কলকাতা ফুটবল লিগে আজ জটিল অঙ্কে খেতাব নির্ণয়ের খেলা

আইএফএ পরিচালিত কলকাতা অভিনব ফুটবল লিগে শনিবারের দিনটা সুপার বলতে পারা যায়। একই দিনে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট, ইস্টবেঙ্গল, মহামেডান স্পোর্টিং, ভবানীপুর এবং ইউনাইটেড স্পোর্টস ক্লাব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য মাঠে নামছে। অবশ্য কলকাতা ফুটবল লিগের যে ঐতিহ্য ছিল, তা ধুয়েমুছে গেছে। যে রীতিতে বর্তমান ফুটবল লিগ চলছে, তা বিশ্বে অন্য কোথাও হয় না। কেন বলা হচ্ছে সুপার সিক্সের লিগের খেলার শেষে কোন দল চ্যাম্পিয়ন হবে, তা নির্ণয় করা হবে। অবাক হতে হয়, প্রথমে গ্রুপ পর্যায়ের খেলায় ১২টি দল কোনওভাবেই ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের সঙ্গে খেলতে পারল না। প্রতিপক্ষ দলের ফুটবলাররা সবসময় চেয়েছেন, দুই প্রধানের সঙ্গে লড়াই করে নিজেদের নাম একটা ভালো জায়গায় তুলে নিতে। আবার অতীতের ছবি দেখতে গেলে দেখা গিয়েছে, নির্দিষ্ট সংখ্যক দলকে নিয়ে কলকাতা ফুটবল লিগ হয়েছে। সেই সময় তথাকথিত ছোট বা মাঝের সারির দলগুলি যেভাবে লড়াই করত তিন প্রধানের সঙ্গে, তাদের ফলাফল দেখে অনেকে অবাক হয়ে যেতেন। বড় দলগুলি সমস্যায় পড়ে যেত। কখনও তারা হার স্বীকার করেছে, আবার কখনও ড্র করে পয়েন্ট হারাতে হয়েছে। সমর্থকরা হতাশ হয়ে পড়তেন। এমনকি ছোট দলের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে হারা দলের সমর্থকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করতেন। সন্ধে গড়িয়ে যাওয়ার পরেও প্রতিপক্ষ ছোট দলের জয়ী খেলোয়াড়রা মাঠ থেকে বেরোতেই পারতেন না। শেষ পর্যন্ত পুলিশের সাহায্য নিয়ে তাঁদের মাঠ ছাড়তে হয়েছে। আবার কখনও বড় দলের ফুটবলাররা তাঁবুতে বন্দি হয়ে থাকতেন। সমর্থকদের মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের লাঠিচার্জ আবার কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়তেও দেখা গেছে। অবশ্য এখন সেই দৃশ্য আঁধারে চলে গিয়েছে। আইএফএ-র কর্মকর্তারা কোন ধারায় কলকাতা ফুটবল লিগ চালু করেছেন, তার ব্যাখ্যা তাঁরা ছাড়া কেউই দিতে পারবেন না। তাই সেই ফুটবল কলকাতা থেকে হারিয়ে গিয়েছে।

তবুও বাংলার সেরা খেলা ফুটবল নিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে উন্মাদনা এখনও রয়েছে। তাই ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান ও মহামেডান স্পোর্টিংয়ের খেলা থাকলেই কিছু সমর্থক মাঠে আসবেন। কোন প্রিয় দল এবারে লিগ চ্যাম্পিয়ন হবে, তা নিয়ে অল্পস্বল্প আলোচনা চলছে। তাই শনিবারের দিনটা সুপার আখ্যা দিলেও কোনও ক্ষতি নেই। মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট মিনি ডার্বি ম্যাচে মহামেডান স্পোর্টিংয়ের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে বারাসত স্টেডিয়ামে। ইস্টবেঙ্গল ঘরের মাঠে খেলবে সবচেয়ে দুর্বল দল কোল ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে। আর ভবানীপুর ও ইউনাইটেড স্পোর্টস ক্লাব মুখোমুখি হবে ব্যারাকপুর স্টেডিয়ামে। ইস্টবেঙ্গল ও ইউনাইটেড স্পোর্টস ২ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে অবস্থান করছে। ভবানীপুর ৩ পয়েন্ট নিয়ে লিগ খেতাব জয়ের স্বপ্ন দেখছে। আর মোহনবাগান ৪ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যে কিছুটা ভালো জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। পাঁচটা দলের কাছে একটা অঙ্ক কষা চলছে।

