উন্নত ৫জি প্রযুক্তিতে বিশ্বগুরু হতে পারে ভারত, দাবি শিল্পমহলের

প্রতীকী চিত্র

উন্নত ৫জি প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারত শুধু বিশ্বের প্রথম সারির ডিজিটাল অর্থনীতিগুলির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে না, আগামী দিনে এই ক্ষেত্রে বিশ্বনেতা হিসেবেও উঠে আসতে পারে দেশ। মঙ্গলবার এমনই আশাবাদ ব্যক্ত করল সেলুলার অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া। একইদিনে ভারতী এয়ারটেল তাদের গ্রাহকদের জন্য নতুন ৫জি নেটওয়ার্ক বিভাজন প্রযুক্তি চালুর ঘোষণা করেছে।

সেলুলার অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস পি কোচ্ছর বলেন, ভারতে ৫জি নেটওয়ার্ক বিভাজন প্রযুক্তির সূচনা দেশের পরবর্তী প্রজন্মের ডিজিটাল পরিকাঠামো গঠনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি জানান, আমেরিকা, সিঙ্গাপুর, চিন এবং ইউরোপের একাধিক দেশে এই উন্নত প্রযুক্তি ইতিমধ্যেই ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই জায়গায় ভারতও দ্রুত এই প্রযুক্তিকে গ্রহণ করছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক দিক বলে মনে করছে শিল্পমহল।

কোচ্ছরের মতে, আগামী দিনে ধারাবাহিক বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন বজায় থাকলে ভারত শুধু উন্নত দেশগুলির সঙ্গে সমান তালে চলবে না, বরং উন্নত ৫জি পরিষেবার ক্ষেত্রে নেতৃত্বও দিতে পারবে।


এই মন্তব্যের মধ্যেই ভারতী এয়ারটেল ‘প্রায়োরিটি পোস্টপেড’ নামে নতুন পরিষেবা চালুর ঘোষণা করেছে। এই পরিষেবায় ৫জি নেটওয়ার্ক বিভাজন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যার ফলে অতিরিক্ত চাপের সময়েও গ্রাহকরা আরও স্থিতিশীল এবং নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক পরিষেবা পাবেন বলে দাবি সংস্থার। এয়ারটেলের বক্তব্য, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে নেটওয়ার্কের সক্ষমতাকে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ভাগ করা যায়। ফলে নির্দিষ্ট গ্রাহকদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত এবং নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ বজায় রাখা সম্ভব হবে।

সংস্থা জানিয়েছে, যাঁরা কাজের প্রয়োজনে নিয়মিত অনলাইন বৈঠক করেন, ভিড়ের মধ্যেও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ চান অথবা বিনোদনের জন্য উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এই পরিষেবা তৈরি করা হয়েছে। এয়ারটেলের কর্তা শাশ্বত শর্মা বলেন, গ্রাহককেন্দ্রিক প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের উপরেই সংস্থা সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে। তাঁর মতে, যানজটে বসে জরুরি বৈঠক করা হোক বা ভিড়ের মধ্যে অনলাইন পরিষেবা ব্যবহার— সব ক্ষেত্রেই আরও নির্ভরযোগ্য অভিজ্ঞতা দিতে সক্ষম হবে এই নতুন প্রযুক্তি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫জি প্রযুক্তির এই নতুন ধাপ ভারতের ডিজিটাল পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করবে। একইসঙ্গে শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং বিনোদনের ক্ষেত্রেও দ্রুত পরিবর্তন আনতে পারে এই প্রযুক্তি।