জমকালো বোধনেও বিতর্ক ঘরের মাঠে স্বপ্নের শুরু মেক্সিকোর, জিতলো দক্ষিণ কোরিয়াও

চার দশক পর আবারও বিশ্বকাপের আসর বসল মেক্সিকোতে। ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হল ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। যার প্রধান আকর্ষণ ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত পপ তারকা শাকিরা। এছাড়াও, নজর কাড়লো সেখানকার লোকশিল্পের প্রদর্শনী। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো-সহ ফুটবল বিশ্বের একাধিক কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব।

তবে উদ্বোধনের চাকচিক্য যতটা নজর কেড়েছে, তার চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এলো রেফারি। উদ্বোধনী ম্যাচে ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ২-০ গোলে সহজ তুলে নিলো মেক্সিকো।  কিন্তু, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ সাক্ষী থাকল তিন-তিনটে লাল কার্ডের।

ফিফা প্যানেলিস্ট ব্রাজিলিয়ান পেরেইরা ফুটবল বিশ্বে পরিচিত নাম। প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি ফিফা রেফারি। আদতে একটু কড়া রেফারি পেরেইরা এবারের উদ্বোধনী ম্যাচের দায়িত্বে ছিলেন। গত দু’টি বিশ্বকাপেও ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব বেশ দক্ষতার সঙ্গেই সামলেছেন তিনি। কাতারে ইংল্যান্ড-ফ্রান্স কোয়ার্টার ফাইনাল পরিচালনা করার দায়িত্বে ছিলেন পেরেইরা। দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থাকলেও তাঁর কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে এদিন প্রশ্ন উঠেছে। ম্যাচের ৫০ মিনিট নাগাদ মেক্সিকোর ফুটবলার ব্রায়ান গুতিয়েরেজকে বক্সের কয়েক গজ দূরে পিছন থেকে ফাউল করেন ইয়াইয়া সিটহোল। গোলমুখী ফুটবলারকে পিছন থেকে ফাউল করায় রেফারি সরাসরি লালকার্ড দেখান সিটহোলকে। এরপর, ৮২ মিনিট নাগাদ প্রতিপক্ষ ফুটবলারের  সঙ্গে অহেতুক ধাক্কাধাক্কি করে কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় দক্ষিণ আফ্রিকার তেম্বা জওয়ানে’কে। যদিও, প্রাথমিকভাবে রেফারি হলুদ কার্ড দেখিয়েছিল তাঁকে। পরে ভিএআর দেখে সিদ্ধান্তে বদল আনেন। আর, খেলার একেবারে শেষলগ্নে (৯০+২) লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হল মেক্সিকোর ডিফেন্ডার সিজার মন্টেসকে। এরফলে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের জন্য উদ্বোধনী ম্যাচে তিনজন ফুটবলার লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেন। পাশাপাশি, হলুদ কার্ড দেখলেন দুই দলের মোট তিন ফুটবলার।


এসবের মাঝেই অবশ্য ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে জিতলো মেক্সিকো। খেলা শুরুর ৯ মিনিটের মধ্যেই তাদেরকে এগিয়ে দেন হুলিয়ান কিনিয়োনেস। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ভুলকে কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল মেক্সিকো। যদিও, তাদের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

দ্বিতীয়ার্ধে শুরুর ৫ মিনিটের মধ্যে লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ইয়াইয়া সিটহোল। ফলে, দশজনে হয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে খেলার ৬৭ মিনিটে রবার্তো আলভারাদোর ক্রস থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান মেক্সিকোর হয়ে দ্বিগুণ করেন রাউল জিমেনেজ। এই প্রসঙ্গে বলা যায়, চার নম্বর বিশ্বকাপ খেলতে নেমে অবশেষে সর্বোচ্চ এই টুর্নামেন্টে প্রথম গোল করলেন তিনি। তবে, জেমিনেজের লড়াইটা খুব একটা সহজ ছিল না। ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে মাথার খুলি ভেঙে যায় তাঁর। মাঠেই জ্ঞান হারান তিনি। পরে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করা হলেও মাঠে ফেরার সম্ভবনা প্রায় ছিলই না। সেই জেমিনেজ শুধু মাঠে ফিরলেন না, বিশ্বকাপের মঞ্চে গোল করে দলের জয়ও নিশ্চিন্ত করলেন।

পাশাপাশি, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই নজির গড়লেন মেক্সিকোর গিলবার্তো মোরা। ১৭ বছর বয়সী তরুণ এই মিডফিল্ডার বর্তমানে বিশ্বকাপের ইতিহাসে কনিষ্ঠতম ফুটবলার। ইতিমধ্যেই মেক্সিকোর সর্বোচ্চ লিগে পঞ্চাশটির বেশি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ২০২৫ সালে সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসাবে মেক্সিকোর হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়। আর এদিন খেলার ৬৫ মিনিটে পরিবর্ত ফুটবলার হিসেবে মাঠে নামতেই ভেঙে দিলেন রোসাসের ৯৬ বছরের নজির।

ওপর ম্যাচে পিছিয়ে পরেও দুরন্ত জয় তুলে নিলো দক্ষিণ কোরিয়া। পিছিয়ে পরেও চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ২-১ জিতলো তারা। খেলার ৫৯ মিনিটে এগিয়ে যায় চেকিয়া। তবে সেই লিড বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৬৭ মিনিট নাগাদ হুয়াং ইন-বম দুর্দান্ত ফিনিশে সমতায় ফেরান দক্ষিণ কোরিয়াকে। এরপর ম্যাচের ৭৬ মিনিট নাগাদ চেক প্রজাতন্ত্র দ্বিতীয় গোল করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। এরপর ম্যাচের ৮০ মিনিটে কোরিয়ার হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন বেয়ম।