আজ থেকেই নির্বাচন কমিশনে তৃণমূলের ভাগ্যপরীক্ষা, নথি জমা ঘিরে তৎপর দুই শিবির

Photo Source-ANI

‘আসল তৃণমূল’ কে, সেই প্রশ্নের আইনি নিষ্পত্তির পথে সোমবার থেকে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব শুরু হচ্ছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে। মমতা-পন্থী এবং ঋতব্রত-পন্থী— দুই শিবিরই নিজেদের দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে চলেছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, লিখিত বক্তব্যের পাশাপাশি দাবি সমর্থনে প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য ও নথিপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা। এরপরই শুরু হবে কমিশনের আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা প্রক্রিয়া।

দলীয় সূত্রে খবর, মমতা-পন্থী শিবিরের হয়ে রবিবারই দিল্লি যাওয়ার কথা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি আজ, সোমবার নির্বাচন কমিশনে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেবেন। তবে এই শিবিরের তরফে আলাদা করে কোনও প্রতিনিধি দল কমিশনের সামনে হাজির হবে না। কেবল নির্ধারিত নথি ও লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েই তাঁরা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবেন বলে জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে, ঋতব্রত-পন্থী শিবির নির্বাচন কমিশনে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হয়ে নথি জমা দেবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। তবে বিধানসভায় দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি বিধায়কের সমর্থন রয়েছে বলে দাবি করে তাঁরা ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট নথি জমা দিয়েছেন এবং নতুন দলীয় কমিটি গঠনের বিষয়েও নিজেদের অবস্থান কমিশনের নজরে এনেছেন বলে দলীয় সূত্রের দাবি।

নির্বাচন কমিশনের একাধিক সূত্রের মতে, দুই পক্ষের নথিপত্র জমা পড়ার পর সেগুলি বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজন হলে উভয় পক্ষকেই পৃথকভাবে শুনানিতে ডাকা হবে। সেই শুনানিতে দুই শিবিরই আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়ে নিজেদের দাবি ও যুক্তি উপস্থাপন করতে পারবে। ইতিমধ্যেই দুই পক্ষই আইনি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।


এদিকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ এই দ্বন্দ্বের প্রভাব সংসদেও পড়তে চলেছে। সূত্রের খবর, আগামী ২০ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর দিন তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ এবং উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার ছয় জন সাংসদের দলত্যাগ সংক্রান্ত বিষয়ে নিজের সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। সেই সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট সাংসদদের ভবিষ্যৎ সাংসদ পদ এবং সংসদীয় স্বীকৃতির প্রশ্ন।

উল্লেখ্য, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা আগেই দিল্লিতে গিয়ে স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছিলেন। পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যও শুনেছেন স্পিকার। ফলে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি স্পিকারের রায়ও এখন জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচন কমিশনের শুনানি এবং লোকসভার স্পিকারের সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত— এই দুই প্রক্রিয়াই আগামী কয়েক সপ্তাহে তৃণমূলের সাংগঠনিক ও সংসদীয় ভবিষ্যতের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে।