খুকির ছড়ায়
আলমগীর কবির
মা ভাবছেন খুকুমণি
করছে অনেক পড়া!
ছোট্ট খুকি অঙ্ক খাতায়
লিখছিলো কী? ছড়া!
ছড়ার মাঝে হঠাৎ করে
বাঘ দিলো এক উঁকি,
আমতা আমতা করতেছিল
তখন ছোট্ট খুকি!
বাঘ বলে কী! ভয় পেয়ো না
আমি তো নই রাগী,
তোমার ছড়ায় করতে এলাম
দুঃখ ভাগাভাগি!
ভাবছো বুঝি বনের রাজার
দুঃখ আবার কিসে?
রাজ্য শাসন করতে গিয়ে
হারাতে হয় দিশে!
আমায় দেখে পশু পাখি
সকলে হয় ভীত,
সবাই যদি এই আমাকে
বন্ধু ভেবে নিতো।
বন বনানী যাচ্ছে কমে
কষ্টে আছি টিকে,
আমার কথা তোমার ছড়ায়
রাখবে একটু লিখে?
শীত সোহাগে
চণ্ডীচরণ দাস
রাত পোহালে বাইরে এলেই থরথরিয়ে হাত কাঁপে,
ইচ্ছে করে আগুন জ্বেলে হাতটা সেঁকি উত্তাপে।
ভাল্লাগে না এমন শীতে তুলতুলে ওই লেপ খুলে,
সকাল সকাল তৈরি হতে যাবার তরে ইস্কুলে।
মন ছুটে যায়— দুপুর বেলায় গরম নরম রোদ মেখে
ঘুরে বেড়াই চিড়িয়াখানায় সিংহ জিরাফ বাঘ দেখে।
দৌড়ে বেড়াই পার্কে মাঠে বেলুন হাতে চারধারে,
ক্রিকেট ব্যাটে ছক্কা হাঁকাই দেউলি মাঠের ওই পারে।
বাবার সাথে সার্কাসেতে যাই চলে বিকাল বেলা,
হাততালি দিই জোকার দেখে, ডিগবাজি রিংয়ের খেলা।
উঠব মেতে হাজার মজায় সারাটি দিন খুব ঘুরে,
শীত সোহাগের আবেশ মেখে ঝলমলিয়ে রোদ্দুরে।
বাঁচার রাস্তা
উৎপলকুমার ধারা
শিখছি আমি অনেক কিছু
শুনছি পাখির গান
প্রজাপতির পিছু পিছু
মাখছি ফুলের ঘ্রাণ!
নদীর কাছে ছন্দ শেখা
বৃষ্টি শেখায় নাচ
রঙের আলোর পদ্য লেখা
শেখায় রঙিন কাচ!
এই প্রকৃতি দেয় শিখিয়ে
পাপড়ি মেলে ফোটা
ভোরের আলোয় পথ দেখিয়ে
শেখায় উচ্চে ওঠা!
রূপকথা নয় বলছি যেসব
নয়তো অবহেলার
সঙ্গি তো হয় হৈ-কলরব
সবার ছোট্টবেলার!
এসব কথা ফেলনা তো নয়
স্বপ্ন ভেঙে খাঁচার
তাড়িয়ে মনের সমস্ত ভয়
রাস্তা চেনায় বাঁচার!
স্কুল-ম্যাগাজিন
অচিন্ত্যকুমার চক্রবর্তী
ঋজু আঁকে মেঘ, রিমি আঁকে ঘর
তিরতিরে নদী আঁকে তীর্থঙ্কর।
মিমি আঁকে রথ, ছোটো দুটো ছেলে
বুবু আঁকে ঝটপট মারাদোনা-পেলে।
ছড়া লেখে শিবু, দিয়ে চাঁদ-তারা
ভূত নিয়ে এক পাতা লেখে অন্তরা।
পিকনিকে মজা, সাগরের ঢেউ
কবিতার ছন্দে জমা দিল মউ।
এইগুলো নিয়ে, ম্যাম নাসরিন
খুশি হয়ে বের করে স্কুল-ম্যাগাজিন।
টইটম্বুর
মুক্তি দাশ
দুই ছেলে শম্ভুর
টই আর টম্বুর।
টই থাকে বিদেশে,
বড় সাদাসিধে সে।
রুগী-মারা ডাক্তার
বলে নামডাক তার।
টম্বুর? ক্রিকেটার।
নাম চারিদিকে তার।
চারখানা ক্যাচ মিস
শেষে খেলা ডিসমিস।
শম্ভুর পায়াভারি,
দুই কৃতী ছেলে তারই!
জয়নগরের মোয়া
সুজন দাশ
নাম শুনেছি জয়নগরের মোয়া,
পাইনি স্বাদে কখনো তার ছোঁয়া!
শীতের দিনে নানা রকম সাজে,
আজও যে তার খ্যাতির বাঁশি বাজে!
নলেন গুড়ের মিষ্টি মধুর ঘ্রাণে,
সুর তোলে সে সবার প্রাণে প্রাণে!
শীত আসলে জয়নগরের মোয়া,
চায় খেতে সব, তোলেও সুখের ধোঁয়া!
কনকচূড় ধান খইয়ের জন্য লাগে,
নলেন গুড়ে ভাসায় নাকি রাগে!
পেস্তা কাজু কিসমিসও ঘি মিশে,
স্বাদ ও রূপে দেখায় তারে দিশে।
শীত এলে এই জয়নগরের মোয়া,
তোলে দেখি সবার প্রাণে ধোঁয়া!
ছন্দ সুরে সবাই মালা গাঁথে,
সুখ্যাতি তার দেয়ও সুবাস পাতে।