বিপাকে ‘পাথর সম্রাট’ টুলু মণ্ডল, মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি

Tulu Mondal Photo-SNS

বিপাকে ‘পাথর সম্রাট’ টুলু মণ্ডল। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর চ্যালেঞ্জ করে করা মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। ফলে মামলাটি ফের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র বি ঘুগের কাছে ফিরে গিয়েছে। পরবর্তী সময়ে কোন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হবে, তা ঠিক করবেন প্রধান বিচারপতিই।

গত ২৮ জুলাই বীরভূমের দেউচা এলাকা থেকে টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় নগদ সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং প্রায় ১৫ কেজি সোনা। সেই ঘটনার পর থেকেই তদন্তকারীদের নজরে টুলু। যদিও বর্তমানে তিনি কোথায় রয়েছেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

ইতিমধ্যেই টুলুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। সেই পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ করে রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। মামলাটি ওঠে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে। তবে টুলুর আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি। সিউড়ির নিম্ন আদালতের নির্দেশ মেনে তাঁকে হাজিরা দিতে হবে বলেও জানায় হাই কোর্ট।


এর পর ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ফের হাই কোর্টে আবেদন করেন টুলু। মামলাটি প্রথমে বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে ওঠে। কিন্তু বিচারপতি চন্দ মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। পরে মামলাটি যায় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের কাছে। এবার তিনিও জানিয়ে দেন, মামলাটির শুনানি তিনি গ্রহণ করবেন না। ফলে মামলাটি ফের প্রধান বিচারপতির কাছে ফিরে যায়।

এক সময় মহম্মদবাজারের পাথর খাদান এলাকায় দিনমজুরের কাজ করতে আসতেন টুলু মণ্ডলও। তবে অন্যদের থেকে তাঁর পার্থক্য ছিল শিক্ষাগত যোগ্যতায়। সেই শিক্ষাকেই কাজে লাগিয়ে দিনমজুরির পাশাপাশি পাথর বোঝাইয়ের ইজারা নিতে শুরু করেন তিনি। সেখান থেকে আয় করে ধাপে ধাপে কয়েকটি লরি কেনেন। শুরু করেন পাথর পরিবহণের ব্যবসা। আর সেই ব্যবসার হাত ধরেই ধীরে ধীরে আর্থিক উত্থান।

এর পর রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর মহম্মদবাজারের পাথর খাদান ঘিরে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থ আরও বাড়তে থাকে। স্থানীয় পাথর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন টুলু। তাঁর উত্থানের পথও তখন আরও প্রশস্ত হয়।

২০১৬ সালে অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর টুলুর প্রভাব আরও বাড়ে। ডিসিআরের টোলগেট পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য দ্রুত বিস্তার লাভ করে। প্রথমে নিজের এলাকার সোঁতশাল টোলগেট, পরে আরও ছ’টি টোলগেটের দায়িত্ব পান তিনি। অভিযোগ, সেখান থেকেই ফুলেফেঁপে ওঠে তাঁর বিপুল সম্পত্তি ও প্রভাব।

তবে সেই উত্থানের পথেই এখন একের পর এক আইনি জটিলতা। আত্মীয়ের বাড়ি থেকে বিপুল নগদ ও সোনা উদ্ধারের পর তদন্তকারীদের নজরে টুলু। তাঁর বিরুদ্ধে জারি হয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও। আর তিনি কোথায়, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। ফলে ‘পাথর সম্রাট’-এর পরবর্তী পদক্ষেপ এখন কার্যত লাখ টাকার প্রশ্ন।