সদ্যোজাত মেয়ের সৎকার করে রাজ্যের হয়ে ব্যাট হাতে নেমে শতরান বিষ্ণুর

এমন ঘটনা বোধহয় আগে কখনো শোনা যায়নি … তবে এমনও কিছু ঘটনা ঘটে যায় তা মন ছুঁয়ে যায়। এবং সেটি বড় দুঃখ দিয়ে যায় মনকে।

এবং আঘাত লাগে বেশ। এমনই একটি ঘটনা ঘটল। কিছুদিন আগেই সদ্যোজাত মেয়েকে হারিয়েছেন।

মেয়ের সৎকার করে মাঠে নেমে পড়লেন নিজের রাজ্য বরোদার হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে খেলতে। শুধু মাঠেই নামলেন না, শতরান করে সকলকে তাক লাগিয়ে দিলেন।


এমন ধরণের মানসিকতা ও দৃঢ়চেতা ও সংযমী ক্রিকেটার অনেক কমই দেখা গিয়েছে। হ্যাঁ, সত্যিই এমন ঘটনাই ঘটেছে বরোদা ক্রিকেটার বিষ্ণু সোলাঙ্কির সঙ্গে।

ভুবনেশ্বর বিকাশ ক্রিকেট গ্রাউন্ডে দ্বিতীয় ম্যাচে চণ্ডীগড়ের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছে বরোদা। সেই ম্যাচে দ্বিতীয়দিনে বরোদার হয়ে পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে শতরান করেন বিষ্ণু।

এবং দলকে ভালো জায়গায় পৌঁছে দেন। নিজের জন্য জীবনের অন্যতম কঠিন সময়ে দাঁড়িয়ে বিষ্ণুর এই ইনিংসের প্রশংসা করেছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।

ট্যুইট করে শেল্ডন জ্যাকসন বলেন, অসাধারণ ক্রিকেটার। আমার জানা সব থেকে কঠিন ক্রিকেটার। বিষ্ণুকে স্যালুট জানাই।

ওর পরিবার একটা কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে এগোচ্ছে। আরও শতরান কর তুমি, অনেক অনেক শুভেচ্ছা তোমাকে।

এদিকে বরোদা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান শিখি হত্তাঙ্গাদি শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখেন, কয়েকদিন আগে নিজের সদ্যোজাত মেয়েকে হারানোর এক ক্রিকেটারের গল্প।

মেয়ের শেষকৃত্য করে রঞ্জি খেলার জন্য বরোদা দলে যোগ দেয় সে। শতরান করেছে সে। নেটমাধ্যমে খুব বেশি প্রশংসা নাই বা পেল, কিন্তু আমার কাছে বিষ্ণু সত্যিকারের নায়ক, একজন অনুপ্রেরণা।

বলে রাখা ভালো, এই ফেব্রুয়ারি বিষ্ণু জানতে পেরেছিল তাঁর মেয়ে হয়েছে। চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে মারা যায় সদ্যোজাত।

সেই সময় ভুবনেশ্বরে দলের সঙ্গে ছিলেন বিষ্ণু। সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন তিনি। তিনদিনের মধ্যে ফিরে এসে দলে যোগ দিয়েছিলেন বিষ্ণু। কিন্তু প্রথম ম্যাচে বাংলার বিরুদ্ধে খেলতে নামেননি বিষ্ণু।