সিএবি ক্লাব হাউসের চত্বরে ঘোরাফেরা করলেই নানা গুঞ্জন শুনতে পাওয়া যায়। কখন কার উপরে শীর্ষকর্তারা এমন শিলমোহর দিয়ে দেবেন, তা আগাম জানা সম্ভব নয়। এমনই ঘটনা ঘটে গেল। একজন খেলোয়াড় রঞ্জি ট্রফি জিতে শিরোনামে উঠে এসেছিলেন আর একজন ক্রিকেটার ২৫টি রঞ্জি ট্রফি ম্যাচ খেলেছেন। এই দুই খেলোয়াড় হলেন দত্তাত্রেয় মুখার্জি ও অজয় ভার্মা। এই দুই প্রাক্তন খেলোয়াড় বাংলার ভিশনের কোচিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দুই ক্রিকেটারকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের আর প্রয়োজন নেই সার্ভিস দেওয়ার জন্য।
কিন্তু দু’জনেই অবাক হয়েছেন, সিএবি-র কর্মকর্তারা একবারের জন্যও সৌজন্য দেখাননি, তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার। এমনকি ফোন করেও কিছু বলার প্রয়োজন মনে করেননি কেউই। শুধু একটা ই-মেল করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁদের আর প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে বাদের তালিকায় রয়েছেন বাংলার আরেক ক্রিকেটার রাকেশ কৃষ্ণাণ। তিনি ট্যালেন্ট হান্ড কমিটির সদস্য ছিলেন। কৃষ্ণাণকে ছাঁটাই করে দেওয়া হয়েছে কমিটি থেকে। পাশাপাশি, ভারতের প্রাক্তন টেস্ট ক্রিকেটার অশোক মালহোত্রা এই কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁকেও ব্রাত্য করে দেওয়া হয়েছে। বাংলা ক্রিকেটের তাঁর অবদান কোনওভাবেই ফেলে দেওয়ার জায়গা নেই। তবুও তাঁদের প্রতি কোনওরকম সৌজন্যবোধ দেখানোর প্রয়োজন মনে করেননি সিএবি-র শীর্ষ কর্মকর্তারা।
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সিএবি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর আগের ট্যালেন্ট হান্ট কমিটির বদলে নতুন এক কমিটি হয়েছে। মেম্বার্স কোচিং অ্যান্ড স্কাউটিং। যেখানে রয়েছেন শরদিন্দু মুখোপাধ্যায়, ইন্দুভূষণ রায় এবং আবদুল মুনায়েম। এখানেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে, মুনায়েমের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলার কোনও অভিজ্ঞতাই নেই। শুধু ময়দানে কোচিং করেছেন। তাঁকে কীভাবে বাংলার তরুণ ছেলেদের স্কাউট করার ক্ষেত্রে নিযুক্ত করা হল? এর পিছনে এমন কোনও হাত রয়েছে, যা মেনে নেওয়া যায় না। শোনা যাচ্ছে তাহলে কি বাংলায় কি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলা প্রাক্তন ক্রিকেটারদের অভাব দেখা দিয়েছে? না হলে আবদুলের মতো শুধু ক্লাব ক্রিকেটে কোচিং করা একজনকে কেন দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া হচ্ছে? আরও বলা হচ্ছে, গতবার মুনায়েম ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের কোচের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু সেখানে পুরো মরশুম কোচিং করতে পারেননি।
শেষ দিকে আর তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। ময়দানের একাংশের মতে, আবদুলের কোচিংয়ে একদমই খুশি ছিল না লাল-হলুদ ম্যানেজমেন্ট। বেশ কিছু সিনিয়র ক্রিকেটারও নাকি তাঁর কোচিংয়ে খেলতে চান না। অথচ সিএবি তাঁকেই দায়িত্বে নিয়ে এসেছে। তাহলে কি ময়দানে নতুন করে পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি শুরু হয়ে গেছে? আবার প্রাক্তন ক্রিকেটার শরদিন্দু মুখার্জিকে নিয়েও অনেক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কেন তাঁকে মেম্বারস কোচিং কমিটির বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হল? শরদিন্দু নিয়মানুসাকে এই দায়িত্ব কোনওভাবেই পেতে পারেন না। তিনি যুক্ত রয়্ছেন সেলিব্রিটি ক্রিকেট লিগের কোচিংয়ে। দিচ্ছেন ধারাভাষ্য। এটা অনেকটা রাজনীতির আসরে দেখতে পাওয়া যায় একজনের উপরে ভরসা করে দল চালাতে। তাহলে কি সিএবি-র শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে যাঁকে ভাবা হচ্ছে, তাঁর প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে সবাই হাত তুলে চলেছেন।