবে ভারত।
ফলে ব্রাজিল ম্যাচটি শুধু মাঠের লড়াই নয়, ফেডারেশনের আর্থিক সক্ষমতারও বড় পরীক্ষা। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই—মাত্র ১১.২৫ কোটি টাকার নিয়মিত ব্যাঙ্ক ব্যালান্স থাকা অবস্থায় ৬০-৭০ কোটি টাকার এই ম্যাচের খরচ কতটা নিরাপদ ভাবে সামলাতে পারবে ভারতীয় ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা?