পুজোর মুখে রান্নার গ্যাসে কড়া নিয়ম, আধার যাচাই না করলে ব্লক হবে বুকিং অ্যাকাউন্ট!

Photo: File Photo

রান্নার গ্যাসের ই-কেওয়াইসি বা বায়োমেট্রিক আধার যাচাই নিয়ে আর কোনও ঢিলেমি বরদাস্ত করবে না কেন্দ্র। ‘ডিস্ট্রিবিউটরের দফতরে লম্বা লাইন’ কিংবা ‘সার্ভার ডাউন’-এর মতো কারণ দেখিয়ে আধার যাচাই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগও আর থাকছে না। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক দেশের সমস্ত তেল বিপণন সংস্থাকে কড়া নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছে, আধার অথেন্টিকেশন না করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের গ্যাস বুকিং অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দিতে হবে। ফলে পুজোর মুখে গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বায়োমেট্রিক আধার যাচাই।

তবে অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে গেলেও পরে আধার যাচাই সম্পন্ন করলে ফের গ্যাস সিলিন্ডার বুক করা যাবে। সে ক্ষেত্রে বাজারে নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার কিনতে পারবেন গ্রাহক এবং প্রাপ্য সরকারি ভর্তুকিও সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে জমা হবে।

কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের উপ-সচিব মোহিত কুমার আগরওয়ালের পাঠানো নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যাঁরা এখনও বায়োমেট্রিক যাচাই করাননি বা তা করাতে অনিচ্ছুক, তাঁদের জন্য তেল বিপণন সংস্থাগুলির অনলাইন ব্যবস্থা ও মোবাইল অ্যাপে আলাদা বিকল্প রাখতে হবে। তবে আধার যাচাই ছাড়া সিলিন্ডার নিলে গ্রাহককে সমস্ত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সরকারি ভর্তুকি থেকে বঞ্চিত হতে হবে।


বর্তমানে ১৪.২ কেজির একটি গ্যাস সিলিন্ডারের প্রকৃত বাজারদর প্রায় ১৬৯৫ টাকা। কেন্দ্রীয় ভর্তুকির পরে সাধারণ গ্রাহককে দিতে হয় ৯৬৮ টাকা। এর পাশাপাশি প্রায় ১৯.৫৭ টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে জমা হয়। কিন্তু বায়োমেট্রিক যাচাই না থাকলে গ্রাহককে পুরো ১৬৯৫ টাকাই দিতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকায় ভবিষ্যতে সেই দাম আরও বাড়তে পারে।

একাধিক বার সময়সীমা বাড়ানোর পর গত ১৪ সেপ্টেম্বর আধার যাচাইয়ের শেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবুও দেশজুড়ে এখনও প্রায় ৩.১৬ কোটি গ্রাহকের ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ হয়নি। এই পরিস্থিতিতে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তার বিস্তারিত ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ চেয়েছে কেন্দ্র।

তবে এত অল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের বায়োমেট্রিক যাচাই শেষ করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অল ইন্ডিয়া এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরস ফেডারেশনের সহ-সভাপতি তথা ইন্ডেন প্রতিনিধি বিজনবিহারী বিশ্বাস জানিয়েছেন, কলকাতা ও দুই ২৪ পরগনা মিলিয়েই ৬.৩৭ লক্ষের বেশি ইন্ডেন গ্রাহকের বায়োমেট্রিক আধার যাচাই এখনও বাকি। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৪ লক্ষ ‘পহল’ প্রকল্পের গ্রাহক। আরও সোয়া দুই লক্ষ গ্রাহক হয় স্বেচ্ছায় ভর্তুকি ছেড়েছেন, নয়তো বার্ষিক আয় ১০ লক্ষ টাকার বেশি হওয়ায় ভর্তুকির আওতায় পড়েন না।

ডিস্ট্রিবিউটরদের দাবি, আগের নির্দেশিকায় এই গ্রাহকদের উল্লেখ না থাকলেও নতুন নির্দেশে তাঁদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে এত বড় সংখ্যক গ্রাহকের যাচাই সম্পূর্ণ করা প্রযুক্তিগত ভাবে অত্যন্ত কঠিন।

অন্য দিকে, তেল বিপণন সংস্থার আধিকারিকদের একাংশের দাবি, কেন্দ্রীয় সফটওয়্যার ও মোবাইল অ্যাপে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে অনেক সময় বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের কাজ আটকে যায়। এমন পরিস্থিতিতে আচমকা অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেওয়া বা গ্রাহকদের চড়া দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য করা হলে পুজোর মরসুমে ব্যাপক ভোগান্তি তৈরি হতে পারে। এমনকি তা থেকে আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যাও দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।