ভবানীপুরের সঙ্গে ড্র করে কোনওক্রমে মান বাঁচাল ইস্টবেঙ্গল

PIC-X

কলকাতা ফুটবল লিগে ভবানীপুর এবারে দারুণ নজর কেড়েছে। কোচ রঞ্জন চৌধুরী যেভাবে ভবানীপুরের ফুটবলারদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, তাতে যে কোনও দলের কাছে ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত সপ্তাহে শুক্রবারে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের মতো দলকে হারিয়ে শিরোনামে উঠে আসে। আর এবারে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে নেমে পয়েন্ট কেড়ে নিল ভবানীপুর।

আর এই দিনটাও সেই শুক্রবার। ছয় ম্যাচের মধ্যে টানা পাঁচটি ম্যাচ জিতে ভবানীপুরের নাম এখন সবার মুখে মুখে। তাই এদিন সবারই নজর ছিল গতবারের চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল দলকে হারাতে পারে কিনা। ভবানীপুর জয় না পেলেও শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র করে ইস্টবেঙ্গলের কাছ থেকে একটা পয়েন্ট তুলে নিল।

এবারে কলকাতা ফুটবল লিগে ভালো ছন্দেই রয়েছে ইস্টবেঙ্গল। তবুও ইস্টবেঙ্গলের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে ভবানীপুর উ্জ্জীপিত ফুটবল খেলবে, এটাই স্বাভাবিক। যে দলে আক্রমণভাগের ফুটবলার সাহিল হরিজন ও জিতেন মুর্মুর মতো ফুটবলার রয়েছেন, সেখানে ছবি পাল্টিয়ে যেতেই পারে। সাহিল ও জিতেন আক্রমণে দুরন্ত ভূমিকায় রয়েছেন। তাই এই ম্যাচেও উজার  করে খেলেছেন তাঁরা। লিগ টেবলে শীর্ষে রয়েছে ভবানীপুর। ইস্টবেঙ্গল এদিন জিততে পারলে লিগ টেবলে তারা শীর্ষে পৌঁছে যেত। ইস্টবেঙ্গলের কোচ বিনো জর্জ ছক কষে খেলার জন্য ফুটবলারদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। খেলার শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণ গড়ে তোলার চেষ্টা করে। ইস্টবেঙ্গলে যেমন বিজয় মুর্মু ও তেমনই ভবানীপুরের সাহিল হরিজনের প্রশংসা করতেই হবে। পাশাপাশি, বেশ কিছু সুযোগ লাল-হলুদ ফুটবলাররা নষ্ট করেছেন। বিরতির আগে কোনও পক্ষই গোল করতে পারেনি। কিন্তু দ্বিতীয় পর্বের শুরুতেই ভবানীপুরের শ্যামল বেসরা গোল পেয়ে যান। ২১ বছর বয়সী এই ফুটবলার অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে গোল করেছেন।


স্বাভাবিকভাবেই ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মধ্যে হতাশা দেখতে পাওয়া যায়। ৪৯ মিনিটে বিজয় মুর্মুর দিশাহীন সেন্টার থেকে কোনও গোলের সম্ভাবনা ছিল না। ৫২ মিনিটে অনন্তুর গোলে ইস্টবেঙ্গল খেলায় সমতা ফিরিয়ে আনে। ৫৬ মিনিটের মাথায় বিজয়ের ভাসানো বল যদি মনোতোষ চাকলাদার মাথা ছোঁয়াতে পারতেন, তাহলে ভবানীপুর ২-০ গোলে এগিয়ে যেতে পারত।
আবার ৭১ মিনিটে ৩০ গজ দূর থেকে ইস্টবেঙ্গলের অনন্তুর নেওয়া শট পোস্টে লাগে। ৮০ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ হারায় লাল-হলুদের সঞ্জীব ঘোষ। আবার ৮৯ মিনিটে রবি হাঁসদা যে সুযোগ পেয়েছিলেন, তা কাজে লাগাতে পারেননি। প্রসঙ্গত বলা যায়, ভবানীপুরের ফিজিও কুণাল ঘোষকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। ডাগআউট থেকে বেরিয়ে এসে এরিয়ান গ্যালারির সামনে এগিয়ে এসে দর্শকদের সঙ্গে হাতাহাতি শুরু করে দেন। তখনই রেফারি তাঁকে লাল কার্ড দেখান। খেলার শেষে ভবানীপুরের কোচ রঞ্জন চৌধুরী বলেছেন, এই ধরনের হাইভোল্টেজ ম্যাচে রেফারির আরও ভালো হওয়া জরুরি ছিল। টানা পাঁচটা ম্যাচের পর ভবানীপুরের জয়ের রথ থমকে গেল  ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে অমীমাংসিতভাবে খেলা শেষ করায়।