ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা খেল ফ্রান্স। দলের অন্যতম সেরা পারফর্মার মাইকেল অলিজেকে পাচ্ছেন না কোচ দিদিয়ে দেশঁ। প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে শেষ ষোলোর ম্যাচে দেখা তাঁর হলুদ কার্ডের বিরুদ্ধে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে ফিফা। ফলে নিয়ম অনুযায়ী এক ম্যাচের জন্য নির্বাসিত থাকছেন অলিজে।
বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দেশঁ জানান, অলিজের হলুদ কার্ড প্রত্যাহারের আবেদন ফিফা নাকচ করে দিয়েছে। ফলে মরক্কোর বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে তাঁকে ছাড়াই নামতে হবে দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন অলিজে। প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচের শেষ দিকে তিনি হলুদ কার্ড দেখেছিলেন। সেই কার্ডের কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। বিশ্বকাপে ফ্রান্সের আক্রমণভাগে অলিজে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং টুর্নামেন্টের অন্যতম উজ্জ্বল ফুটবলার হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
তবে ফ্রান্সের উদ্বেগ এখানেই শেষ নয়। প্যারাগুয়ে ম্যাচে ব্র্যাডলি বারকোলা এবং মানু কোনেও হলুদ কার্ড দেখেছেন। ফলে তারা দু’জনেই এখন সাসপেন্ড হওয়া থেকে এক কার্ড দূরে রয়েছেন । অর্থাৎ মরক্কোর বিরুদ্ধে ফের হলুদ কার্ড দেখলে সেমিফাইনালে উঠলেও তাদের পাওয়া যাবে না। শিবিরে চিন্তা বাড়িয়েছে মিডফিল্ডার অরেলিয়েন চুয়ামেনির চোটও।
বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মরক্কোর বিরুদ্ধে এমনিতেই কঠিন পরীক্ষার মুখে ফ্রান্স। তার ওপর অলিজের অনুপস্থিতি দেশঁর পরিকল্পনায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে, মরক্কোও অবশ্য চোটের কারণে ফরোয়ার্ড ইসমাইল সাইবারিকে পাচ্ছে না। ফলে দুই দলই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের ছাড়াই কোয়ার্টার ফাইনালের মহারণে নামছে।
এদিকে, কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে নতুন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে ফ্রান্স। ম্যাচ পরিচালনার জন্য ফিফা সম্পূর্ণ আর্জেন্টাইন রেফারিদের প্যানেল নিয়োগ করায় সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তবে সেই বিতর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ ফ্রান্সের কোচ দেশঁ।
বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দেশঁ কটাক্ষের সুরে বলেন, “আশা করি, আমাদের ম্যাচের রেফারিরা মঁসিয়ে লেতেক্সিয়ের মতোই ভালো হবেন।” তাঁর এই মন্তব্যকে অনেকেই সাম্প্রতিক রেফারিং বিতর্কের প্রতি খোঁচা হিসেবেই দেখছেন।
মরক্কোর বিরুদ্ধে ফ্রান্সের এই হাই ভোল্টেজ ম্যাচে রেফারি থেকে শুরু করে সহকারী রেফারি, চতুর্থ অফিসিয়াল এবং ভিএআর—সব পদেই আর্জেন্টিনার কর্মকর্তাদের নিয়োগ করেছে। টুর্নামেন্টে প্রথমবার কোনও ম্যাচে একই দেশের পাঁচজন ম্যাচ অফিসিয়াল দায়িত্ব পালন করবেন। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে পক্ষপাতিত্বের আশঙ্কা তুলে প্রশ্ন তুলেছেন বহু সমর্থক।
তবে দেশঁ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি রেফারিদের দেশ নিয়ে কোনও উদ্বেগে নেই। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দায়িত্ব পাওয়া রেফারিরা যথেষ্ট পেশাদার এবং তারা নিরপেক্ষভাবেই ম্যাচ পরিচালনা করেন।
বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা মরক্কোর বিরুদ্ধে কঠিন লড়াইয়ের আগে মাঠের ফুটবলের পাশাপাশি রেফারিং নিয়েও আলোচনা তুঙ্গে। যদিও দেশঁর বার্তা পরিষ্কার—সব বিতর্ক সরিয়ে রেখে তাঁর দলের লক্ষ্য শুধুই সেমিফাইনালে ওঠা।