লিওনেল মেসি আবার কলকাতায় ফিরতে পারেন। এবার শুধু ঘুরতে নয়, মাঠে নামারও সম্ভাবনা প্রবলভাবে বেড়েছে। শতদ্রু দত্তের উদ্যোগে এই আয়োজনের কথা শোনা যাচ্ছে। ভারত ছাড়াও মেসির বাংলাদেশে যাওয়ার কথাবার্তাও চলছে।
বিশ্বকাপের পরই এলএম টেনের (মেসির) সঙ্গে নতুন চুক্তি হতে পারে। তারপরেই জানা যাবে কবে কোথায় খেলা হবে। যদিও এখনো মেসির কলকাতায় আসা নিয়ে অফিসিয়াল ঘোষণা হয়নি। শেষবার মেসির কলকাতা সফর নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছিল। তখন অনেক মানুষ মাঠে ঢুকতে পারেনি, মেসিকেও ঠিকমতো দেখা হয়নি। সেই আক্ষেপ থেকেই আবার তাঁকে কলকাতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে অনেকে বলছেন। ২০১১ সালে যেমন একটা ম্যাচ হয়েছিল, এবারও একটা ম্যাচ আয়োজন হতে পারে।মানে কলকাতার সমর্থকদের সামনে মেসি আবার খেলবেন, এমনটাই আশা।
কবে মেসি আসবেন, সেটার দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ইন্টার মায়ামির প্রাক-মরসুম প্রস্তুতির জন্য ভারত আর বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা আছে। মেসি তার দলের সঙ্গেই আসবেন। তবে প্রস্তুতি কবে থেকে শুরু হবে, সেটা এখনও ঠিক হয়নি, তাই সফরের সঠিক সময় জানা যাচ্ছে না। শতদ্রু দত্ত আমেরিকায় গিয়েই মেসির টিমের সঙ্গে কয়েকবার আলোচনা করেছেন। দু’পক্ষের মধ্যে ইতিবাচক কথা হয়েছে, এখন মেসিভক্তরা নিশ্চয়ই আশায় থাকতেই পারেন।
গত ডিসেম্বরে মেসি ভারতে এসে কলকাতা, হায়দরাবাদ, মুম্বাই আর দিল্লি ঘুরেছিলেন। পরে অনন্ত অম্বানীর নিমন্ত্রণে বানতারা গিয়েছিলেন। কলকাতার ক্ষেত্রেই বিশৃঙ্খলা হয়েছিল। অরূপ বিশ্বাস ঘনিষ্ঠ অনেকেই মাঠে ঢুকে পড়েন, এত ভিড় হয় যে নিরাপত্তা কর্মীরা সামলাতে পারেননি। ধাক্কাধাক্কিতে বিরক্ত হয়ে মেসি যুবভারতী ছেড়ে দেন। অনেক দর্শক গ্যালারিতে বসেও তাঁকে দেখতে পাননি। মেসি বেরিয়ে যেতেই ক্ষুব্ধ ফুটবলপ্রেমীরা গ্যালারিতে ভাঙচুর করেন। ঘটনা এতটাই বড় হয় যে, অরূপ বিশ্বাসকে পরে ইস্তফা দিতে হয়। অনেকে বলেন, সেই ঘটনার প্রভাবেই পরে বিধানসভায় তৃণমূলের হার হয়।
অবশ্য কলকাতার বাইরে বাকি শহরগুলোতে সবকিছু ঠিকঠাক হয়েছিল, মেসিও বেশ উপভোগ করেছিলেন। দিল্লির অনুষ্ঠানে তিনি আবার এখানে ফিরে আসার ইচ্ছেও জানিয়েছিলেন। কলকাতার ফুটবল ভক্তদের কাছে এই খবর খুশিরই, কারণ এবার হয়ত সেই অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। আর এটা যদি সত্যিই হয়, তাহলে কলকাতা তথা বাংলার মেসিপ্রেমীরা নিজের স্বপ্নের নায়ককে ফের চোখের সামনে দেখতে পাবেন।