ঝড় তোলা সেঞ্চুরির পর ফাঁস করলেন ঝোড়ো ইনিংসের রহস্য, যুবরাজের ১২ বলে ৫০-এর নজির নিয়ে ‘খোঁচা’-য় কী বললেন অভিষেক?

Photo: X

ম্যাট শুরুর আগে ভারতীয় দলের অনেকে ওয়েলিংটনের ঝোড়ো বাতাস নিয়ে দুশ্তিন্তায় ছিলেন। এখানে খুব জোরে হাওয়া দেয় বলে নিউজিল্যান্ডের বোলাররা সেই হাওয়াকে কাজে লাগিয়ে বল মারাত্মক সুইং করিয়ে ভারতের ব্যাটিংয়ে ধস নামাতে পারেন, এমনও আশঙ্কা করেছিলেন কিছু ক্রিকেটবোদ্ধা। কিন্তু মঙ্গলবার এই ঝোড়ো হাওয়ার বিরুদ্ধে ব্যাট করতে নেমে পাল্টা ঝড় তুললেন অভিষেক শর্মা ও তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিলেন বৈভব সূর্যবংশী।

মাত্র ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করে নিউজিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণকে ছিন্নভিন্ন করে দেন অভিষেক। তাঁর বিধ্বংসী ইনিংসের দাপটে সিরিজও জিতে নেয় ভারত। কিন্তু অভিষেক শর্মার কাছে ব্যক্তিগত মাইলফলকের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ দলের জয়। ম্যাচের পর সেই কথাই স্পষ্ট করে দিলেন ভারতীয় ওপেনার। জানালেন, বৈভব সূর্যবংশীর সঙ্গে পাওয়ার প্লে-র খেলা উপভোগ করাই ছিল তাঁদের লক্ষ্য।

মঙ্গলবার ওয়েলিংটনে ব্যাটে ঝড় তুলে ভারতকে জেতানোর পর অভিষেককে জিজ্ঞেস করা হয়, এমন বিধ্বংসী ইনিংসের রহস্য কী? তিনি জবাব দেন, ‘পরিকল্পনাটা খুব সহজ ছিল। আমি আর বৈভব ঠিক করেছিলাম, কিছুটা সময় মাঠে উপভোগ করব, বিশেষ করে পাওয়ার প্লে-তে। ফিল্ডিং করার সময় আমরা পিচের চরিত্র একটু বোঝার চেষ্টা করেছিলাম। পিচে অতিরিক্ত বাউন্স ছিল। কিন্তু আমার মনে হয়েছিল, মাঠের মাপ কাজে লাগানো আমাদের পক্ষে সম্ভব। পাওয়ার প্লে-র সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি গতিকেও কাজে লাগাতে পারতাম। সেটাই ছিল সহজ পরিকল্পনা।’


বৈভবের শুরুটাও যে ভারতকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিয়েছিল, তা জানাতে ভোলেননি অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘বৈভব যেভাবে শুরু করেছিল, সত্যিই অসাধারণ। দলের ইনিংসের গতি বাড়ানোই ছিল আমাদের লক্ষ্য। তার পর সেই গতিটা ধরে রাখতে চেয়েছিলাম।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন অবিশ্বাস্য ব্যাটিং করতে গেলে আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি প্রয়োজন কঠোর প্রস্তুতি। অভিষেক মনে করেন, অনুশীলনে পরিশ্রমই তাঁকে নিজের স্বাভাবিক খেলা খেলতে সাহায্য করেছে।

তিনি বলেন, ‘আমি বলব না যে কাজটা খুব সহজ। এর পিছনে অনেক পরিশ্রম আছে। এ জন্য আমাদের কোচেদের বিশেষ ভাবে কৃতিত্ব দিতে চাই। সাইডআর্ম থ্রোয়ারের সাহায্যে আমরা প্রচুর অনুশীলন করেছি। একজন ব্যাটারের কাছে এই অনুশীলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

পরিস্থিতি বুঝে শট বাছাই করার গুরুত্বও তুলে ধরেছেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘পিচের চরিত্র ও মাঠের মাপ মাথায় রাখতে হয়। একই সঙ্গে বিপক্ষের বোলারদের কথাও ভাবতে হয়। কোন বোলারের বিরুদ্ধে কোন শট খেলব, তা বুঝে নিতে হয়। গত কাল আমাদের ভাল অনুশীলন হয়েছিল। আমি সেটাই কাজে লাগাতে চেয়েছিলাম এবং সেটাই করেছি।’

এর পরই অভিষেকের সংযোজন, ‘এ রকম একটা ইনিংস আমি খেলব, অনেক দিন ধরেই মনে মনে কল্পনা করেছিলাম। শেষ পর্যন্ত সেটাই সত্যি হল’।

যুবরাজের খোঁচা, কী বললেন ছাত্র?

অভিষেকের বিধ্বংসী ব্যাটিং দেখে প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ও অভিষেকের গুরু যুবরাজ সিং, যিনি নিজেই ১২ বলে ৫০ রান করে নজির গড়েছিলেন, তিনি সমাজমাধ্যমে মজার ছলে মন্তব্য করেছিলেন, ‘যতই যাই করুক ১২ বলে ৫০ রান করার নজির এখনও গড়তে পারেনি অভিষেক’। সেই খোঁচা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মজা করেই তাঁর ছাত্র জবাব দেন এ দিন।

অভিষেক বলেন, ‘এর জবাব আগেও দিয়েছি আমি। সেই সময় যুবরাজ-স্যার ঠিক কী ধরনের ক্রিকেট খেলতেন, জানি না! তবে কাজটা মোটেই সহজ নয়। কোনও ব্যাটার যদি এ ভাবে ব্যাট করতে চান, তা হলে তাঁকেও বুঝতে হবে, এটা সহজ নয়। ১২ বলে ৫০ রান এমনিই করে ফেলা যায় না। এমনটা মাঝেমধ্যে ঘটে।’

তবে ব্যক্তিগত রেকর্ডের পিছনে ছোটা যে তাঁর লক্ষ্য নয়, সেটাও স্পষ্ট করেছেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ‘ব্যাটার হিসাবে আমি কোনও মাইলফলকের পিছনে ছুটি না। আমরা সব সময় দলের জন্য ম্যাচ জিততে চাই। আমি আর বিশেষ করে বৈভবও সেটাই চেয়েছিলাম। এই সিরিজের বাকি ম্যাচগুলিতেও আমরা সেই মানসিকতা ধরে রাখতে চাই।’

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিষেকের এই ইনিংস শুধু ভারতের সিরিজ জয়ের পথই প্রশস্ত করেনি, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের ক্ষমতাও আরও এক বার সামনে এনে দিয়েছে। আর অভিষেকের বক্তব্যে স্পষ্ট, এই আগ্রাসনের পিছনে রয়েছে পরিকল্পনা, প্রস্তুতি এবং দলের জন্য মরিয়া হয়ে খেলার মানসিকতা।