১৩ বছর পর মহাকরণে প্রশাসন ফেরানোর উদ্যোগে ধাক্কা! জায়গার অভাবে প্রতীকী সচিবালয় হয়েই থাকবে রাইটার্স?

তবে কি শেষ পর্যন্ত প্রতীকী সচিবালয় হয়েই থেকে যাবে ঐতিহাসিক মহাকরণ? রাজ্যে সরকার বদলের পর ১৩ বছর বাদে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে প্রশাসনের মূল কাজকর্ম ফিরিয়ে আনার ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সংস্কারের কাজ এগোতেই সামনে এসেছে বড় বাধা। প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের কাজের পরিধি যে ভাবে বেড়েছে, তাতে সব দফতরকে ফের মহাকরণে ফিরিয়ে আনা কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করছেন আধিকারিকদের একাংশ।

২০১৩ সালে সংস্কারের জন্য মহাকরণ থেকে রাজ্য সচিবালয় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল নবান্নে। দীর্ঘ ১৩ বছর পর নতুন সরকারের নির্দেশে ফের রাইটার্স বিল্ডিংয়ে প্রশাসনিক কাজকর্ম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রথম পর্যায়ে মুখ্যমন্ত্রী-সহ ছ’জন মন্ত্রীর জন্য ঘর প্রস্তুত করেছে পূর্ত দফতর।

শুধু মন্ত্রীরাই নন, মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়, মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজির জন্যও আলাদা কক্ষ তৈরির কাজ হয়েছে। দুর্গাপুজোর আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ ছ’জন মন্ত্রীর ঘর প্রস্তুত করা হয়। তালিকায় রয়েছেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার। যদিও এখনও কোনও মন্ত্রী নিয়মিত ভাবে মহাকরণে বসতে শুরু করেননি।


কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ের কাজ শুরু করতে গিয়েই সমস্যার মুখে পড়েছেন পূর্ত দফতরের আধিকারিকরা। তাঁদের বক্তব্য, গত ১৩ বছরে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরের কাজের পরিধি অনেকটাই বেড়েছে। সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো মহাকরণে নেই। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর সম্পূর্ণ সচিবালয়ও সেখানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বিষয়টি ইতিমধ্যে পূর্তমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে।

বর্তমানে নবান্নের ১৪ তলা জুড়ে রাজ্য সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের কাজকর্ম চলে। সেই বিপুল প্রশাসনিক পরিকাঠামো পুরনো মহাকরণে স্থানান্তরিত করা কার্যত অসম্ভব। একই ভাবে নব মহাকরণের বিভিন্ন তলায় থাকা শ্রম, বিদ্যুৎ, আবাসন, ক্রীড়া ও সমবায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলিকেও সেখানে ফিরিয়ে আনার জায়গা নেই।

শুধু তাই নয়, শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, পূর্ত, জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পঞ্চায়েত এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মতো বড় দফতরগুলি বর্তমানে সল্টলেক ও নিউ টাউনে বিস্তীর্ণ পরিসরে কাজ চালাচ্ছে। ফলে সংস্কার করে মহাকরণকে নতুন করে সাজানো হলেও এই সব দফতরের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো সেখানে তৈরি করা সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন আধিকারিকরা।

এই পরিস্থিতিতে মহাকরণকে পূর্ণাঙ্গ সচিবালয়ের পরিবর্তে প্রতীকী সচিবালয় হিসেবে ব্যবহারের ভাবনা তৈরি হয়েছে প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে। এক আধিকারিকের বক্তব্য, মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজির বসার ব্যবস্থা হয়েছে। পুলিশের ডিজির বৈঠকের জন্য একটি সম্মেলন কক্ষও তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু জায়গার অভাবে মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব কিংবা স্বরাষ্ট্রসচিবের পৃথক বৈঠকের ঘরের ব্যবস্থা করা যায়নি। ফলে সেখানে পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাজকর্ম চালানো কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার বলেন, সরকার যে ভাবে নির্দেশ দেবে, সেই অনুযায়ী কাজ করবে তাঁর দফতর। মহালয়ার মধ্যে ছ’জন মন্ত্রীর বসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ ছিল। সেই মতো মন্ত্রীদের পাশাপাশি মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজির কক্ষও প্রস্তুত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সেখানে বসা শুরু করলেই বাকি মন্ত্রীরাও কাজ শুরু করবেন বলে জানান তিনি।

তবে মহাকরণ এখনও এমন অবস্থায় পৌঁছয়নি, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সম্পূর্ণ সচিবালয় নিয়ে স্থায়ী ভাবে কাজ করতে পারবেন। অন্য মন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পূর্তমন্ত্রী। গোটা সচিবালয় আদৌ মহাকরণে ফিরিয়ে আনা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও সরকারের তরফে কোনও চূড়ান্ত নির্দেশ আসেনি। ফলে ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংয়ে প্রশাসনের প্রত্যাবর্তন শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তবায়িত হয়, এখন সেটাই দেখার।