নাটকীয় লড়াইয়ের পর এ বার জার্মানির পথ অনুসরণ করল তাদেরই পড়শি দেশ নেদারল্যান্ডস। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় ১-১-এ শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে ৩-২ গোলে হারিয়ে নকআউটে জায়গা করে নিল ‘আটলাস লায়ন্স’ মরক্কো। ম্যাচের নায়ক ইসমাইল সাইবারি। শেষ শটটি জালে জড়িয়েই তিনি মরক্কোকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেন।
মেক্সিকোর মনতেরেতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে মরক্কো। প্রথমার্ধে একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি হলেও নেদারল্যান্ডসের গোলরক্ষক বার্ট ফেরব্রুগেন দুর্দান্ত কয়েকটি সেভ করে দলকে রক্ষা করেন। বিশেষ করে নিল এল আইনাউই ও আশরাফ হাকিমির শট দুর্দান্ত সেভ করেন তিনি।
গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর ম্যাচের ৭২ মিনিটে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। অনাগত সন্তানকে হারানোর মর্মান্তিক খবর প্রকাশ হওয়ার মাত্র দু’দিন পরই এই গোল করেন কোডি গাকপো। তবে সেই ধাক্কা সামলে ম্যাচে দারুণভাবে ফিরে আসে মরক্কো। অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত লড়াই টেনে নিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জয় নিশ্চিত করে।
ম্যাচের শুরুতে দাপট দেখায় নেদারল্যান্ডস। তবে ২০ মিনিটে প্রথম বড় সুযোগটি তৈরি করে মরক্কো। আশরাফ হাকিমির কর্নার থেকে নিল এল আইনাউইয়ের শক্তিশালী হেড দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় ঠেকিয়ে দেন ডাচ গোলরক্ষক বার্ট ফেরব্রুগেন। প্রথমার্ধের সংযুক্ত সময়েও গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল ‘আটলাস লায়ন্স’। কিন্তু হাকিমির ব্যাক-পোস্টে ভাসিয়ে দেওয়া নিখুঁত ক্রসে ঠিকমতো পৌঁছতে পারেননি ইসমাইল সাইবারি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও নেদারল্যান্ডসের রক্ষণে আতঙ্কের নাম হয়ে ওঠেন হাকিমি। ডান প্রান্ত ধরে দুরন্ত গতিতে উঠে এসে তাঁর জোরালো শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। কয়েক মুহূর্ত পর আবারও একটি দারুণ সুযোগ তৈরি করেন মরক্কোর অধিনায়ক। তবে দ্রুত পিছিয়ে এসে অসাধারণ ট্যাকলে সেই আক্রমণ ভেস্তে দেন ডাচ ডিফেন্ডার মিকি ফন ডে ভেন।
অতিরিক্ত সময়ে দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালায়। মরক্কোর সফিয়ান রাহিমি একেবারে নিশ্চিত গোলের সুযোগ পেলেও ফেরব্রুগেন অসাধারণ সেভ করে ম্যাচকে টাইব্রেকারে নিয়ে যান।টাইব্রেকারে শুরু থেকেই ছিল চরম উত্তেজনা। দুই দলই একাধিক শট নষ্ট করে। শেষ পর্যন্ত মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু ক্রিসেন্সিও সামারভিলের শট আটকে দেন। এরপর ইসমাইল সাইবারি ঠান্ডা মাথায় শেষ স্পট-কিক জালে জড়িয়ে মরক্কোকে ৩-২-এ জয় এনে দেন।
এই জয়ের ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠল মরক্কো। পরের রাউন্ডে আয়োজক কানাডার মুখোমুখি হতে চলেছে তারা। অন্যদিকে, বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী দল নেদারল্যান্ডস এবারের আসরে রাউন্ড অব ৩২ থেকেই বিদায় নিল, যা তাদের জন্য বড় ধাক্কা।
খেলার নিয়ন্ত্রণ ফের নিজেদের হাতে আনতে কোচ রোনাল্ড কোমান মাঠে নামান টিউন কুপমেইনার্স ও ওয়াউট ভেগহর্স্টকে। তাঁর এই পরিবর্তন দ্রুতই সফল হয়।
ভেগহর্স্ট বল বাড়িয়ে দেন ক্রিসেন্সিও সামারভিলকে। সামারভিলের নিখুঁত পাস থেকে কোডি গাকপো এগিয়ে আসা গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর নিচ দিয়ে জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন।মনে হচ্ছিল, এই গোলেই জয় নিশ্চিত করে ফেলেছে কমলা-বাহিনী । কিন্তু মরক্কোর বদলি খেলোয়াড় ইসা দিয়প শেষ মুহূর্তে চেমসদিন তালবির বাঁ প্রান্ত থেকে ভেসে আসা ক্রসে সবার ওপরে উঠে দুর্দান্ত হেডে গোল করে ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান।
ম্যাচের সময় শেষের দিকে এগোতে থাকলে মরক্কোর সৌফিয়ান রাহিমির একেবারে কাছ থেকে নেওয়া শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় রুখে দেন ডাচ গোলরক্ষক বার্ট ফেরব্রুগেন। এরপর টাইব্রেকারে নায়ক হয়ে ওঠেন ইয়াসিন বুনু। দুই দলই প্রথমে দুটি করে স্পট-কিক নষ্ট করার পর তিনি ক্রিসেন্সিও সামারভিলের শট প্রতিহত করেন। এরপর ইসমাইল সাইবারি নির্ধারক পেনাল্টিটি জালে জড়িয়ে মরক্কোকে শেষ ষোলোয় তুলে দেন।
আগামী ৪ জুলাই হিউস্টনে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক কানাডার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচ খেলবে মরক্কো।