সচিনের সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা থেকে বিরাটের বৈচিত্র্যের জয়গান, বিন্দ্রার স্বপ্ন শিশুদের খেলাধুলার অধিকার—৮০তম স্বাধীনতা দিবসে আবেগে ভাসল ভারতের ক্রীড়ামহল।
স্বাধীনতার ৮০ বছরে দেশজুড়ে যখন উৎসবের আবহ, তখন সেই উদ্যাপনে শামিল হলেন ভারতের ক্রীড়াজগতের তারকারাও। ক্রিকেট থেকে অলিম্পিক, শুটিং থেকে হকি—সকলের বার্তায় উঠে এল স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগ, দেশের প্রতি গর্ব, ঐক্য এবং আগামী প্রজন্মের জন্য আরও শক্তিশালী ভারত গড়ার স্বপ্ন।
ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক বিরাট কোহলি স্বাধীনতা দিবসে দেশের বৈচিত্র্য এবং মানুষের স্বপ্নের কথা তুলে ধরেছেন। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা। যে স্বাধীনতা আমাদের এক করে, যে বৈচিত্র্য আমাদের পরিচয় এবং যে স্বপ্ন আমাদের এগিয়ে নিয়ে যায়, আজ সেই সব কিছুই উদ্যাপনের দিন। আসুন, এমন এক ভারত গড়ে তুলি, যা আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। জয় হিন্দ।’
অলিম্পিকে ভারতের প্রথম ব্যক্তিগত সোনাজয়ী অভিনব বিন্দ্রার বার্তায় উঠে এসেছে খেলাধুলার গুরুত্ব। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সেই স্মৃতি টেনে এনে তিনি লিখেছেন, ‘সেদিন ওখানে দাঁড়িয়ে তেরঙ্গাকে উপরে উঠতে দেখা আমি কোনও দিন ভুলব না। এই স্বাধীনতা দিবসে আমার আশা, ভারতের প্রতিটি শিশুর খেলাধুলা করার অধিকার ও সুযোগ থাকুক। কারণ, খেলা আনন্দ। খেলা স্বাধীনতা। আর প্রতিটি শিশুই এই দুইয়ের যোগ্য।’
অলিম্পিক পদকজয়ী শুটার মনু ভাকের স্মরণ করেছেন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের। তাঁর কথায়, ‘এই দিনে আমি সেই ভারতের কথা ভাবি, যে ভারতের স্বপ্ন আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা দেখেছিলেন—যে ভারতের জন্য তাঁরা লড়াই করেছিলেন, সব কিছু উৎসর্গ করেছিলেন এবং বিশ্বাস করেছিলেন, এক দিন সেই দেশ উন্নতির শিখরে পৌঁছবে।’
স্বাধীনতা শুধু উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া কোনও বিষয় নয়, তার সঙ্গে দায়িত্বও জড়িয়ে রয়েছে বলে মনে করিয়ে দিয়েছেন মনু। দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজের নিজের ক্ষেত্রে সেরাটা দেওয়ার এবং দেশের অগ্রগতিতে অবদান রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর আশা, ‘ভারত হয়ে উঠুক সমৃদ্ধ, শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ এবং অসংখ্য সম্ভাবনায় ভরা একটি দেশ’। শেষে তাঁর বার্তা, ‘আমরা যেন সব সময় তাঁদের আত্মত্যাগ এবং ভারতের প্রতি তাঁদের বিশ্বাসের যোগ্য হয়ে উঠতে পারি। জয় হিন্দ!’
ক্রিকেটের ঈশ্বর বলে পরিচিত যিনি, সেই শচীন তেন্ডুলকর অবশ্য খুব সংক্ষিপ্ত ভাবেই দেশবাসীকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একই ভাবে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের টি-২০ অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার ও ভারতের প্রাক্তন মহিলা ক্রিকেট অধিনায়ক মিতালি রাজও।
দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ করেছেন যারা, তাঁদের স্মরণ করে ভিভিএস লক্ষ্মণ লিখেছেন, ‘আসুন, স্বাধীনতার চেতনাকে উদ্যাপন করি, যাঁরা আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন তাঁদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানাই এবং আরও শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও প্রগতিশীল ভারত গড়ার লক্ষ্যে নিজেদের অবদান রেখে চলি। জয় হিন্দ!’
ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীরের বার্তাও ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু আবেগঘন—’তাঁদের আত্মত্যাগ এনেছে আমাদের স্বাধীনতা। আমাদের দায়িত্ব—ভারত। জয় হিন্দ।’
স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছায় শামিল হয়েছে বিসিসিআই, হকি ইন্ডিয়া, ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া এবং অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়াও।
উৎসবে যোগ দিয়েছে আইপিএলের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজিও। এলগিন রোডে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর বাড়ি নিয়ে একটি সুন্দর ভিডিও পোস্ট করেছে কেকেআর।
চেন্নাই সুপার কিংস লিখেছে, উঁচুতে উড়ুক তেরঙ্গা! যে স্বাধীনতা, একতা এবং চেতনা ভারতকে ভারত করে তুলেছে, তাকে উদ্যাপন করি। স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা!’
স্বাধীনতার ৮০ বছরে ক্রীড়াজগতের এই সব শুভেচ্ছাবার্তা একটাই সুরে বাঁধা—অতীতের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে, বর্তমানের ঐক্যকে শক্তি করে আগামী দিনের ভারত গড়ার স্বপ্ন।