লস অ্যাঞ্জেলিস স্টেডিয়ামে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর এবার ডালাসে শক্তিশালী ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে ইউরো চ্যাম্পিয়নরা। বেশ কঠিন পরীক্ষা। তবে প্রতিপক্ষ যতই কঠিন হোক না কেন, নিজের দলকে নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
ম্যাচের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দে লা ফুয়েন্তে জানিয়ে দেন, ‘আমি মনে করি ফ্রান্স এই বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম বড় দাবিদার। তবে আমরা আমাদের সম্ভাবনার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছি। আমরা জানি, আমাদের সামনে কঠিন প্রতিপক্ষ রয়েছে, কিন্তু আমরা এই চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত।’
স্পেন কোচ আরও বলেন, ‘আমি সবসময় বলি, আমার কাছে শুধু প্রথম একাদশ নয়, পুরো স্কোয়াডটাই গুরুত্বপূর্ণ। যারা শুরু থেকে খেলে এবং যারা বেঞ্চ থেকে নেমে আসে—সকলেই সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই দলটার সবচেয়ে বড় শক্তি হল প্রত্যেক ফুটবলারের পেশাদারিত্ব এবং দলের জন্য নিজেদের উজাড় করে দেওয়ার মানসিকতা।’
কোয়ার্টার ফাইনালে পেদ্রির পরিবর্তে প্রথম একাদশে ফাবিয়ান রুইজকে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত সঠিক প্রমাণিত হয়। রুইজ ম্যাচের প্রথম গোলটি করেন, আর শেষ দিকে বদলি হিসেবে নেমে জয়সূচক গোল করেন মিকেল মেরিনো।
এই প্রসঙ্গে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘এটা খুবই কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল। কারণ এমন অনেক ফুটবলার আছে, যারা শুরুর একাদশে থাকার যোগ্য। কিন্তু মাত্র ১১ জনই তো খেলতে পারে। যারা খেলতে পারেনি, তাদের জন্য খারাপ লাগে। তবে এটাই ফুটবল, আর আমাদের স্কোয়াডের শক্তি এতটাই বেশি যে যে-ই সুযোগ পাচ্ছে, সে-ই নিজেকে প্রমাণ করছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই দলের সবচেয়ে বড় গুণ হল সবাই নিজেদের ভূমিকা মেনে নিয়েছে। কেউ বেঞ্চে বসে অসন্তুষ্ট নয়। সবাই জানে, সুযোগ এলে দলের জন্য সেরাটা দিতে হবে। এই ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।’
স্পেনের এই জয়ে আবারও নায়ক হয়ে উঠেছেন ‘সুপার সাব’ মিকেল মেরিনো। মাঠে নামার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনি ফিরতি বলে গোল করে দলের সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন। দে লা ফুয়েন্তে তাঁর প্রশংসা করে বলেন, ‘মিকেল সবসময় প্রস্তুত থাকে। ও জানে, কখন সুযোগ আসবে বলা যায় না। কিন্তু সুযোগ পেলেই দলের জন্য পার্থক্য গড়ে দেয়। এটাই একজন বড় ফুটবলারের পরিচয়।’
এবার স্পেনের সামনে বিশ্বকাপের অন্যতম হাইভোল্টেজ লড়াই। ডালাসে সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। দুই ইউরোপীয় শক্তির এই মহারণে জয়ী দলই পৌঁছে যাবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে।