অরবিন্দ কেজরিওয়াল কি পারবেন দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতিক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে?

বরুণ দাস

রাজনীতিতে চমকপ্রদ প্রবেশ অরবিন্দ কেজরিওয়ালের৷ আজ থেকে ঠিক ১৩ বছর আগে লোকপালের দাবিতে অনশনরত অন্না হাজারের এই তরুণ সহযোগী কর্মজীবনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ হেলায় দূরে সরিয়ে রাজনীতিতে যোগ দেন৷ দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং দেশ ও দশের সেবাই তাঁর কাছে প্রাধান্য পেয়েছিল৷ তাই খড়গপুরের আইআইটি’র মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার টাটা স্টিলের উচ্চপদের চাকরি ছেড়ে এবং পরে আইআরএস’এ উত্তীর্ণ হয়ে আয়কর দফতরের কমিশনার পদে যোগ দেন৷

কিন্ত্ত সেসব ছেড়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অন্না হাজারের আন্দোলনে যোগ দিয়ে তিনি বলেছিলেন, এমনটা যেন না হয়, আমাদের মধ্যে কেউ ক্ষমতায় চলে আসার পর দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ল৷ তা হলে লড়াইয়ের মূল যে আদর্শ তার থেকেই বিচু্যত হতে হবে৷ কিন্ত্ত ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাস, আজ স্বচ্ছতার প্রতীক সেই তরুণ-তুর্কিতেই দুর্নীতির দায়ে তিহাড় বন্দিশালায় কাটাতে হচ্ছে৷ যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণের অপেক্ষায়৷ এখনই কোনও সিদ্ধান্তে আসা ঠিক নয় একথা বলাই বাহুল্য৷
পরে নিজেও ‘পরিবর্তন’ নামে একটি সংস্থা গড়ে সামাজিক কাজে অংশ নেন৷ ২০১৯-তে রাজনীতিতে আসেন এবং ‘এলাম দেখলাম জয় করলাম’এর মতোই দিল্লি কেন্দ্রিক রাজনীতিতে তাঁর দ্রুত উত্থান৷


আম আদমি পার্টি গড়ে (সংক্ষেপে ‘আপ’) নির্বাচনে নামেন এবং এর পরের ইতিহাস তো আমাদের সবারই কমবেশি জানা৷ লম্বা পা ফেলে রাজনীতির ময়দানে শুধু এগিয়ে চলা৷ যেখানে ব্যর্থতা নয়, শুধুই সাফল্যের স্বরলিপি এঁকে চলা৷ এরপর দিল্লির অঙ্গন ছেড়ে পাঞ্জাবের শক্ত মাটিতে পা রাখা৷
হরিয়ানার বানিয়া পরিবারের এই কৃতি সন্তানের উল্কার গতিতে এগিয়ে চলার অনবদ্য ইতিহাস আমাদেরকে কেবল মুগ্ধই করে না, প্রাণিতও করে দারুণভাবে৷ অনেকে ভেবেছিলেন, ভারতের অবক্ষয়িত রাজনীতি এবার বুঝি বাঁক নিতে চলেছে৷ যে বাঁক এক নতুন ভারতের সন্ধান দেবে৷ যেখানে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের স্বাদ পাবেন জনসাধারণ৷ প্রতিশ্রুতি নয়, কাজের দৃষ্টান্ত তৈরি হবে৷ মর্যাদা পাবে মানবসম্পদ৷ রক্ষা পাবে ভারতের গণতন্ত্র৷ এই নতুন অধ্যায়ের নায়ক হবেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল৷

যোগ্য রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে পেয়েছিলেন যোগেন্দ্র যাদবের মতো স্বচ্ছ ব্যক্তিত্বকে৷ যিনি শিক্ষা-দীক্ষায়, জ্ঞানে-প্রজ্ঞায়, আচার-আচরণে এক ব্যতিক্রমী রাজনীতিক৷ আপ-এর সম্পদ ছিলেন যোগেন্দ্র যাদব৷ যেন রাম-লক্ষ্মণ জুটি (রাম নামে আবার যেন আপত্তি করবেন না ছুঁৎমার্গী পাঠক)৷ শুরুতে এর চেয়ে ভালো আর কী আর কী হতে পারে? দিল্লির উন্নয়নে আপ-এর ভূমিকা ক্রমশ উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হয়ে উঠছিল৷ বিশেষ করে শিক্ষা আর স্বাস্থ্যক্ষেত্রে৷ যে দু’টি দফতর অন্যত্র দারুণভাবে অবহেলিত৷