তবে, ইস্টবেঙ্গল ঘরের মাঠে কোল ইন্ডিয়াকে গোলের মালা পরাতে পারে। কিন্তু কীভাবে গোলের মালা পরাবে? কোল ইন্ডিয়ার দুই নির্ভরযোগ্য ফুটবলার আজাহার মল্লিক ও শেখ ফৈয়াজ চোটের কারণে খেলতে পারছেন না। এ বাদেও আরও দু’জন ফুটবলার কোল ইন্ডিয়ার হয়ে প্রথম একাদশে খেলতে পারবেন না। আজাহার ও ফৈয়াজ সবুজ-মেরুন জার্সিতে দাপিয়ে খেলেছেন, কিন্তু সেই ধারাবাহিকতা হারিয়ে ফেলায় কোল ইন্ডিয়ায় নাম লিখিয়েছেন। কোল ইন্ডিয়া ১৪ দিন বিশ্রাম পেয়েছে। কিন্তু মাত্র চারদিন অনুশীলন করে ইস্টবেঙ্গলের বিপক্ষে খেলতে নামছে। আসলে এবারে লিগ চ্যাম্পিয়নের ক্ষেত্রে গোলের পার্থক্যটা খেলা করতে পারে। ভবানীপুর লিগে যেভাবে খেলা শুরু করেছিল, তাতে অনেকেই ভেবেছিলেন,  মহামেডানের বিরুদ্ধে লড়াই করে পয়েন্ট ছিনিয়ে নেবে। কিন্তু সাদা-কালো ব্রিগেড ২-০ গোলে হারিয়ে দিয়ে ভবানীপুরকে চিন্তায় ফেলে দেয়। তবে কোল ইন্ডিয়াকে সেই ভবানীপুর ৩-০ গোলে হারিয়ে দিয়ে খেতাব জয়ের পথে এগিয়ে আসে। আর ইউনাইটেড স্পোর্টস ক্লাব দুই প্রধান ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের সঙ্গে ড্র করে লিগ খেতাবের অঙ্কটাকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। মোহনবাগান প্রথম ম্যাচে কোল ইন্ডিয়াকে ৫-১ গোলে হারালেও ধাক্কা খেতে হয়েছে ইউনাইটেডের সঙ্গে খেলা ড্র করে। আর মহামেডান স্পোর্টিং লিগ খেতাবটা হাতের মুঠোয় নিয়ে নিতে পারত, যদি ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ১ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে যদি গোল হজম না করত। তাই এবারের কলকাতা ফুটবল লিগে খেতাব জয়ের অঙ্কটা এই মুহূর্তে সাপ-লুডো খেলার মতো। ইস্টবেঙ্গল চাইছে আইএসএলে খেলা দুই-তিনজন খেলোয়াড়কে কোল ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামার। কিন্তু কোচ হাবাস খুব একটা রাজি নন তাঁদেরকে মাঠে নামাতে। তবে গুঞ্জন রয়েছে ডেভিড মাঠে নামবেন। আবার মোহনবাগান কোনওভাবেই দলকে দুর্বল করতে চাইছে না। মহামেডান স্পোর্টিংয়ের ফুটবলাররা যে খেলা উপহার দিয়ে চলেছেন, তা নিয়ে কিন্তু চিন্তা রয়েছে। সব দলের কাছেই রেফারি একটা ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়। তার জন্য ক্লাব কর্মকর্তারা রেফারিদের ব্যাপারে সচেতন থাকতে চাইছেন। কলকাতা ময়দানে রেফারির ভূমিকা নিয়ে অনেক কথা রয়েছে। আবার যখন এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়, সেখানে কিন্তু রেফারিদের ভূমিকাটা একেবারে অন্যরকম হওয়া উচিত। তাই দেখার, সুপার শনিবারের খেলায় লিগ খেতাব কোন ক্লাবে শোভা পায়?