রাজ্যে রাজনৈতিক পালা বদলের পর দ্বিতীয় বার কলকাতায় এলেন তসলিমা নাসরিন। কলকাতায় এবার তাঁর রয়েছে একাধিক অনুষ্ঠান। বুধবার বিমানবন্দরে নেমে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তাসলিমা।
এদিন কলকাতার দুর্গাপুজোর প্রশংসা শোনা যায় তাঁর গলায়।এ বার পুজোয় থাকতে না পারলেও আগামী বছর থেকে কলকাতার পুজোয় থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তসলিমা।
‘‘কলকাতা শহর খুব ভাল লাগছে। পুজোর আগে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে কলকাতায় থাকছি।’’ জানিয়েছেন তসলিমা। বৃহস্পতিবার মহাজাতি সদনে একটি অনুষ্ঠানে তাঁর কবিতা এবং তাঁর কবিতার গান পরিবেশিত হবে। পাশাপাশি তাঁকে সম্মান জানানো হবে সেখানে দেবী বন্দনারও আয়োজন রয়েছে।
আগামী ৯ ও ১১ অক্টোবরও কলকাতায় তাঁর একাধিক কর্মসূচি রয়েছে বলে জানিয়েছেন তসলিমা। ১১ অক্টোবর সল্টলেকের বিডি অডিটোরিয়ামে সাহিত্য বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে তাঁর একটি বই প্রকাশিত হবে। জাতীয় গ্রন্থাগারেও একটি পত্রিকা প্রকাশ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
সম্ভব হলে ইডেন গার্ডেনে মহালয়ার অনুষ্ঠান দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন লেখিকা। এদিন কলকাতাবাসীর উদ্দেশে শুভেচ্ছা, ভালবাসা ও শ্রদ্ধাও জানান তিনি।
বাংলাদেশে দুর্গাপুজো ঘিরে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এবং প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ প্রসঙ্গে তসলিমা বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক উগ্রপন্থীরা বহু বছর ধরেই প্রতিমা ভাঙচুর করছে। এই ধরনের গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তাঁর কথায়, ‘‘আমি চাইছি সরকার এই জেহাদি, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক। কলকাতার পুজো অসম্ভব সুন্দর। এখানে কেউ প্রতিমা ভাঙার সাহস পাবে না। বাংলাদেশের এই সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সবার দাঁড়ানো উচিত। সরকার এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিক।’’
বাংলাদেশে দুর্গাপুজোর বিরোধিতায় মিছিলের অভিযোগ নিয়েও সরব হন তসলিমা। তাঁর দাবি, সরকারের প্রশ্রয়েই উগ্রপন্থী ও জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির বাড়বাড়ন্ত হয়েছে। দেশকে সুস্থ ও সভ্য রাখতে হলে এই ধরনের গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তারেক রহমানের ভারতে আসার সম্ভাবনা নিয়েও মুখ খুলেছেন তসলিমা। তাঁর বক্তব্য, তারেক রহমান বর্তমানে জামাতে ইসলামকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন এবং জেহাদীদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। তবে ভবিষ্যতে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও ভাল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।