গেরুয়া সম্মান মিছিলের পর এবার বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন। আর সেখান থেকেই বামেদের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত নয়া বিল নিয়ে আলোচনা চলাকালীন তাঁর অভিযোগ, এক শ্রেণির শিক্ষক বামপন্থার আড়ালে থেকে দেশ ও রাজ্যকে চ্যালেঞ্জ করছেন। সেই কারণেই এই আইনের প্রয়োজন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘এক শ্রেণির শিক্ষক বামপন্থী জামা গায়ে লাগিয়ে দেশ, রাজ্যকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, তাই এই আইনের প্রয়োজন ছিল।’ তাঁর অভিযোগ, তথাকথিত বামপন্থীদের একাংশ সনাতনীদের নিশানা করছেন।
শুভেন্দুর কথায়, ‘কিষেনজির নাম লিখতে দেব না। এক শ্রেণির অধ্যাপক তথাকথিত বামপন্থীদের জামা গায়ে দিয়ে সনাতনীদের আক্রমণ করেন। যে যার ধর্ম পালন করেন, কেউ বাধা দেয় না।’ এরপরই তাঁর দাবি, কপালে টিপ, মাথায় শিখা কিংবা গলায় তুলসীর মালা থাকলেই একাংশের নিশানায় পড়তে হয়।
দুর্গাপুজো নিয়েও সরব হন তিনি। শুভেন্দুর বক্তব্য, “সনাতন ধর্মটাকে আপনারা কালচারাল মনে করেন। দুর্গাপুজো বলেন না, শারোদৎসব বলেন।” পুজো কমিটিগুলির উদ্দেশে তাঁর হুঁশিয়ারি, দুর্গাপুজোর বদলে ‘শারোদৎসব’ লেখা হলে তথাকথিত কমিউনিস্টদের কোনও স্টল করতে দেওয়া হবে না।
বাম আমলের বিরুদ্ধেও আক্রমণ শানিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘আপনাদের যে বীজ পুঁতেছেন বাংলায়, এই বীজ তুলে ফেলার সঠিক সময় এটা। তিন মাস যুদ্ধ হয় হবে।’ তাঁর আরও অভিযোগ, গরিবের টাকা লুট করে আড়াই হাজার পার্টি অফিস তৈরি করা হয়েছে। এক-একজন বাম নেতার পরিবারের বহু সদস্য চাকরি পেয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। ‘সব তালিকা বের করব’—হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর।
নয়া বিলের বিরোধীদেরও কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “যাঁদের অসুবিধা হবে, ছেড়ে দিন। কাঁধে ঝোলা ব্যাগ নিয়ে হোলটাইমার হয়ে যান। গণশক্তি বিক্রি করুন। ধর্মতলায় কৌটো নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন।”
বিশেষ অধিবেশনে একের পর এক এমন মন্তব্যে কার্যত বামেদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র করলেন শুভেন্দু। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন আইন ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই তাঁর এই আক্রমণ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।