শীর্ষ আদালতে আপাতত স্বস্তি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের। জমি দুর্নীতি মামলায় আপাতত তাঁকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। বৃহস্পতিবার তাঁকে অন্তবর্তী রক্ষাকবচ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সুমিত রায়ের আগাম জামিন ও রক্ষাকবচের আর্জির শুনানিতে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। আগামী সপ্তাহে ফের এই মামলাটির শুনানি হতে পারে।
বৃহস্পতিবার সু্প্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। এদিন সুমিত রায়ের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আিনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ। রাজ্য সরকারের তরফে ছিলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। জমি দুর্নীতি মামলার তদন্তে যোগ দিয়ে সবরকম সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত পুলিশ সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। সেই সময় তাঁকে উপস্থিত থাকতে হবে।
এদিন আদালতে শুনানি চলাকালীন আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ জানান, সুমিতের বিরুদ্ধে জমি দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে, তা ২০২১ সালের ঘটনা। চলতি বছরের জুন মাসে সেই ঘটনায় সুমিতের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। তাঁর দাবি, পুরোনো অভিযোগের ভিত্তিতে সুমিতের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। অন্যদিকে, এদিন আদালতে সুমিতের গ্রেপ্তারির উপরে স্থগিতাদেশের আবেদনের বিরোধীতা করেন তুষার মেহেতা।
তুষার মেহেতা শীর্ষ আদালতে জানান, মামলার নথি তাঁদের হাতে এখনও পর্যন্ত পৌঁছায়নি। আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবার তিনি এই মামলার শুনানির আবেদন জানান। যাতে সব পেপার দেখার পর তিনি এই নিয়ে বক্তব্য রাখতে পারেন। তিনি জানান, তিনি নিজে সব উত্তরই দেবেন। শুধু পেপার দেখার জন্য একটা দিন সময় দিক কোর্ট।
এর আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির কথিত জমি-দুর্নীতি মামলায় আগাম রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন সুমিত। গত সোমবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ তাঁর সেই আবেদন খারিজ করে দেন। যদিও চাকরি-দুর্নীতির একটি পৃথক মামলায় শর্তসাপেক্ষে সুমিত রায়ের আগাম জামিন মঞ্জুর করেছিল আদালত। তবে আদালতের তরফ নির্দেশ দিয়ে জানানো হয়েছিল, ১০ দিনের মধ্যে তদন্তকারী অফিসারের কাছে তাঁকে হাজিরা দিতে হবে। এর পাশাপাশি ভবিষ্যতে তদন্তের প্রয়োজনে ডাকা হলে তাতেও সহযোগিতা করতে হবে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ ছিল সরকারি জমি দুর্নীতির। সেই মামলায় তার আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। ফলে তাঁর গ্রেপ্তারিতে কোন বাধা নেই। সুমিতের আশঙ্কা, চাকরি-দুর্নীতি মামলায় তদন্তে হাজিরা দিতে গেলে জমি-দুর্নীতি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারে পুলিশ। সেই আশঙ্কাকেই সামনে রেখে বুধবার হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন তিনি। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতে সেই মামলারই শুনানি ছিল।