মাননীয় নির্বাচকমণ্ডলীও ঢেলে সমর্থন দিচ্ছিলেন আপ’কে৷ আপ-এর জনপ্রিয়তা ক্রমশঃ বাড়ছিল৷ দিল্লির সীমানা ছাড়িয়ে আপ অন্য রাজ্যে পা রাখার প্রয়াস পাচ্ছিল৷ পাঞ্জাব তার সেরা নিদর্শন৷ সর্বভারতীয় রাজনীতির আঙ্গিনায় আপ যেভাবে এগোচ্ছিল, তা অন্য আঞ্চলিক দলগুলির পক্ষে গাত্রদাহের কারণ হয়ে উঠছিল৷ ভাজপা’রও কপালে ভাঁজ পড়ছিল৷ দুশ্চিন্তা বাড়ছিল৷ কারণ খোদ মোদি-শাহের রাজ্য গুজরাতেও আপ তার রাজনৈতিক থাবা বসাতে এগোচ্ছিল৷ এরপর কি আর চুপ থাকা যায়?

গুজরাতের পোড় খাওয়া ক্ষমতাসীন রাজনীতিকরা রীতিমতো প্রমাদ গুনলেন৷ পাঞ্জাব জয়ের পর অন্যান্য রাজ্য সহ গুজরাতের দিকে পা বাড়ানো কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না৷ ‘বড়ো বাড় বেড়েছিস ব্যাটা৷ বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়ানো? দেখাচ্ছি মজা৷’ এই ‘মজা দেখানো’র ফলেই দিল্লির আপ-মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল আজ তিহাড় জেলে বন্দি৷ কবে তিহাড় থেকে দিল্লি ফিরে আসতে পারবেন, তা কেউ জানেন না৷ আপ-এর উপমুখ্যমন্ত্রী সহ আরও কয়েকজন মন্ত্রীও জেলে রয়েছেন৷

জেলবন্দি মুখ্যমন্ত্রীর হয়ে প্রয়োজনীয় দলীয় ও প্রশাসনিক বিবৃতি দিচ্ছেন তাঁর স্ত্রী সুনীতা কেজরিওয়াল৷ প্রেসও সামলাচ্ছেন তিনি৷ মুখ্যমন্ত্রী-স্বামীর চেম্বারে বসেই৷ আপ-এ অরবিন্দ কেজরিওয়ালের পরের ধাপের কোনও নেতা-মন্ত্রী নন৷ আদালতেও পৌঁছে যাচ্ছেন তিনিই৷ আপ-এর হয়ে লড়াইয়ে শামিল স্ত্রী সুনীতা দেবী৷ আইনি মারপঁ্যাচের জটিলতায় স্বামী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মুখ্যমন্ত্রীর পদ চলে গেলে স্ত্রী সুনীতা দেবী মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসবেন, এমন একটা উষ্ণ হাওয়া দিল্লির আনাচে কানাচে ঘুরছে৷

এই ‘হাওয়া’ যে নিছক হাওয়া নয়, ধীরে-সুস্থে পরিকল্পিত পথে সবকিছু বদলে দেওয়ারও মতো, তা কিন্ত্ত এখন বেশ স্পষ্ট৷ এবং এই স্পষ্টতা থেকেই জন্ম নিচ্ছে বেশকিছু অনিবার্য প্রশ্নও৷ যে প্রশ্নগুলো স্বচ্ছতার প্রতীক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সাবেকি ভাবমূর্তিতে কালিমা লেপে দিচ্ছে৷ এই দেশের গড়পরতা আর পাঁচজন সাধারণ রাজনীতিক থেকে তাঁকে কোনওভাবেই দূরে সরিয়ে রাখা যাচ্ছে না৷ উঠে আসছে সেই বহুশ্রুত সাবেকি প্রবাদ বাক্যটিও— ‘যে যায় লঙ্কায়, সেই হয় রাবণ৷’
আপ-এর অনেক অন্ধভক্ত হয়তো প্রশ্ন করবেন, সাংবাদিকরা কি জ্যোতিষী নাকি? ফুটপাথে খাঁচাবন্দি টিয়ে পাখি নিয়ে বসা কপালে তিলক কাটা সস্তা গণৎকার? যে আগেই আপ-এর সবকিছু জেনে বুঝে বসে আছেন অরবিন্দ জায়া সুনীতা দেবীই যে স্বামীর (মুখ্যমন্ত্রীর) চেয়ারে বসবেন, তা কে বলল? এরা কি অফিসের ঠান্ডা ঘরে বসে খবর তৈরি করেন? যত্ত সব ফালতু ভবিষ্যৎবাণী! বাস্তবের সঙ্গে যার কোনওরকম সম্পর্ক নেই৷ গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ তো নয়, যেন জ্যোতিষশাস্ত্রের শিরোমণি৷

