কলকাতার বইমেলায় আসতে চান তসলিমা

তসলিমা নাসরিন কলকাতায় ফিরেছেন। তিনি ১৮ বছর ৮ মাস ১০ দিন পর এই শহরে পা রেখেছেন। লাল পাড় সাদা শাড়ি পরে কলকাতা বিমানবন্দরে নামতেই তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায় এই শহর। শনিবার রবীন্দ্র সদনে তাঁর বইপ্রকাশ অনুষ্ঠান রয়েছে।

কলকাতায় ফেরার পর তসলিমা নাসরিন বলেছেন, তিনি বাংলাদেশে ফিরে যেতে চান না। তিনি বলেন, কলকাতায় ফেরা সম্ভব হল কারণ এখানে প্রগতিশীল মানুষ থাকেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ফিরে যেতে পারবেন না।

তসলিমা নাসরিন ১৯৯৪ সালের ৮ অগাস্ট বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হন। ২০০৭ সালের ২১ নভেম্বর তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ফেরত পাঠানো হয়। যদিও ২০১১ সালের পর তসলিমা দিল্লিতে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে তাঁর আত্মিক যোগ অটুট ছিল।


তসলিমা নাসরিনকে প্রশ্ন করা হয়, পশ্চিমবঙ্গের পূর্ববর্তী সরকারগুলি কখনও তাঁকে বাংলায় ফিরে আসার কথা বলেছিল কি না। উত্তরে তিনি বলেন, তারা আমাকে কখনও আমন্ত্রণ জানাননি। এটি ধর্মনিরপেক্ষ ট্রাস্ট আমায় অনুরোধ করেছিল, তারা চেষ্টাও করেছিল। কিন্তু সফল হয়নি। এবার তা সফল হয়েছে। কারণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমি আরও ঘনঘন আসতে চাই। বিশেষ করে বইমেলা ও সাহিত্য উৎসবের মতো অনুষ্ঠানগুলিতে।

আজ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী  শুভেন্দু অধিকারী লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে অভয় দিয়ে বলেন, ‘সুরক্ষিত পশ্চিমবঙ্গে আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রীর। আপনি যতবার ইচ্ছা, যখন ইচ্ছা আসবেন, কথা বলবেন। শৃঙ্খলমুক্ত, বাঁধনমুক্ত পশ্চিমবঙ্গে সবার আসার, বাক- স্বাধীনতার অধিকার আছে। ধমক-চমক অতীত। নতুন সরকারের হাতে রাজ্যের গণতন্ত্র, সংবিধান, মৌলিক অধিকার, বাক-স্বাধীনতা সুরক্ষিত।’

২০০৭ সালে তসলিমার উপন্যাস ‘দ্বিখণ্ডিত’-র প্রকাশকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল কল্লোলিনী কলকাতা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, সেনা নামাতে হয়েছিল। তৎকালীন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বামফ্রন্ট সরকার তসলিমার বইটিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং লেখিকাকে কলকাতা ছাড়ার নির্দেশ দেয়। প্রায় ২০ বছর পর বিজেপি সরকার তাঁকে সাদরে গ্রহণ করল।