তৃণমূল কংগ্রেসের আরও চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রাজ্য পুলিশের সাইবার সেল ফ্রিজ করেছে। এই অভিযোগ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু বৃহস্পতিবার শুনানিতে নতুন করে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে রাজি হল না আদালত। বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ৯ জুলাইয়ের আগের নির্দেশই কার্যকর থাকবে।
তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী মেনকা গুরস্বামী। তিনি জানান, গত ৭ জুলাই সাইবার সেল দলের আরও চারটি অ্যাকাউন্ট ডেবিট ফ্রিজ করেছে। একই এফআইআর-এর ভিত্তিতেই সমস্ত অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে বলেও আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
গুরস্বামীর দাবি, দলের বেতন, বাড়ি ভাড়া-সহ নিত্যদিনের খরচ মেটানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক দল হিসেবে সভা, মিছিল-সহ সাংগঠনিক কাজ চালানোর জন্যও অর্থের প্রয়োজন। কিন্তু আদালত মনে করিয়ে দেয়, ৯ জুলাইয়ের নির্দেশে বিশেষ আধিকারিক নিয়োগ করে দলের দৈনন্দিন বা মাসিক খরচ চালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরোপুরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, নতুন করে নির্দেশ দিলে আগের অন্তর্বর্তী নির্দেশই প্রশ্নের মুখে পড়বে। তাই এই মুহূর্তে নতুন কোনও অন্তর্বর্তী সুরক্ষার সুযোগ নেই। রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলিতে বিপুল অঙ্কের নগদ লেনদেনের তথ্য রয়েছে। একটি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকা এমন একটি সংস্থায় গিয়েছে, যেটি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চার্জশিটভুক্ত বলেও দাবি করেন তিনি। আরও কয়েক কোটি টাকার নগদ জমার তথ্যের কথাও আদালতে তুলে ধরা হয়।
এরপরেই আদালতের প্রশ্ন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর কি বিশেষ আধিকারিকের মাধ্যমে তৃণমূল তাদের অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে পারবে? রাজ্যের তরফে জানানো হয়, হ্যাঁ, পারবে। আদালত জানায়, ৯ জুলাইয়ের নির্দেশ অনুযায়ী তৃণমূলের দৈনন্দিন খরচ চালানোর ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টেও সংশ্লিষ্ট বিষয়টি বিবেচিত হয়েছে। ফলে নতুন করে অন্তর্বর্তী নির্দেশের প্রয়োজন নেই।
আরও পড়ুন: দশ মামলাতেই ‘ভুল তথ্য’! সমস্ত পুরনো মামলায় স্বস্তি পেলেন রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী
গুরস্বামী বলেন, ‘শুধু বেতন আর বাড়িভাড়ার টাকা দিয়ে একটি রাজনৈতিক দল চলতে পারে না। সভা করতে হবে, সংগঠন চালাতে হবে।’ কিন্তু আদালতের সাফ কথা, ‘আগের নির্দেশের পরিপন্থী কোনও নতুন অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়ার সুযোগ নেই।’ শেষে আদালত নির্দেশ দেয়, ‘অন্তর্বতী ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য এই মামলায় আর কোনও নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।’