মোদির দল আত্মতুষ্টিতে ভুগছে, বিজেপিকে নিশানা চন্দ্রিমা ও শান্তনুর

নিজস্ব প্রতিনিধি— দেশ জুড়ে নির্বাচনের ঘন্টা বেজে গেলেও ‘মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট’ মানছে না বিজেপি, এবার মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের নিশানায় কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি৷ বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ ডাঃ শান্তনু সেন৷ এই সাংবাদিক বৈঠক থেকেই কেন্দ্রকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন চন্দ্রিমা ও শান্তনু৷ মোদীর গ্যারান্টি যে আসলে ‘জিরো গ্যারান্টি’ তা প্রমানে নেমেছে ঘাসফুল৷ সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত করতেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোদী সরকারের ব্যর্থতাকে একটি ‘সিরিজ’ এর আকারে তুলে ধরছে তৃণমূল কংগ্রেস৷

এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, বুধবার রাজ্যের আরও এক মন্ত্রী শশী পাঁজা এই সিরিজের সূচনা করেন৷ তিনি প্রমান সহ তুলে ধরেছিলেন কেন্দ্র সরকারের পাঁচটি প্রতিশ্রুতি, যা ভঙ্গ হয়েছে৷ বৃহস্পতিবার চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং শান্তনু সেন পৃথক পাঁচটি ভঙ্গ হওয়া প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন তার পরিসংখ্যানগত প্রমান সহ৷ এ প্রসঙ্গে চন্দ্রিমা এবং শান্তনু বলেন, কৃষকদের বাৎসরিক আয় দ্বিগুন করার কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী৷ সেই অনুযায়ী বছরে ১০% আয় বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা ছিল, কিন্ত্ত বাস্তবে বছরে আয় বেড়েছে ৩.৫%৷ ‘স্বচ্ছ ভারত মিশন’-এও কেন্দ্রের চূড়ান্ত ব্যর্থতা এসেছে৷ ‘ভারতমালা’ প্রকল্পেও লক্ষমাত্রার মাত্র ৩৯% সম্পূর্ণ হয়েছে, বাকিটা অধরা এমনকি অনুমোদিত অর্থের পরিমান আনুমানিক ব্যয়ের চেয়ে ৫৮% বেশি৷ ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পও সফলতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে৷ ‘উজ্জ্বলা যোজনা’ তে ১.২ কোটিরও বেশি পরিবার ২০২২-২৩ সালে কোনো রিফিল সিলিন্ডার কেনেননি৷ সুতরাং এই প্রকল্পের ব্যর্থতাও স্পষ্ট৷

চন্দ্রিমার ভাষায়, “ব্রিটিশ আমলকে হার মানিয়েছে বর্তমান অবস্থা৷” বর্তমান সমাজে অর্থনৈতিক অসাম্যতা যে চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে তার ব্যাখ্যা দিয়ে চন্দ্রিমা বলেন, বড়োলোকেরা আরো বড়োলোক হয়েছেন এবং দরিদ্ররা আরো দরিদ্র৷ বারংবার বিভিন্ন পদের অফিসারের বদলি ও অপসারণ নিয়েও সরব হন তিনি৷ “আসলে বাংলা হলো বিজেপির টার্গেট৷ তবে টার্গেট করে কোনোকিছু করা যাবেনা বাংলায়৷ “, এমনটাই বলেন চন্দ্রিমা৷


কেন্দ্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি৷ এ প্রসঙ্গে চন্দ্রিমা বলেন, “৯৫% মামলা বিজেপি বিরোধী দলগুলির৷ এই মামলাগুলিতে সফলতার হার ০.৪২%৷ ”

সম্প্রতি কেন্দ্রের ‘বিকশিত ভারত’ এর মেসেজ পাঠানো হয়েছিল হোয়াটস্যাপের মাধ্যমে৷ এটি মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট এর বিরুদ্ধ কাজ৷ সেই নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল৷ নানা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষপর্যন্ত নির্বাচন কমিশন বিজেপির এই কর্মে নিষেধাজ্ঞা জারি করে৷ এ প্রসঙ্গেই চন্দ্রিমা আক্রমণ করেন গেরুয়া শিবিরকে৷ কটাক্ষের সুর চড়িয়ে বলেন, যে মুহুর্ত থেকে নির্বাচনী নির্ঘন্ট প্রকাশিত হয় সে মুহূর্ত থেকেই মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট মানতে হয়, সেটি কি প্রধানমন্ত্রী জানতেন না? ভারত যে কতটা ‘বিকশিত’ তা জানাতে হচ্ছে দেশবাসীকে৷ আসলে বিজেপি আত্মতুষ্টিতে ভুগছে৷ পাশাপাশি কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়ার প্রসঙ্গ নিয়েও সরব হন চন্দ্রিমা৷ এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এনআইএ এর একাউন্ট ফ্রিজ হয়নি৷ এটি রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে৷ ”

চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সাংবাদিক বৈঠক থেকে ফের বিজেপিকে মনে করিয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেকের ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’ এর কথা৷ চ্যালেঞ্জ প্রদানের ১৭৫ ঘন্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরও কোনো বিজেপি নেতৃত্বের কাছ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি৷ পাশাপাশি চব্বিশের নির্বাচনের জন্য এখনো দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেনি বিজেপি৷ সে নিয়েও কটাক্ষের সুর চড়িয়েছেন চন্দ্রিমা৷