৩৫ বলে সেঞ্চুরি, অভিষেকের তাণ্ডবে উড়ে গেল নিউজিল্যান্ড, টি-টোয়েন্টি সিরিজে জয়ী ভারত

Photo: X

দেশের এক প্রান্তে যখন ‘অর্ণব’-এর দাপট, তখন প্রায় সাড়ে বারো হাজার কিলোমিটার দূরে নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটন শহরে দেখা গেল অভিষেকের দাপট। ইনি ঝড় নন, ইনি ঝড় তুলতে অভ্যস্ত। কয়েকদিন আগেই ৩০ বলে সেঞ্চুরি করে সারা দুনিয়াকে চমকে দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার ফের ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করে বুঝিয়ে দিলেন, সেটা কোনো কাকতালীয় ঘটনা ছিল না। এমন ঝোড়ো ইনিংসকে ক্রমশ অভ্যাসে পরিণত করছেন তিনি।

১৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি, ৩৫ বলে সেঞ্চুরি, ৩৮ বলে ১১৩— তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে এই ভাবে নিউজিল্যান্ডকে কার্যত একা উড়িয়ে দিলেন অভিষেক শর্মা। মঙ্গলবার ওয়েলিংটনের হেনরি পার্কে যে ইনিংসটি খেলেন যুবরাজ সিং-এর ছাত্র, তাকে অতিমানবিক বলা যায় অনায়াসে।

বৈভব সূর্যবংশীর সঙ্গে ৭.১ ওভারে ১৩৩ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপ গড়েন অভিষেক। পাওয়ার প্লে-তে ১১৮ রান তুলে টি-টোয়েন্টিতে নতুন নজির গড়ে এই জুটি। এই ম্যাচের পর তাই ভারতের ম্যাচ ও সিরিজ জয় নিয়ে আলোচনার চেয়ে অভিষেকদের এই বেনজির রান-ঝড় নিয়েই চর্চা হচ্ছে বেশি।


এ দিন বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের নতুন সংজ্ঞা লিখলেন অভিষেক শর্মা। তাঁকে সঙ্গ দিলেন কিশোর ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী। দু’জনে মিলে এমন ঝড় তুললেন যে, নিউজিল্যান্ডের ১৯৮ রানের পুঁজি কার্যত তুচ্ছ হয়ে যায়। ওয়েলিংটনে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ছ’উইকেটে জিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। সিরিজ জিততে আর কোনও অঙ্কের প্রয়োজন নেই শ্রেয়স আইয়ারদের। হাতে রইল আরও দু’টি ম্যাচ।

অভিষেকের ব্যাটে এ দিন বয়ে যায় চার-ছক্কার বন্যা। মাত্র ৩৫ বলে শতরান পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩৮ বলে ১১৩ রান করে আউট হন ভারতীয় ওপেনার। ইনিংসে ছিল ১১টি ওভার বাউন্ডারি, স্ট্রাইক রেট ২৯৭.৩৭! আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি তাঁর চতুর্থ সেঞ্চুরি। অভিষেকের সঙ্গে বৈভবের বিধ্বংসী পার্টনারশিপ নিউজিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণকে কার্যত দিশাহারা করে দেয়।

তাঁদের কোনো বলেই দুই ওপেনারকে দমানো যাচ্ছিল না। জ্যাকব ডাফি, অ্যাডাম মিলনে-দের প্রায় প্রতি বলই হয় বাউন্ডারির বাইরে, নয় সোজা গ্যালারিতে পাঠাচ্ছিলেন অভিষেক ও বৈভব। অভিষেক ন’টি চার ও ১১টি ছয় মারেন এবং বৈভব তাঁর ১৯ বলে ৪৫ রানের ইনিংসে চারটি করে চার ও ছয় হাঁকান।

এ দিন ১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণের রাস্তা বেছে নেয় ভারত। সঞ্জু স্যামসনকে তিন নম্বরে নামিয়ে বৈভবকে ওপেন করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত যে কতটা সঠিক ছিল, তা বুঝিয়ে দেন তরুণ ব্যাটার। শুরু থেকেই নিউজিল্যান্ডের বোলারদের উপরে চড়াও হন অভিষেক। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন বৈভব।

প্রথম ছয় ওভারেই ১১৮ রান তুলে নেয় ভারত। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পূর্ণ সদস্য দেশগুলির মধ্যে এটিই পাওয়ার প্লেতে তোলা সর্বোচ্চ রান। অভিষেক মাত্র ১৫ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। পাঁচ ওভার শেষ হওয়ার আগেই একশো রানের গণ্ডিও পেরিয়ে যায় ভারত। সাত ওভার এক বলে ওপেনিং জুটি তোলে ১৩৩ রান।

এই বিধ্বংসী জুটি ভাঙার সময় ভারতের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৭৭ বলে ৬৬ রান। বৈভব ফিরে যাওয়ার পরেও সঞ্জুকে সঙ্গে নিয়ে তাণ্ডবলীলা চালিয়ে যান অভিষেক। তিনি যখন আউট হন, তখন জয় থেকে ভারত মাত্র ২১ রান দূরে। তাই তিলক বর্মা, নমন ধীরদের কোনো অসুবিধাই হয়নি। শেষ পর্যন্ত ১৩.২ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে ১৯৯ রান তুলে জয়ের উপর শিলমোহর লাগিয়ে দেয় ভারত।

নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে মন্দের ভাল ছিলেন ড্যারিল মিচেল। ৫২ বলে ৮৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও পাঁচটি ছয়। ফিন অ্যালেন করেন ৪০ রান। দু’জনে মিলে ভারতীয় বোলারদের উপরে পাল্টা চাপ তৈরির চেষ্টা করেছিলেন।

শুরুতে ভুবনেশ্বর কুমার ও অর্শদীপ সিং নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেও পরে রান তোলার গতি বাড়িয়ে দেয় নিউজিল্যান্ড। পাওয়ার প্লে-তে ৫৮ রান ওঠে। তবে নীতীশ কুমার রেড্ডির বোলিংয়ে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় ভারত। তাঁর প্রথম ওভারেই মাত্র ছ’রান ওঠে, সেই সঙ্গে আউট হন অ্যালেনও। শেষ দিকে ভারতীয় বোলাররা ইয়র্কার দিয়ে রান আটকে রাখার চেষ্টা করেন। তবুও মিচেলের ব্যাটে ভর করে ২০ ওভারে ১৯৮-৩ তোলে নিউজিল্যান্ড।

কিন্তু অভিষেকের ব্যাটিংয়ের সামনে সেই রানও যথেষ্ট হল না। সিরিজের শুরু থেকেই ভারতীয় ব্যাটিংয়ের আগ্রাসন চোখে পড়ার মতো। ওয়েলিংটনে তা অন্য মাত্রায় পৌঁছে গেল। এক দিকে অভিষেকের অবিশ্বাস্য সেঞ্চুরি, অন্য দিকে বৈভবের ১৯ বলে ৪৫-এর ইনিংস— সব মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডকে কার্যত উড়িয়ে দিল ভারত।

পরের দুটি ম্যাচ অকল্যান্ডে, ৩০ অক্টোবর ও ১ নভেম্বর, হ্যামিল্টনে। এই দুই ম্যাচেও আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই কিউইদের সামনে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: নিউজিল্যান্ড ১৯৮/৩ (২০ ওভার)—ড্যারিল মিচেল ৮৯*, ফিন অ্যালেন ৪০। ভারত ১৯৯/৪ (১৩.২ ওভার)—অভিষেক শর্মা ১১৩, বৈভব সূর্যবংশী ৪৫। ভারত ৬ উইকেটে জয়ী।