স্মৃতির ব্যাটে নতুন ইতিহাস, টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ভারতীয় তারকা

Image: BCCI

রেকর্ড ভাঙা যেন অভ্যাসে পরিণত করেছেন স্মৃতি মন্ধানা। মেয়েদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এবার সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের মুকুট উঠল ভারতীয় ওপেনারের মাথায়। রবিবার জাপানে এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের প্রাক্তন তারকা সুজি বেটসকে পিছনে ফেলে নতুন নজির গড়লেন স্মৃতি।

ম্যাচ শুরুর আগে সুজি বেটসের রেকর্ড ভাঙতে স্মৃতির প্রয়োজন ছিল মাত্র সাত রান। তাই শুরু থেকেই তাঁর ব্যাটের দিকে নজর ছিল সকলের। অপেক্ষা করতে হল না বেশি। তৃতীয় ওভারেই বাউন্ডারি মেরে প্রয়োজনীয় রান তুলে নেন ভারতীয় দলের সহ-অধিনায়ক। সেই সঙ্গেই তৈরি হয় ইতিহাস।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ওই বাউন্ডারির পর স্মৃতির আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে মোট রান পৌঁছে যায় ৪৭৬১-তে। এত দিন এই তালিকার শীর্ষে ছিলেন সুজি বেটস। নিউজিল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়কের সংগ্রহ ৪৭৫৮ রান। অর্থাৎ তিন রান বেশি করেই নতুন রেকর্ড নিজের নামে করে নিলেন স্মৃতি।


আরও উল্লেখযোগ্য, সুজির তুলনায় কম ইনিংস খেলেই এই মাইলফলকে পৌঁছেছেন ভারতীয় তারকা। স্মৃতির প্রয়োজন হয়েছে ১৭১টি ইনিংস। সেখানে ৪৭৫৮ রান করতে সুজি বেটস খেলেছিলেন ১৭৮টি ইনিংস। ফলে শুধু রানসংখ্যার নিরিখেই নয়, দ্রুততম গতিতেও শীর্ষে উঠে এলেন স্মৃতি।

মেয়েদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এই তালিকার প্রথম তিনটি স্থানেও রয়েছে দুই ভারতীয়ের নাম। স্মৃতির পরেই রয়েছেন সুজি বেটস। তৃতীয় স্থানে ভারতীয় অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর। তাঁর সংগ্রহ ৪২৮৭ রান। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে চার হাজারের বেশি রান করা সক্রিয় ব্যাটারদের মধ্যে ভারতেরই রয়েছেন দু’জন।

সেপ্টেম্বর মাসটা স্মৃতির ক্রিকেটজীবনে আরও একটি কারণে বিশেষ হয়ে উঠেছে। টি-টোয়েন্টির এই রেকর্ডের আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ফরম্যাট মিলিয়েও একাধিক উল্লেখযোগ্য নজির নিজের নামে করেছেন তিনি। টেস্ট, এক দিনের ক্রিকেট এবং টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে মেয়েদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের পাশাপাশি সর্বাধিক শতরানের নজিরও তাঁর দখলে এসেছে।

ব্যাটিংয়ের ধরনেও স্মৃতির বৈচিত্র্য বারবার নজর কাড়ে। টেস্টে ধৈর্য ধরে ইনিংস গড়ার পাশাপাশি সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা তাঁকে আলাদা জায়গা দিয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিংয়ের গতি বদলে দলের প্রয়োজন মেটানোই তাঁর অন্যতম বড় শক্তি।

তবে ব্যক্তিগত রেকর্ড নিয়ে আপাতত বেশি ভাবতে নারাজ স্মৃতি। কারণ সামনে এশিয়ান গেমসের সোনার পদক। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে দলের শুরুটাও হয়েছে দারুণ। দুই ওপেনারের ব্যাটে পাওয়ার প্লে-তেই এসেছে আগ্রাসী সূচনা। ব্যক্তিগত মাইলফলক পেরিয়ে এখন স্মৃতির নজর দলের সাফল্যের দিকে।

এশিয়ান গেমসের সোনার লড়াইয়ের ঠিক আগে নতুন বিশ্বরেকর্ড তাই ভারতীয় শিবিরে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। আর স্মৃতির জন্য এই কীর্তি আরও একবার প্রমাণ করল—মেয়েদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিকতার নতুন সংজ্ঞা লিখে চলেছেন তিনি।