ভুবি ফিরতেই শামিকে নিয়ে উঠে গেল প্রশ্ন, দ্বিতীয়-তৃতীয় পেসার কে, বুঝতেই পারছি না, মন্তব্য প্রাক্তন তারকার

Bhubaneswar Kumar-Md Shami Photo-SNS

চার বছর পর ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন ভুবনেশ্বর কুমার। আর তাঁর প্রত্যাবর্তনই যেন নতুন করে তুলে দিল মহম্মদ শামির প্রসঙ্গ। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজের দল ঘোষণার পরই নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন এক প্রাক্তন ভারতীয় ব্যাটার। তাঁর দাবি, শামিকে আর উপেক্ষা করা উচিত নয়। বিশেষ করে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ যখন সামনে, তখন এই অভিজ্ঞ পেসারকে দলে ফেরানোর সময় এসে গিয়েছে।

শুধু শামির দলে ফেরার দাবিই নয়, ভারতের পেস আক্রমণের পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ওয়াসিম জাফর। তাঁর মতে, জশপ্রীত বুমরাহ-র পর ভারতের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পেসার কে, সেই জায়গাটিই এখনও পরিষ্কার নয়। মহম্মদ সিরাজকে নিয়মিত ম্যাচ খেলানো হচ্ছে না, হার্দিক পাণ্ডিয়াও এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নন। ফলে বিশ্বকাপের এক বছর আগেও এই অনিশ্চয়তা চিন্তার কারণ বলেই মনে করছেন জাফর।

শামিকে টেস্ট দলেও ফেরানোর পক্ষে জোর সওয়াল করেছেন জাফর। তাঁর কথায়, ‘আমি চাই শামি টেস্ট দলে ফিরে আসুক। অনেক দিন ধরেই আমি সেটা দেখতে চাইছি। দল ঘোষণার সময় আমার নজর থাকবে শামি এবং অকিব নবীর দিকে। এ বারও যদি শামিকে উপেক্ষা করা হয়, তা হলে আমার মনে হয় জাতীয় দলের দরজা ওর জন্য বন্ধ হয়ে যাবে’। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে কথাগুলি বলেন জাফর।


চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেছেন শামি। ২০২৫-২৬ মরসুমে বাংলার হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে সাত ম্যাচে নিয়েছিলেন ৩৭ উইকেট। বিজয় হজারে ট্রফিতে সাত ম্যাচে ১৫টি এবং সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে সাত ম্যাচে ১৬টি উইকেট নিয়েছেন। চলতি মরসুমে দলীপ ট্রফিতেও পূর্বাঞ্চলের হয়ে সাত উইকেট নিয়ে ম্যাচ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন।

শুধু টেস্ট নয়, ৫০ ওভারের ক্রিকেটেও শামিকে দেখতে চান জাফর। এক দিনের বিশ্বকাপের প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে তাঁর যুক্তি, ভারতকে এখনই সেরা পেস আক্রমণ গুছিয়ে নিতে হবে।

জাফরের বক্তব্য, ‘ওয়ান ডে দল নিয়ে আমি নিশ্চিত নই। কারণ আমরা গুরনুর ব্রার, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, নীতীশ কুমার রেড্ডির মতো অনেককে চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমার মনে হয় না, টিম ম্যানেজমেন্ট এখনও ওদের নিয়ে পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী। সিরাজকেও নিয়মিত ম্যাচ খেলানো হচ্ছে না। আমি বুঝতেই পারছি না, ভারতীয় দলে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পেসার কে। হার্দিকও এখনও প্রস্তুত নয়। আমার মতে, বিশ্বকাপ যখন খুব কাছেই, তখন শামিকে এক দিনের দলে রাখা উচিত’।

জাফরের পছন্দের পেস আক্রমণও তাই স্পষ্ট— বুমরাহ, শামি এবং সিরাজ। তাঁর কথায়, ‘এত ভাল মানের পেসার যখন আপনার হাতে রয়েছে, তখন তাঁদেরই খেলানো উচিত। আমার প্রথম পছন্দ হবে বুমরাহ, শামি এবং সিরাজ। বিশ্বকাপের পরে নতুন করে দল গড়ার কথা ভাবা যেতে পারে’।

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলে চার বছর পর ভুবনেশ্বরের প্রত্যাবর্তন অনেককেই চমকে দিয়েছে। শেষ বার তিনি ভারতের হয়ে খেলেছিলেন ২০২২ সালের নভেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধেই। সেই একই দলের বিরুদ্ধে এ বার জাতীয় দলে ফিরেছেন তিনি।

ভুবির প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে জাফর বলেছেন, ‘দেরিতে হলেও ভাল হয়েছে। ও এই সুযোগের যোগ্য। ওকে দলে নিয়ে কেউ কোনও দয়া করেনি’। তাঁর মতে, বয়সকে কারণ দেখিয়ে ভাল পারফর্ম করা ক্রিকেটারকে দূরে রাখা উচিত নয়।

আর সেখানেই উঠছে শামির প্রশ্ন। এক জন অভিজ্ঞ পেসার যদি ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত উইকেট নেন, ফিট থাকেন এবং পারফর্ম করেন, তা হলে তাঁকে জাতীয় দলের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিযুক্ত— সেই প্রশ্নই এখন নির্বাচকদের সামনে ছুড়ে দিয়েছেন জাফর।

বিশ্বকাপ এখনও এক বছর দূরে। কিন্তু জাফরের বার্তা স্পষ্ট— নতুনদের নিয়ে পরীক্ষা চলুক, তবে বড় মঞ্চের আগে বুমরাহ-শামি-সিরাজের মতো অভিজ্ঞ পেসারদের নিয়ে ভারতের পরিকল্পনা এখনই স্পষ্ট করা দরকার।