আসন্ন ঘরোয়া ক্রিকেট মরসুমের জন্য বাংলার সম্ভাব্য দলে রাখাই হল না অভিষেক পোড়েলকে। শুক্রবার রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা সিএবি যে সিনিয়র সম্ভাব্য দল ঘোষণা করেছে, তাতে কোথাও অভিষেকের নাম নেই। কারণ, তিনি অভিযুক্ত, বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছেন।
এক তরুণীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস ও ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া অভিষেকের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় জেলা আদালত। গত শুক্রবার তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ২৮ অগাস্ট অভিষেককে ফের আদালতে পেশ করা হবে। তাই সিএবি-র সম্ভাব্য তালিকা থেকে বাদই দিয়ে দেওয়া হল অভিষেককে।
এ দিন সাদা বলের ক্রিকেট ও লাল বলের ক্রিকেটের জন্য আলাদা দুটি সম্ভাব্য দল প্রকাশ করে সিএবি। সাদা বলের দলে রয়েছেন ২৮জন ক্রিকেটারের নাম এবং লাল বলের ক্রিকেটের দলে রয়েছে ৩৩জন ক্রিকেটারের নাম। আসন্ন মরসুমে এই সম্ভাব্য দল থেকেই বেছে নেওয়া হবে বিভিন্ন ম্যাচের জন্য চূড়ান্ত স্কোয়াড।
লাল বলের ক্রিকেটের সম্ভাব্য দলে অভিমন্যু ঈশ্বরণ, সুদীপ ঘরামি, সুদীপ চট্টোপাধ্যায়, মহম্মদ শামি, আকাশ দীপ, মুকেশ কুমার, সুরজ সিন্ধু জয়সওয়াল, ইশান পোড়েলদের নাম। সাদা বলের ক্রিকেটের সম্ভাব্য দলেও রয়েছেন এঁদের বেশিরভাগই। কিন্তু অভিষেকের নাম কোথাও নেই।
সম্ভবত এই মরসুমের জন্য অভিষেককে পরিকল্পনার মধ্যে রাখাই হয়নি। কারণ, এই কয়েকদিনের পুলিশি হেফাজত, জেল হেফাজতে থাকায় তাঁর ক্রিকেট-জীবন আপাতত স্তব্ধ। পুলিশি হেফাজতে থাকার পরে যদি জামিন পেতেন, তা হলে হয়তো বাংলা দলের অনুশীলনে নামতেন এবং বাংলার এই সম্ভাব্য দলেও হয়তো থাকতেন। কিন্তু ২৮ অগাস্ট পর্যন্ত জেলেই থাকতে হচ্ছে তাঁকে। তার পরেও জামিন পাবেন কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই এ মরসুমে তাঁকে বাংলা দলের পরিকল্পনা থেকে বাদই দেওয়া হয়েছে বলে সিএবি সূত্রের খবর।
শুধু বাংলা দলের নয় আইপিএলের দল দিল্লি ক্যাপিটালসেরও সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার ছিলেন অভিষেক। গত দুই মরসুমে অভিষেক দিল্লি ক্যাপিটালসের টপ অর্ডারের এক নিয়মিত সদস্য হয়ে উঠেছিলেন তিনি।ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়মের সুবিধা পেয়ে নিজেকে ভালো জায়গায় নিয়ে যান তিনি। আইপিএল ২০২৪-এর শুরুতে প্রথম এগারোয় তাঁর জায়গা না হলেও উদ্বোধনী ম্যাচে দিল্লির ইনিংসে গতি আনার প্রয়োজন পড়লে ৭ উইকেটে ১৩৮ রান থাকা অবস্থায় তাঁকে ব্যাট করতে পাঠানো হয়। এবং সেই ম্যাচে মাত্র ১০ বলে ৩২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেছিলেন অভিষেক।
সেই ছোট কিন্তু বিস্ফোরক ইনিংসই দিল্লি শিবিরে তাঁর জায়গা পাকা করে দেয়। তার পর আইপিএল ২০২৪-এ দিল্লির সব ক’টি ম্যাচেই খেলেছিলেন তিনি। ১৫৯.৫১ স্ট্রাইক রেটে ৩২৭ রান করেছিলেন অভিষেক এবং দলের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন।
আইপিএল ২০২৫-এ অবশ্য সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে পারেননি। ১৩টি ইনিংসে ২৫.০৮ গড়ে তাঁর সংগ্রহ ছিল ৩০১ রান। তা সত্ত্বেও তাঁর উপর আস্থা রেখেছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। আইপিএল ২০২৬-এর জন্য ৪ কোটি টাকায় তাঁকে দলে রেখে দেয় দিল্লি। কিন্তু মাঠের বাইরের এই আইনি লড়াই শেষ পর্যন্ত তাঁর ক্রিকেটজীবনে যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলা শুরু করে দিয়েছে, তার প্রমাণ সিএবি-র এই সম্ভাব্য দলেই পাওয়া গেল।
প্রসঙ্গত, গত ১১ অগস্ট কলকাতার দমদম এলাকা থেকে হুগলির মগরা থানার পুলিশ অভিষেককে গ্রেফতার করে। ওই দিনই তাঁকে চুঁচুড়া আদালতে পেশ করা হলে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার সেই হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ফের আদালতে তোলা হয় তাঁকে। কিন্তু জামিনের আবেদন মঞ্জুর হয়নি। বরং আদালত তাঁকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
মগরা থানা এলাকার বাসিন্দা ওই তরুণী বর্তমানে ভিনরাজ্যে ডাক্তারি পড়ছেন। চলতি বছরের ২৩ জুন তিনি অভিষেকের বিরুদ্ধে মগরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ, প্রায় তিন বছর ধরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েই অভিষেক তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন বলে দাবি তরুণীর। এমনকি দু’জনে একসঙ্গে বিদেশেও ঘুরতে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
তরুণীর অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে অভিষেক ধীরে ধীরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেন এবং সম্পর্ক থেকে দূরত্ব তৈরি করতে থাকেন। অভিষেকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলার তদন্ত চলছে। তবে আদালতের নির্দেশে ও সিএবি-র সিদ্ধান্তে অনিশ্চিত হয়ে পড়ল বাংলার এই তরুণ ক্রিকেটারের কেরিয়ারও।