প্রতারকের ফাঁদে পা দিয়ে মাথায় হাত বৈশালির

Pic Source- SNS

প্রতারকের ফাঁদে পা দিয়ে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা খোয়ালেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক ও জগমোহন ডালমিয়ার কন্যা বৈশালী ডালমিয়া। ঘটনায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা এলাকা থেকে শামসুদ্দিন জমাদার নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেহালা থানার বিএল সাহা রোডে বৈশালী ডালমিয়ার একটি বাড়ি রয়েছে। সেই সম্পত্তির মিউটেশন এবং বকেয়া সম্পত্তি কর মেটানোর জন্য তিনি প্রণব কয়াল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ, প্রণব নিজেকে কলকাতা পুরসভার কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে দাবি করেন যে তিনি মিউটেশন এবং বকেয়া কর সংক্রান্ত সমস্ত কাজ করে দিতে পারবেন। এই কাজে তিনি রোহিত বাগ ও শামসুদ্দিন জমাদারকে যুক্ত করেন বলেও অভিযোগ।

এরপর প্রতারকরা বৈশালী ডালমিয়াকে জানান, মিউটেশন ও বকেয়া কর বাবদ সরকারি দপ্তরে ৪ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা জমা দিতে হবে। তাঁদের কথায় বিশ্বাস করে ওই টাকা তুলে দেন বৈশালী। অভিযোগ, বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য তাঁকে সরকারি ওয়েবসাইটের নামে ভুয়ো ই-চালান এবং জাল নথিও দেওয়া হয়।


প্রথমদিকে কোনও সন্দেহ না হলেও পরে রসিদ ও নথিতে অসঙ্গতি নজরে আসে। এরপর বৈশালী ডালমিয়া সরাসরি ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে গিয়ে বিষয়টি যাচাই করেন। সেখানেই প্রকাশ্যে আসে প্রতারণার ঘটনা। তদন্তে জানা যায়, পুরসভার তহবিলে ৪ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার পরিবর্তে মাত্র ১০০ টাকা জমা করা হয়েছে। বাকি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসার পর বৈশালী প্রণব কয়ালের কাছে টাকা ফেরত চান। অভিযোগ, প্রণব ৬৫ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে এরপর সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে গা-ঢাকা দেন।

এরপর গত ১৫ জুন বৈশালী ডালমিয়া বেহালা থানায় প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশনের সূত্র ধরে শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলার ধোয়াঘাটা বাজার এলাকা থেকে শামসুদ্দিন জমাদারকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশের অনুমান, এই প্রতারণার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে। ভুয়ো ই-চালান ও জাল নথি তৈরির নেপথ্যে বড় কোনও চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মূল অভিযুক্ত প্রণব কয়ালের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।