সাইবার প্রতারণার ফাঁদে যুবক, খোয়ালেন ১ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা, গ্রেপ্তার তরুণী

Photo: File photo

নিষিদ্ধ চিনা অ্যাপের ভারতীয় সংস্করণের মাধ্যমে যুবকের কাছ থেকে টাকা হাতানোর অভিযোগ। ওই অ্যাপের সাহায্যে শহরের এক যুবকের কাছ থেকে ১ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা হাতানোর অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ পাওয়ার পরেই বিমানসেবিকা কোর্সের ওই ছাত্রীকে রবিবার পুলিশ গ্রেপ্তার করে। উত্তর শহরতলিতে তার বাড়ি থেকে পূর্ব কলকাতার মানিকতলা থানার আধিকারিকরা ওই তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই তরুণী উত্তর শহরতলির নামী স্কুল ও কলেজে পড়ত। কলেজ থেকে পাশ করার পর বিমানসেবিকা কোর্সে তরুণী ভর্তি হয়। এর মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই তরুণীর চন্ডীগড়ের এক যুবতীর সঙ্গে পরিচয় হয়। তাঁর রেফারেন্সে ওই সেক্সটরশন অ‌্যাপটিতে এজেন্ট হিসাবে ওই তরুণী যোগ দেয়। সেই অ্যাপেই মানিকতলা এলাকার যুবকের সঙ্গে অভিযুক্ত ছাত্রীর পরিচয় হয়।

জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবকের কাছে নিজেকে ‘অনু’ বলে পরিচয় দিয়েছিল। ওই অ্যাপেই ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে কথোপকথন শুরু হয়। এরপর শুধু হয় ভিডিও চ‌্যাট। সব ক্ষেত্রেই সেই ভিডিওর ‘লাইভ স্ট্রিমিং’ করা হয়েছিল। ভিডিও-য় যে অশ্লীলতা দেখানো হয়, তার ভিত্তিতে কমেন্ট ও লাইক পড়ে। অ‌্যাপের যে সদস‌্যরা এই ভিডিওর সরাসরি সম্প্রচার বা ‘লাইভ’ দেখেন, তাঁদের টাকা দিতে হয়। এবার সেই তরুণী এজেন্টরা ফোনের বিপরীতে থাকা ব‌্যক্তিটিকে সেক্সটরশন শুরু করে।


অভিযোগ, উত্তর শহরতলির ওই তরুণী সেই অশ্লীল ভিডিও রেকর্ড করে। এরপর সে যুবককে ওই অশ্লীল ভিডিও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে দেওয়ার হুমকি দিতে শুরু করে। এভাবেই যুবককে ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে ১ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় তরুণী। তবে অভিযুক্ত এখানেই থামেনি। হুমকি দিয়ে যুবকের কাছ থেকে আর টাকা চায় ওই তরুণী। অভিযুক্ত যুবক বুঝতে পারেন তিনি ফাঁদে পড়েছেন। এরপরেই তিনি মানিকতলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে ওই অ‌্যাপ ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ‌্যমে তদন্ত শুরু করে। জানা গিয়েছে,  বিভিন্ন সোশাল মিডিয়ায় বিভিন্ন নাম ব‌্যবহার করত ওই তরুণী। পুলিশ তরুণীর ছবি খতিয়ে দেখে ও মোবাইলের সূত্র ধরে তাকে শনাক্ত করে। কলকাতা ও এ রাজ্যে তার মতো আরও কতজন এজেন্ট রয়েছে, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে। তাদের খোঁজে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, একটি আন্তঃরাজ‌্য চক্র ওই নিষিদ্ধ চিনা অ‌্যাপের ভারতীয় সংস্করণ তৈরি করেছে। টাকা দিয়ে ওই অ‌্যাপে যোগ দেওয়া যায়। সারা দেশের বহু যুবক ও যুবতী ওই অ‌্যাপে যোগ দিয়ে থাকেন। সারা দেশ জুড়ে তরুণ ও তরুণীরা এজেন্ট। তরুণরা টার্গেট করে মহিলাদের। অ‌্যাপে দেখা গিয়েছে, অনেক মহিলা, যাঁদের বয়স একটু বেশি, তাঁরা তরুণদের সঙ্গে চ‌্যাটে ঘনিষ্ঠ হন। সেই সুযোগ নিয়ে ওই মহিলাদের অশ্লীল ভিডিও তুলে রেখে তাঁদের হুমকি দিয়ে সেক্সটরশন করা হয়। যেখানে এজেন্টরা তরুণী, সেখানে তারা টার্গেট করে যুবকদের।