না, আপ-এর অন্ধ-ভক্তদের প্রশ্ন নিয়ে এই প্রতিবেদকের কোনও ক্ষোভ কিংবা অভিযোগ নেই৷ দলের প্রতি অন্ধ ভালোবাসা কিংবা আনুগত্য থেকে তাঁরা এমন কথা উচ্চারণ করতেই পারেন৷ যদিও এর সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই৷ যুক্তির কোনও ধার নেই৷ উদ্ভূত পরিস্থিতির কোনও সামঞ্জস্য নেই৷ কিন্ত্ত সবকিছু কি আর যুক্তির মসৃণ পথ ধরে চলে? আমাদের সবার জীবনও চলে না৷ আমাদেরসমাজ-সংসারও চলে না৷ রাজ্য কিংবা রাষ্ট্র নামক প্রতিষ্ঠান বা ব্যবস্থাপনাটিও চলে না৷ এটাই কিন্ত্ত কঠিন সত্য৷

এবার আসা যাক দিল্লির আটক আপ-মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল সম্বন্ধে৷ তিনি ভাজপা’কে ‘রাজনৈতিক সবক’ শেখাতে সমর্থ হয়েছেন একথা ঠিক৷ দিল্লি হাতছাড়া হওয়ায় ভাজপা বেশ বিড়ম্বনার মধ্যে আছে, একথাও ঠিক৷ বিশেষ করে বিধানসভায় বার বার নির্বাচনী বিপর্যয়৷ তাই তাঁকে একটা ধাক্কা দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেছিলেন ভাজপা-কর্তৃপক্ষ৷ দিয়েছেনও৷ কিন্ত্ত সেই ‘ধাক্কা’ কতটা আপ-এর গায়ে লাগলো আর কতটা ভাজপা’র গায়ে লাগল, তা বোঝা যাবে লোকসভা নির্বাচনের পরে৷

অনেকে অবশ্য আপসোস করেছেন এই ভেবে যে, যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রবীণ আন্দোলনকারী অন্না হাজরার সঙ্গে দিল্লির বুকে নজরকাড়া অনশন অবস্থান আন্দোলন করে তিনি লাইম লাইটে আসেন এবং উচ্চপদের লোভনীয় চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেন, সেই দুর্নীতির কালো চাপই তাঁর স্বচ্ছ ও সাদা গায়ে লাগলো? রাজনীতি আর দুর্নীতি কি কখনও আলাদা করা যায় না? রাজনীতি আর দুর্নীতি কি একে অপরের নিকটতম আত্মীয়? তাদের মধ্যে রক্তের সম্পর্ক? তারা কি সহোদর কিংবা সহোদরা?
কেউ অভিযোগ আনা মানেই আইনের চোখে তিনি দোষী নন৷ যতক্ষণ অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হয়৷ সুতরাং দিল্লির আপ-মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল সম্বন্ধে এখনই চূড়ান্ত কথা বলার সময় আসেনি৷ রাজনীতির ময়দানে অনেক চাপান-উতোরই চলে৷ একে অপরের গায়ে অকারণে কাদা ছুঁড়তে ব্যস্ত৷ কথার ফুলঝুড়ি রাজনীতিতে পূর্ণ৷ যা নয়, তা নিয়েই বেশি বেশি প্রচার৷ এদেশের পোড় খাওয়া রাজনীতিকদের এসব গা-সওয়া হয়ে গেছে৷ এর মধ্যে নতুন কিছু নেই একথা বলাই বাহুল্য৷

