কলকাতা হাইকোর্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার দলীয় পার্টি অফিস ভাঙা সংক্রান্ত মামলায় আপাতত স্থগিতাদেশ বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি জানিয়েছেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না। পাশাপাশি রাজ্যকে মামলার সম্পূর্ণ নথি ও তথ্য আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশ সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সামগ্রী ফেরত দেওয়া এবং লুটপাটের অভিযোগ সংক্রান্ত আবেদন খারিজ করেছে আদালত।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষের আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে দাবি করেন, পাঁচতলা ভবনটি আগের দিন থেকেই ভাঙা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, সম্পত্তির মালিককে যথাযথভাবে শুনানির নোটিশ দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, ৩০ জুন একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং ১৫ জুলাই শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু মাত্র সাত দিন আগে শুনানির বিষয়ে জানানো হয়। এরপর আর কোনও আদেশের কপি না দিয়েই ভাঙার কাজ শুরু হয়ে যায়।
কিশোর দত্তের আরও দাবি, পঞ্চায়েত আইনের বিধান অনুযায়ী মালিককে আগে নোটিশ দিয়ে অভিযোগ জানাতে হয় এবং শুনানির সুযোগ দিতে হয়। তাঁর কথায়, “আমার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ, সেটাই জানি না। ফলে সেই অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগও পাইনি।”
এরপর বিচারপতি জানতে চান, ভাঙার নির্দেশের লিখিত আদেশ কোথায়। জবাবে কিশোর দত্ত বলেন, তাঁদের সেই আদেশের কপিই দেওয়া হয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে ভাঙার কাজ চলছে। এ সময় আবেদনকারীর তরফে বক্তব্য রাখার সুযোগ চাওয়া হলেও বিচারপতি জানান, সেই মর্মে কোনও আবেদন করা হয়নি। কিশোর দত্ত বলেন, গোটা প্রক্রিয়াটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল।
রাজ্যের পক্ষে অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র জানান, ৩০ জুন ১৬০(এ) ধারায় নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিধানের উল্লেখও ছিল। তাঁর দাবি, আবেদনকারীরা তিন দিনের মধ্যেই তার উত্তর দিয়েছিলেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, নির্মাণের কোনও বৈধ অনুমোদন ছিল না।
বিচারপতি বলেন, তাঁর সামনে এখনও সম্পূর্ণ নথি নেই এবং কোন আইনি বিধানের ভিত্তিতে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, সেটিও স্পষ্ট নয়। তিনি রাজ্যকে সম্পূর্ণ রেকর্ড আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেন এবং জানান, মামলাটি নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো হবে। ততদিন পর্যন্ত ভাঙার কাজ বন্ধ রাখতে হবে।
জেলা পরিষদের আইনজীবী তাপস মণ্ডল আদালতে জানান, আবেদনকারীকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং আদেশের কপিও রয়েছে। এর জবাবে কিশোর দত্ত বলেন, পরিদর্শন কবে হয়েছে, আবেদনকারীর উপস্থিতি ছিল কি না, অথবা এসডিওকে ভবন ভাঙার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা ছিল কি না—এসব বিষয়ে নথিতে কোনও স্পষ্ট উল্লেখ নেই। শুনানিতে কেন আবেদনকারীর বক্তব্য গ্রহণ করা হয়নি, তারও কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
এজি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি ইতিমধ্যেই ইডি বাজেয়াপ্ত করেছে। তবে বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, ওই বিষয়ে তিনি এই মুহূর্তে কোনও মন্তব্য করতে চান না, কারণ আদালতের সামনে এখনও সম্পূর্ণ নথি নেই।
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত নির্দেশ দেয়, মামলায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে এবং নতুন কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না।