কবিতা গুচ্ছ

কল্পচিত্র

উপহার
রবিন কুমার দাস

নয়কো শ্রাবণ, বর্ষা প্লাবন
নয়কো দেখার ভুল,
বসন্ত আজ করছে বিরাজ
ফুটিয়ে গাছে ফুল।

ভাঙছি আগল, হচ্ছি পাগল
দেখেই চক্ষু স্থির,
ঋতুরাজের এমন সাজে
নত হল শির।


খুলেছি দোর, বসন্ত ভোর
গাছগুলো সব হাসে,
দেখছি দোলায়, মনটা ভোলায়
শিমুল পলাশ ভাসে।

আমার দেশের বছর শেষের
কী অপরূপ দৃশ্য,
কৃষ্ণচূড়ায় আগুন ঝরায়
ফুল ফুটিয়ে নিঃস্ব।

গাছ-গাছালি পাখ-পাখালি
যায় না কিছুই ভুলে,
সময়মত ঠিক উপহার
দেয় সে তোমায় তুলে।

 

প্রাণের প্রাণে জীবনস্নানে
কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়

আলোয় আলো রাতের তারা
কী খুশি সব অথই পাড়া
ঘুমের থেকে ওঠার পরে
সবাই থাকুক অশ্রুহারা
চোখের কোণে আলো আশায়
ফুটে উঠুক ভালোবাসায়
নিদ কেটে যাক জাগরণে
বর্ণবহুল কী ইশারা।
এই তো জানি বাঁচার মানে
ছন্দে থাকা অশেষ গানে
অলকানন্দা ছুটে চলা
নির্মল এক স্রোতধারা।
ঝড়ের পরে আপন ঘরে
ছুটে চলুক প্রাণের সাড়া।
তোমার হৃদয়কথা গোপন ব্যথা
এঁকে চলা তরুলতা
দু’হাত ভরে কুড়িয়ে নেয়া
ফুল যতসব এ মনকাড়া
ও সে প্রাণের প্রাণে জীবনস্নানে
আকাশপানে সবুজ চারা।

 

হাইরাইজে সানরাইজ
বিকাশকলি পোল্যে

রোদ আসে না আমার ঘরে
রোদ আসে না পাড়ায়
সূয্যিমামার আলো উত্তাপ
হাইরাইজে হারায়।

শীতের সময় সূয্যিমামা
হাইরাইজে থাকে
আলোর কিরণমালা দিয়ে
আলপনাটি আঁকে।

হাইরাইজের অলস ছায়া
বেড়ার ঘরে পড়ে
শীত তখনই দুই বাহুতে
জাপটে এসে ধরে।

শীতের চোটে কেঁপে উঠি
থর থর থর থর
সূয্যিমামার কাছে তখন
আমরা সবাই পর।

সূয্যিমামার পাই না দেখা
শীতের ঋতু এলে
শীত ফুরোলে তখন আবার
দেখাটি তার মেলে।

 

গোবর চুরি
রাণা চট্টোপাধ্যায়

ঘোষেদের বাড়ি, গোবর চুরি,
শুনে তাজ্জব হলাম রাতে,
চোর বাছাধন পড়েছিল ধরা
গোবরের বস্তা-সহ হাতেনাতে!

চারখানা গরু, খান দুই মোষ,
খোলা উঠোনেই ছিল বাঁধা,
পাঁচিল টপকে চোর আসতে,
রাতে দেখে ফেলে বড় দাদা।

গোবরের নাকি চাহিদা ভীষণ
নতুন চুল গজায় মাখলে টাকে,
ও পাড়ার ঘনা, সেদিন ফোনে
এ কথা বলছিল যেন কাকে!

শুনেছি আমি গোবরের গুণ,
মাখলে হাত পা হয় বেশ ফর্সা,
পূজা পার্বণেও গোবরের জয়,
সবেতে গোবর আজও ভরসা।

 

পাকা ধানের গন্ধ
জহিরুল হক বিদ্যুৎ

ধানের ক্ষেতে ঢেউয়ে ঢেউয়ে
অনুভূতির গান,
হিমেল হাওয়ায় উদাস মনে
পাই সবুজের টান।
হলুদ ধানের শীষের ছোঁয়া
বাড়ায় স্বপ্ন-ধ্যান,
জীবন মানেই সরল পথের
নরম মাটির জ্ঞান।
ধানের ক্ষেতে ভোরের আলো
জাগায় মন-প্রাণ,
শিশিরফোঁটায় রৌদ্র হাসে
গায় আগামীর গান।
ঝিঁঝিঁ ডাকে সন্ধ্যাবেলায়
বহে শীতল হাওয়া,
মাটির গন্ধ বাঁচতে শেখায়
পুরায় মনের চাওয়া।

 

শিশুর কথা
তপনকুমার বৈরাগ্য

ছোট্ট শিশু ফুলের মতন
নিতে হবে যত্ন,
খোকাখুকুর মায়ের কোলে
এক একটা সব রত্ন।

হিংসা যেন রয় না মনে
পাবে ফুলের গন্ধ,
বিভেদ নিয়ে সমাজেতে
থাকবে কেন বন্ধ।

মানবসেবার বিকল্প নেই
শিশুরা আজ শিখবে,
সৃষ্টি-সেরা মানুষ হবার
এমন সত্য লিখবে।

রাম রহিমের নেই তো তফাৎ
এই কথাটা জানবে;
একই গাছের দুটি কুসুম
মনে প্রাণে মানবে।

শিশুর মনে নহে তো বিষ
দিতে হবে আলো,
তবেই জেনো পৃথিবীটা
থাকবে বড় ভালো।