তবে যে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি নিয়ে আপ-মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল উল্কার গতিতে রাজনীতিতে এসেছিলেন, তা কি কিছুটা ম্লান হয়েছে? বাস্তব প্রেক্ষাপট কী একবার জেনে নিই৷ প্রথমত, মুখ্যমন্ত্রী হয়ে তিনি যে সাধারণ বাড়িতে উঠেছিলেন, সে বাড়ি কোথায়? সে জায়গায় পরে যে অট্টালিকা তিনি বানিয়েছেন, তা কি তাঁর জীবন ও যাপনচিত্রের সঙ্গে আদৌ মানানসই? কোথায় গেল তাঁর আগেকার জীবনের সাধারণ চালচলন? দেশের আম আদমির সঙ্গে তাঁর ফারাক বিশাল৷ কী উত্তর দেবেন তিনি?
দ্বিতীয়ত, রাজনীতিতে আসার শুরুতে যার সাহচার্য পেয়েছিলেন আপ-সহকর্মী হিসেবে সেই যোগেন্দ্র যাদবকেই বা দলে ধরে রাখতে পারলেন না কেন তিনি? ঠিক কোন কারণে উভয়ের মধ্যে সংঘাত বেঁধেছিল? কার ত্রুটি? দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ রাজনীরি স্বার্থে, রাজ্যের স্বার্থে, দেশ ও দশের সার্বিক স্বার্থে তিনি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারলেন না কেন? এই সঙ্গত প্রশ্ন তো আসবেই৷ কিন্ত্ত যোগ্য উত্তর নেই আপ-মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের কাছে৷ যোগেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদের কারণ ধোঁয়াশা৷
তৃতীয়ত, তাঁর অবর্তমানে স্ত্রী সুনীতা দেবীকে এগিয়ে দেওয়ার মধ্যে স্বজন-পোষণের কটুগন্ধ বেশ পরিষ্কার৷ উল্লেখ্য, নিজের অবর্তমানে (পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি মামলায় জেল-যাত্রাকালে) বাড়ির গোয়ালঘর সামলানো নিরক্ষর স্ত্রী রাবড়ি দেবীকে নিজের চেয়ারে বসানো নিয়ে বিহারের দোর্দণ্ডপ্রতাপ মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদের যাঁরা সমালোচনা করেন, তাঁদের সঙ্গে দিল্লির আপ-মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ফারাক কোথায়? আরজেডি’তে যোগ্য নেতা থাকা সত্ত্বেও পারিবারিক শাসন অাঁকড়ে রাখতে মরিয়া ছিলেন লালুপ্রসাদ৷

দিল্লিতেও কি এই ‘পারিবারিক শাসন’ই অাঁকড়ে রাখতে নিজের অবর্তমানে স্ত্রীকে সুনীতা দেবীকে এগিয়ে দেওয়ার নিন্দনীয় চেষ্টা? আপ-এর মধ্যে কি কোনও যোগ্য নেতা নেই? এতদিনেও তিনি পরের সারির কোনও নেতাকে সামনে আনতে পারেননি? নাকি তাঁর পথের কাঁটা বা অন্তরায় হবে মনে করে আনতে চাননি৷ নিজের স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রতীক অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে এ প্রশ্নের উত্তরও দিতে হবে৷ তা না হলে তাঁর সম্বন্ধে আর পাঁচজন রাজনীতিকদের মতোই তাঁকে ওই দলে ছুঁড়ে ফেলা হবে৷ বলাবাহুল্য, ‘দুর্নীতির অভিযোগ’ যখন উঠেছে (তা সত্য-মিথ্যে যাই হোক না কেন) তখন তা থেকে মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি থেকে দূরে থাকাই বাঞ্ছনীয় ছিল তাঁর পক্ষে৷ যেমন হাওয়ালা কেলেঙ্কারিতে নাম ওঠায় ‘বিতর্কিত’, ‘সাম্প্রদায়িক’ রাজনৈতিক দল ভাজপার বরিষ্ঠ নেতা লালকৃষ্ণ আদবানি সাংসদপদ থেকে দ্রুত ইস্তফা দিয়েছিলেন৷ এরপর আইনিভাবে অভিযোগমুক্ত হয়ে আবার নির্বাচনে লড়ে সংসদে ফিরেছিলেন তিনি৷ এই রাজনৈতিক সততা, দৃঢ়তা আর সাহসিকতা আজ কোথায়?