আবারও বড় পদক্ষেপ করল লালবাজার। শাস্তির মুখে পড়তে হলো কলকাতা পুলিশের দুই ডেপুটি কমিশনারকে। সাসপেন্ড হলেন ডিসি নর্থ-৩ বিধান সাহা এবং ডিসি পোর্ট-২ পার্থপ্রতিম দাস। সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্যের জেরে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিল লালবাজার বলে জানা গিয়েছে। কলকাতা পুলিশের নগরপাল অজয় নন্দা এই নির্দেশিকায় সই করেছেন বলেও লালবাজার সূত্রে খবর।
লালবাজার সূত্রের খবর, রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরোধিতা করে একটি ‘বিতর্কিত’ ভিডিও পোস্ট করেছিলেন কলকাতা পুলিশের ডিসি পোর্ট-২ পার্থপ্রতিম দাস। একই অভিযোগ কলকাতা পুলিশের ডিসি নর্থ বিধান সাহার বিরুদ্ধেও ওঠে। কিছুদিন আগেই কলকাতা পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে কমিশনার অজয় কুমার নন্দা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন, পুলিশ আধিকারিকরা যেন সমাজমাধ্যমে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বদা সতর্ক থাকেন। কারণ প্রশাসনের পক্ষে কোনও ভুল বার্তা গেলে সেটা সমাজের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।
সমাজমাধ্যম ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও সেটা মানেননি এই দুই ডিসি বলে অভিযোগ। লালবাজার সূত্রে খবর, ২০২৫ সালে সোশ্যাল মিডিয়াতে বির্তকিত কিছু পোস্ট করেছিলেন এই দুই পুলিশ অফিসার। ওই পোস্ট তখন লালবাজারের নজরে আসেনি। সম্প্রতি দুই পুলিশ অফিসারের পুরনো সেই পোস্ট নজরে আসে। পুলিশ কমিশনারের নির্দেশের পরেও নজরদারি চলছিল। এতকিছুর পরেও দুই ডিসির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠল। তাই দুই পুলিশ কর্তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
তাছাড়া মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বলেছিলেন, তৃণমূলের আমলের মতো পুলিশের হাত-পা বাঁধা থাকবে না। অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করতে পারবেন। রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও কোনও অশান্তি বা গোলমালের ঘটনায় পুলিশকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। পরিস্থিতি অনুযায়ী ‘ডু ইট নাউ’ নীতি মেনে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। আর সেই স্বাধীনতার অপব্যবহার করেছেন এই দুই পুলিশকর্তা। বারুইপুরকাণ্ডের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, পুলিশের কাজে ১ শতাংশ শিথিলতা থাকলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। সেটাই এবার করা হলো। অর্থাৎ কথা অনুযায়ী কাজ হয়েছে। রাজ্যে পালাবদলের পর রাজ্যে ‘আইনের শাসনের প্রতিষ্ঠা’য় পুলিশকে ‘ফ্রি হ্যান্ড’ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।