রাতের ছবি
সঞ্জয় কর্মকার
হঠাৎ রাতে ঘুম ভেঙে যায়,
জানলা দিয়ে তাকিয়ে দেখি
সবাই তো নেই ঘুমের ঘোরে
ঐ উড়ে যায় এক জোনাকি!
অনেক দূরে আকাশ জুড়ে
ফুটছে তারা নিঝুম রাতে!
পাতার নূপুর বাজছে নাকি?
বাতাস ছুটছে কোন দিশাতে?
সেই বাতাসে মেঘ সরে যায়;
চাঁদটা তখন জ্যোৎস্না ঢালে,
আলো এবং আঁধার নিয়ে
গড়ছে ছবি তাল-তমালে।
সেই ছবিটা মনের কোণে
সংগোপনে রাখছি এঁকে,
এমন ধারা কত ছবিই উঠছে গড়ে—
খোঁজ রাখে কে?
বসন্ত
অরুণ গুপ্ত
শীত নিচ্ছে বিদায় এবার
বসন্ত সমাগত
কোকিল যারা নীরব ছিল
ডাকছে ক্রমাগত।
গাছে গাছে নতুন পাতা
আমের গাছে মুকুল
ঘরে বসেই পাচ্ছি ঘ্রাণ
মন করে আকুল।
বসন্তের বাতাস যেন
বড়ই আপনভোলা
শরীর জুড়ায়, জুড়ায় প্রাণ
মনকে দেয় দোলা।
জবর শীত
দীপঙ্কর নন্দী
শীতের চোটে ঠকঠকানি
লাগছে দাঁতে দাঁত
তার উপরে ঠাণ্ডা হাওয়া
তাইতে কুপোকাত,
যতরকম শীতের পোশাক
জ্যাকেট টুপি মোজা
সব চাপিয়ে শরীরখানা
নিজের কাছে বোঝা,
ফাঁকফোকরে যদি আবার
হাওয়া ঢুকে পড়ে
সেই কারণে উত্তেজনায়
কিছুটা নড়বড়ে,
যদিও জানি ঠাণ্ডা লেগে
বাধতে পারে রোগ
সেসব ভুলে জমিয়ে ঠাণ্ডা
করছি উপভোগ।
রাতের শেষে
চণ্ডীচরণ দাস
হিমঝরানো রাতের শেষে
সূয্যি যখন উঠল হেসে
লাল টুকটুক রঙিন বেশে
মুখ বাড়িয়ে পুবে,
চাঁদ বেচারা ডাইনে সরে
পুঁচকে তারার হাতটা ধরে
অমনি গেল ঝপাং করে
আকাশপারে ডুবে৷
শুকতারাটা হাত নাড়িয়ে
সুয্যিমামার সামনে গিয়ে
বলল কেঁদে চোখ ভাসিয়ে—
নাও না আমায় সাথে৷
সূয্যি বলে— রাতের বেলা
করলি তো তুই অনেক খেলা,
পড় ঘুমিয়ে, আসবি আবার
জোছনাভরা রাতে৷
খুকুমণির জন্মদিন
তপন কুমার বৈরাগ্য
টিয়া রে তুই নাচিস বুঝি
ডালিম গাছের ডালেতে,
হচ্ছে মনে নৃত্য করিস
দাদরা কার্ফা তালেতে।
খুকুমণির জন্মদিনে
আসবে ওরে টুনটুনি,
সঙ্গে আনিস বাজাবি তুই
তোর কেনা সেই ঝুনঝুনি।
ঝিলিকবাতি উঠলে জ্বলে
পালন হবে জন্মদিন,
সোনার নূপুর পরবে পায়ে
শুনবি ওরে বাজছে বীণ।
আমন্ত্রিত পশুপাখি
একসঙ্গে আসবে তাই,
মিষ্টি মিঠাই আনবে বাবা
আনন্দের আজ সীমা নাই।
সারাটাদিন উড়বে বেলুন
রঙিন পোশাক খুকুর গায়,
খুশির জোয়ার চারিদিকে
দেখবি যদি আয়রে আয়।
মকর পরব
স্বরূপ মাজি
কনকনে শীতে আমরা
আগুন পোয়াই গোল করে
নতুন জামা পরে সবাই
পুজো দিতে ভিড় করে।
পিঠে পুলির ধূম লেগেছে
আমার ছোট্ট গাঁয়ে
খেজুর গুড়ের সুগন্ধেতে
মনটা গেছে ভরে।
ভরদুপুরে মাংস দিয়ে
খেতে বসি গোল করে
নলেন গুড়ের পায়েস পেলে
মনটা আরো যায় ভরে।
সারাটা দিন আনন্দেতে
একসঙ্গে কাটাই
এই দিনেরই অপেক্ষাতে
সবাই থাকি তাই।
বই
বিভাস গুহ
অবসরে কাজের ফাঁকে
বইয়ের সাথে রই
বই যদি রয় পাশে আমার
একলা আমি নই।
বই-ই শেখায় ভালো মন্দ
আদর্শ ন্যায় নীতি
দূর করে দেয় হৃদয় থেকে
শঙ্কা ভয় ও ভীতি।
অন্ধকারে জ্বালায় আলো
দুঃখ কষ্টে আশা
বইয়ের প্রতি জেগে উঠুক
সবার ভালোবাসা।